২১ আগস্ট ২০১৯

কেবলই দুর্যোগের ঘনঘটা

কেবলই দুর্যোগের ঘনঘটা - ছবি : সংগ্রহ

দেশে বন্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ডেঙ্গু, গুজব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি- এসব মিলিয়ে জনগণ এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে দিন যাপন করছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত এবং সমন্বিতভাবে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করা দরকার। অথচ সেটা না করে দায়িত্ব অস্বীকার, দোষারোপ, পরিস্থিতির গুরুত্ব কমানো ইত্যাদির যে কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে তা দুর্ভাগ্যজনক। সম্ভবত সে কারণে অবস্থা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার চেয়ে অবনতির লক্ষণই দেখা যাচ্ছে। আর এ থেকে এটাই আশঙ্কার বিষয় যে, সব কিছুর ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ যেন শিথিল হয়ে পড়েছে। এর ফলে হঠাৎ করেই পুরো সামাজিক অবস্থায় একটা অস্থিরতা লক্ষণীয়। যেসব বিষয় সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, সেগুলো দেশে এই ‘প্রথমবারের মতো ঘটছে’ বলে অনভিজ্ঞ প্রশাসন তা মোকাবেলায় আনাড়িপনা করছে। অথচ ফিবছরই একটা সময় এমন দুর্যোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থায় তাদের ভূমিকা দেখে মনে হতে পারে যে, এমন পরিস্থিতি তারা আগে কখনো মোকাবেলা করেনি। সব যেন ‘অভূতপূর্ব’।

বাংলাদেশ নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওরের দেশ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পানি এ জনপদের প্রাণ, আর পানি না থাকলেই এর দুর্ভোগ-দুর্গতি বৃদ্ধি পায়। তখন জীবন হয়ে পড়ে অচল। তবে এই পানির গুরুত্ব সবাই বিশেষ করে দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা উপলব্ধি করেন বলে মনে হয় না। সম্ভবত সে কারণে আজো এ দেশে সঠিক পানিব্যবস্থাপনা নীতি গড়ে তোলা হয়নি। দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত পানি পেয়ে আসা হচ্ছে বলে পানির গুরুত্ব কেউ উপলব্ধি করছেন না। আবার যখন বন্যায় দেশ ভেসে যায় তখন সেটা নিয়ে সবাই উৎকণ্ঠিত হয়ে ওঠে। হইচই শুরু হয়। প্রশাসনের কাছ থেকে নানা পরিকল্পনার কথা শোনা যায়, কিন্তু দুর্যোগের অবসান ঘটলে সব কিছু বেমালুম ভুলে যাওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে যখন পানি নিয়ে নানা চিন্তাভাবনা হচ্ছে, তখনো আমরা এ ব্যাপারে গাফেল। স্বাধীনতার আগে, সেই পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের পানি সমস্যা নিয়ে বহু পরিকল্পনা ও আশ্বাসের কথা শোনানো হয়েছিল। স্বাধীনতার পরও অতীতের মতো কেবল ‘লিপ সার্ভিস’ই চলছে। কিন্তু পানি সঙ্কটের কোনো সুরাহা হয়নি, তাই মানুষের কষ্ট কমেনি।
ভৌগোলিক অবস্থানের এবং বিরূপ আবহাওয়াজনিত কারণে বাংলাদেশে বন্যা ও খরাকে সম্পূর্ণ প্রতিহত করা সম্ভব নয়। একে সহনীয় ও সাথী করে বেঁচে থাকা তথা সহাবস্থানের পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতে কেবল এ কথা শোনানো হয়েছে যে, ‘বন্যানিয়ন্ত্রণ করা হবে’। বন্যার কিছু নিয়ন্ত্রণ ও কতকটা সহাবস্থানের যে নীতি যা কিনা বাস্তবভিত্তিক, সেটা নিয়ে কোনো কার্যকর আলোচনার আয়োজন নেই। অথচ দেখা যায়, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়াই যত্রতত্র বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে বিভিন্ন ব্যর্থ প্রকল্প ‘সম্পন্ন’ করা হচ্ছে। দুর্যোগের সময় এগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয় না, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা মানুষের জন্য দুর্ভোগই সৃষ্টি করে থাকে। এসব প্রকল্পে টাকা খরচ করার আসল উদ্দেশ্য সম্ভবত ক্ষমতাসীন মহলের পেটোয়াদের পেট ভরার ব্যবস্থা করা। প্রশাসনের এমন ব্যক্তিদের প্রতি অনুকম্পা-অনুরাগ দেখানো কখনো সুষ্ঠু শাসন হতে পারে না। এমন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সংবিধানের চেতনার বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশের পানিনীতি প্রণয়ন এবং পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বহু নদী রয়েছে, যেগুলো ভারতের ভেতর থেকে বাংলাদেশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত আর উজানে রয়েছে ভারত। অভিন্ন এসব নদীর উজানে ভারত বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং এখনো করছে। ফলে শুষ্ক মওসুমে তারা পানি আটকে রেখে, সে পানি নিজেরা ব্যবহার করে থাকেন। আবার যখন বর্ষা আসে তখন সেসব বাঁধ খুলে পানি ছেড়ে দেয়া হয়। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ শুষ্ক মওসুমে তীব্র পানিসঙ্কটে ভোগে। আবার বর্ষায় উজানে বাঁধের সব মুখ খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের পক্ষে এককভাবে পানিনীতি প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা ঠিক করা সম্ভব নয়। তাই ভারতের সাথে পানি সমস্যা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাধানে আসতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, ভারতের প্রতি আমরা বন্ধুর মতো আচরণ করলেও তাদের পক্ষ থেকে বিনিময়ে সে রকম সহানুভূতি পাওয়া যায় না। এর দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান অত্যন্ত জরুরি। কেননা পানি প্রাপ্তির সাথে বাংলাদেশের জীবন-মরণ সমস্যা জড়িত।

