২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খল ব্যতীত হারানোর কিছু নেই

-

কার্ল মার্কসের একটি উক্তি প্রবাদবাক্যের মতো ব্যবহৃত হয়- ‘সর্বহারার শৃঙ্খল ব্যতীত হারাবার কিছু নেই’। পুঁজিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে উক্তিটি প্রাসঙ্গিকতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক নির্যাতিত, নিগৃহীত ও বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘যদি তারা ফিরে না যায়, তবে শুধু জমির অধিকার নয়, তারা তাদের সব অধিকার হারাবে।’

গত রোববার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব এ কথা বলেন। কূটনীতিক মহলের মন্তব্য, উক্তিটি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের মুখ থেকে বেরোলে মানানসই হতো। উক্তিটি সম্পর্কে মন্তব্য করা যায় যে, কোনো কিছু থাকলে মানুষ হারায়। যাদের সহায়সম্পদ, ঘরবাড়ি, নাগরিক অধিকার কোনো কিছুই নেই, মার্কসের উদ্ধৃতি মতে যারা সর্বহারা, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দ্বারা সব কিছু থেকে বঞ্চিত; তাদের হারানোর কী আছে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তো জানেন, সব কিছু হারিয়ে তারা বাংলাদেশে এসেছে। এখন প্রত্যাবাসন প্রশ্নে রোহিঙ্গারা মানুষ হিসেবে জন্মগতভাবে যে অধিকার সংরক্ষণ করে, তাও হারাতে বসেছে।

শোনা যাচ্ছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য আজ ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নতুন সময়সীমা ঠিক করেছে। মজার বিষয় ঘোষণাটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ঘোষিত হয়নি। কূটনৈতিক নীতি অনুযায়ী, উভয় রাজধানী থেকে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার কথা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি বাংলা পদ্য ‘আমার বধূয়া আন বাড়ি যায় আমারই আঙিনা দিয়া’-এর মতো। পররাষ্ট্র সচিব ওই সেমিনারে বললেন, ‘প্রত্যাবাসন যেকোনো সময় শুরু হতে পারে... বা আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে থাকব।’ ঘোষিত সময়সীমা নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বললেন না। নাকি আদৌ তিনি কিছু জানেন না?

তাহলে সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়, সিদ্ধান্তটি কি সরকারের অগোচরেই গৃহীত হয়েছে? সন্দেহটি আরো ঘনীভূত হয় সচিবের এই উক্তিতে- ‘পর্দার আড়ালে অনেক কিছু হচ্ছে।’ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে যে, চীনের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব কার্যকর হতে যাচ্ছে। এ প্রস্তাবের বিষয় আর কিছু জানা যাচ্ছে না। আজকের বিশে^ গোপন কিছুই নেই। খোলামেলা কূটনীতি আজকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য। তাহলে রোহিঙ্গাদের কি কোনো ধরনের রক্ষাকবচ ছাড়াই ফেরত পাঠানো হচ্ছে? স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছর নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখে অনুরূপ চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গাদের আন্দোলনের মুখে তা স্থগিত হয়ে যায়।

কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে বারবার আশ্রয় নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আর দ্বিপক্ষীয় থাকেনি। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে প্রত্যাবাসন বিষয়ে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাতে মানবাধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। তবে সেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। এরশাদ আমলেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে একই ঘটনা ঘটে। রোহিঙ্গা বিতাড়ন মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশ্যমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে যেমন তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তেমনি মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চেয়েছে। বরাবরই মিয়ানমার সরকার গো ধরেছে- রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ছাড়াই তাদের ফেরত দিতে হবে।

দীর্ঘ তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবার জোরেশোরেই নাগরিকত্ব ব্যতীত তাদের ফেরত পাঠানোর বিরোধিতা করছে। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস হাইকমিশন ফর রিফিউজিসের (ইউএনএইচসিআর) আঞ্চলিক মুখপাত্র ক্যারলিন গ্লুক বলেছেন, রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির ওপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের গতি নির্ভর করছে। প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায় হতে হবে। রোহিঙ্গারা পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে রাখাইনে ফিরতে চায়। প্রত্যাবাসন নিয়ে গত ১৮ আগস্ট সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ক্যারলিন গ্লুক এসব কথা বলেন। জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধি বলেন, মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনের পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে হবে। রোহিঙ্গারা যেন সেখানে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। প্রত্যাবাসনের ধারা অব্যাহত রাখতে মিয়ানমারকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতিসঙ্ঘ শুরু থেকে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের কথা বলে আসছে।

মিয়ানমারের পরিবেশ ও পরিস্থিতি যে প্রত্যাবাসনের অনুকূল নয় তা জাতিসঙ্ঘ এবং এর প্রতিনিধিরা বারবার বলে আসছেন। এ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সন্ত্রাস দমন ও সহিংস উগ্রপন্থা দমনবিষয়ক দফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন গডফ্রে একই মত ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও রোহিঙ্গাদের ফেরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে হয়, সে বিষয়ে গডফ্রে অগ্রাধিকার দেন। ১৮ আগস্ট বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল হকের সাথে বৈঠকে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য যা যা করা দরকার, সব কিছুই বাংলাদেশ করছে। নিজেদের দিক থেকে প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। ইতঃপূর্বে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) একই দাবি উত্থাপন করে।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুশিবির পরিদর্শন করেছেন এমন সব রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গঠিত কফি আনান কমিশন শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোহিঙ্গাদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। এটি একটি মৌলিক দাবি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবিটি অনমনীয় ও অনিবার্যভাবে উত্থাপিত হয়েছে, এমন প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থান নতজানু পররাষ্ট্রনীতির প্রমাণ বলে গ্রহণ করা যায়। চুক্তিটি যদি স্থায়িত্ব লাভ না করে, টেকসই না হয় তাহলে আগামীতে বাংলাদেশকে বারবার রোহিঙ্গা জনগণের বিতাড়ন প্রতীক্ষায় সময় কাটাতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বর্তমান সরকার তাড়াতাড়ি মাথার বোঝা নামাতে চায়।