এবার বর্ষায় দেশ এখন ভুগছে এর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। সমাজজীবনে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি মানুষকে দিশাহারা করে তুলছে। পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে যতটুকু না সঙ্কট তার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মজুদদারি। দেশের নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের স্বাভাবিক চাহিদার সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিম্ন, স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের পক্ষে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মুনাফাখোরদের এমন আচরণের পাশাপাশি প্রশাসনের ‘অসহায়’ অবস্থা দেখে মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

বর্ষা ফিবছরই হয় বটে; কিন্তু নিয়ে আসে নানা রোগব্যাধি। এর মধ্যে ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া। এবার ভয়াবহ আকারে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুজ্বর। এই ব্যাধি এবার এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে যে, তাকে অনেকেই ‘মহামারীর’ সাথে তুলনা করেছেন। ডেঙ্গুর আতঙ্কে ভুগছেন সারা দেশের অগণিত মানুষ। প্রতি বছরই বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। তাই এর প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এটা মোকাবেলায় অভিজ্ঞ হয়ে ওঠার কথা। চিকিৎসায় ও প্রতিরোধে তার প্রতিফলন ঘটবে, এমনটাই আশা করা স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বেহাল অবস্থা দেখে মনে করার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা অন্তত এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েই কাজে নেমেছেন। তাদের এমন ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ও নিন্দা করা হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, পত্রপত্রিকাসহ নানা মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে খবর এসেছে যে, এডিস মশা মারার জন্য যে ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে, তার মান ভালো নয় বলেই মশা মরছে না। এত দিনে ভালো ওষুধ নাকি আনা হচ্ছে। নাকি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এই ব্যর্থতার কি কোনো বিহিত করা হবে? স্থানীয় সরকারের এই চরম ব্যর্থতার জন্য অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এর দায় এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার যখন ব্যর্থ হয়, তখন তো কেন্দ্রীয় সরকার ত্বরিত এগিয়ে আসা কর্তব্য। এখন দায়িত্ব পালনে এই ব্যর্থতার জন্য সবাইকেই দায় নিতে হবে। প্রতিটি নাগরিক সুস্থ থাকবেন এবং রোগবালাইয়ে সুচিকিৎসা পাবেন, এটা তার অধিকার এবং সরকারের তা পূরণ করা দায়িত্ব।

সংবাদ মানেই সত্যভিত্তিক তথ্য অবহিত হওয়া, যা মানুষকে ‘হালনাগাদ রাখে’। আর সত্যের কোনো যমজ নেই। কিন্তু গুজব অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট; যা মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত ও বিভ্রান্ত করে। বহু ক্ষেত্রে মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে ফেলে। তাতে সমাজে নানা অঘটন ঘটতে পারে। আমাদের দেশে এমন কিছু ঘটনা এবার ঘটেছে, যা নীতি ও সভ্যতার বিপরীত। গুজব সৃষ্টিকারী এবং যারা তা প্রচার করে তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন ও সমাজের শত্রু। ইদানীং ছেলেধরার গুজবকে সঠিক মনে করে বিবেকবর্জিত কিছু ব্যক্তির উন্মত্ততায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নিরীহ নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ দিতে হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজবের ব্যাপারে সতর্ক করা হলেও যথোপযুক্ত এবং দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল না। সমাজের সচেতন মানুষেরও এ ব্যাপারে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল। বিশেষ করে ছেলেধরার গুজবে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক-ভীতি ছড়িয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকেরা এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’ এমন একটি প্রবাদ রয়েছে। এখন যেন প্রশাসনের অবস্থা সেটাই। গুজবে কান দিয়ে উন্মত্ত মানুষ যেসব পিটুনি ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে এর শিকার হওয়া পরিবারগুলোর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার কী হবে? বিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজব সৃষ্টির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এতটুকুতেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ছেলেধরার গুজব কেন সৃষ্টি হলো, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই গুজব ছড়াল; তার উৎস অনুসন্ধান করা জরুরি। আর ত্বরিত গতিতে গুজব দেশব্যাপী প্রচার করে যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়া হয়েছে তার হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য আইন প্রণীত হয়ে থাকে। আইন অনুসরণ করেই সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে মানুষ ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে। আইনের অনুশীলনই পৃথিবীর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে রেখেছে। তবে পৃথিবীর সর্বত্র আইন অনুসরণের মাত্রা সমান নয়। বাংলাদেশের আইন প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট। তার মানে এই নয় যে, দেশের মানুষ এ থেকে সুরক্ষা পেয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করছে। তবে যে আইন দেশে রয়েছে তা প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট, এ কথা বলতে হবে। আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সৎ হলেও তার প্রয়োগ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আইন প্রয়োগকারীদের অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হওয়ার কারণে আইন নিজস্ব পথে ও গতিতে চলতে পারছে না। তাই সবার পক্ষে আইনের সমান আশ্রয় পাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই অসামঞ্জস্যের কারণে দেশের মানুষ সুশাসন পাওয়া থেকে বঞ্চিত। প্রতিটি নাগরিক আইনের কাছে সমান আশ্রয় লাভ করা তার সাংবিধানিক অধিকার। অথচ মানুষের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে নির্বাহীদের তেমন তৎপরতা নেই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রেই তারা শুধু অমনোযোগী নন, সাংবিধানিক আইনের ব্যাপারেও নির্বাহীদের শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। যেমন সংবিধানের এই নির্দেশ রয়েছে যে, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্র প্রাধান্য পাবে। কিন্তু আজকে গণতন্ত্রের যে করুণ অবস্থা, তাতে বাংলাদেশ কোনোভাবেই গণতন্ত্রের বিধিবিধান দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে- তা বলা যাবে না। শুধু গণতন্ত্র নয়, অধিকতর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে যেন বাংলাদেশ পরিচিত হতে সক্ষম হয়, তার নির্দেশনাও সংবিধানে সন্নিবেশিত রয়েছে। অপর দিকে, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা দেশে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা এখন নামমাত্র। গণতন্ত্রের বড় অনুশীলন হচ্ছে, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাসন কাঠামো গঠিত হওয়া। কিন্তু এখন তেমন প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন আর হয় না। নির্বাচনে আর জনগণের ভোটের ‘প্রয়োজন হয় না’। সংবিধানের আরো নির্দেশ হচ্ছে, বৈষম্যহীনভাবে সব মানুষের জন্য খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা আশ্রয় ও চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করা। অথচ এসব নিয়ে শাসকদের কোনো উদ্যোগ আয়োজন নেই। বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান জনপদ। এই গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে জীবনযাত্রার মানের যে বৈষম্য বিরাজ করছে, তা দ্রুত দূর করার কথাও সংবিধানে রয়েছে। কিন্তু তা তো দূর হচ্ছেই না, বরং ক্রমে বাড়ছে। প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইনের প্রতি অবজ্ঞা নিয়ে দেশ চলছে, তাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে কিভাবে?

আইনকানুন অনুযায়ী চলার যেসব ব্যত্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হবে যে, এমন বেহাল অবস্থায় দেশে সুশাসনের আশা করা নিছক বাতুলতা। অথচ সুশাসন হচ্ছে কোনো রাষ্ট্রের সুষ্ঠুভাবে চলার জন্য অপরিহার্য শর্ত। দেশে সুশাসনের ঘাটতি বিরাজ করায় অনিয়ম অনাচার অব্যবস্থা এবং দুর্নীতি নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। অনিয়ম অনাচারের দরুন দেশের মানুষ নানাভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নাগরিকদের সাথে সদাচরণ না করায় তাদের নানাভাবে গ্লানি ভোগ করতে হয়। সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। শান্তি স্বস্তির সাথে এবং নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ লাভ করাও তার প্রাপ্য। সুশাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা। জবাবদিহি না থাকায় দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের প্রধান নির্বাহী স্বয়ং এ জন্য তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। বিশ্বের অধিক দুর্নীতিপরায়ণ দেশগুলোর যে তালিকা রয়েছে, এতে বাংলাদেশের নাম শীর্ষপর্যায়ে।
[email protected]


আরো সংবাদ