যেহেতু তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা ভোগ করে ফেলেছে, এখন আর ইস্যুটি নিয়ে অগ্রসর হতে চায় না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, রোহিঙ্গা জনস্রোতের মতো মানবিক বিষয়কে পুঁজি করে নির্বাচনের আগে গরিষ্ঠ জনগণকে তুষ্ট করার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তা ছাড়া ইমেজ সঙ্কটে আক্রান্ত সরকার আন্তর্জাতিক সস্তা খ্যাতি অর্জনের মধ্য দিয়ে নোবেল পুরস্কারের খায়েশ পোষণ করে। সব কিছুর প্রয়োজন ও সম্ভাবনা যখন শূন্য তখন রোহিঙ্গাদের ‘যেনতেন প্রকারে’ পাঠানোই উত্তম!

কেউ যদি কারো বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করে তাকে জোর করে শত্রুর কাছে পাঠানো যায় না। এ নিয়ে আরব আতিথেয়তার গল্প আমরা ছোট সময়ে পড়েছি। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রিকপর্যায়েও এই নীতিমালাই অনুসরণ করা হয়। কথিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে ঘোষণা একতরফাভাবে মিয়ানমার ঘোষণা করেছে, তা কোনো রকম আলাপ আলোচনা ছাড়াই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের বিষয়টি স্বীকার করতে সঙ্গতভাবেই শরম করছে। কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রস্তাবিত প্রত্যাবাসন তালিকাভুক্তরা এর কিছুই জানে না। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ মাসের প্রথম দিকে মিয়ানমার সরকার এই তালিকাটি অনুমোদন করে। জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু কমিশনের বাংলাদেশ অংশকে তালিকাটি প্রদান করা হয়।

সংস্থা সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে দেখবে যে, তারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে চায় কি না। গত বছর এমন উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া ছিল মারাত্মক। এবার বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে উদ্বাস্তুদের কী ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে, তা পররাষ্ট্র সচিবের ভাষায়ই বোঝা যায়। এর বিপরীত কথা বলছে জাতিসঙ্ঘ এজেন্সি। তাদের মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা বলেছেন, স্বাধীন মতামত জানা কমিশনের প্রধান মৌলিক দায়িত্ব। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বিধান তাদের কর্তব্য। এজেন্সি বলছে, রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু প্রত্যাবাসনের আগে ও পরে তাদের কিছু দাবি রয়েছে। দাবিগুলো নিম্নরূপ-

১. রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি মিয়ানমারের রেডিও-টিভিতে ঘোষিত হতে হবে। ২. আকিয়াবের আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে দিলেই বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা তাদের বসবাসের ব্যাপারে আশ্বস্ত হবে। ৩. বাড়িঘর ফিরিয়ে দিয়ে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে চলাচলের অধিকার দিতে হবে। ৪. মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়শিবিরে রাখা যাবে না তাদের। ৫. যারা রোহিঙ্গাদের হত্যা, নিপীড়ন, লুণ্ঠন, ভূমি দখল ও বিতাড়নের জন্য দায়ী তাদের বিচার করতে হবে। আজকের প্রত্যাবাসনের প্রশ্নে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা যে মনোভাব ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তা ওই পাঁচ দফায় প্রতিফলিত হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের অডিও বার্তায় বলা হয়েছে ‘আমরা মিয়ানমারে ফিরে যাবো না। মিয়ানমারে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। সর্বোপরি জাতিসঙ্ঘ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আমাদের জোর করে প্রত্যাবাসন করা যাবে না।’ তারা আরো জানাচ্ছে, প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের প্রথমে এনবিসি বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড ফেরত নিতে হবে। এ কার্ডের দ্বারা মিয়ানমার সরকার এদেরকে বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করতে চায়। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা মিয়ানমার বা বাংলাদেশ সরকারের দেয়া তথ্য ও প্রমাণের চেয়ে তাদের নিজস্ব মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে বেশি বিশ্বাস করে। প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক তাদেরকে মংডুর নাকফুরা শিবিরে রাখা হবে। পরে তাদের আইডিবি ক্যাম্পে নেয়া হবে। একজন উদ্বাস্তুর মন্তব্য এ রকম, ‘নাগরিকত্ব ও সম-অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাবে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশে আমাদের গুলি করে হত্যা করা হোক। তবুও আমরা যাবো না। মিয়ানমার সরকার মিথ্যাবাদী, তাদের বিশ্বাস করা যায় না।’

সম্ভবত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী পৃথিবীর সবচেয়ে দুস্থ, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত সম্প্রদায়। প্রায় শতাব্দীকাল ধরে তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছে। বিশেষত উপনিবেশবাদের অবসানের পর তারা মিয়ানমারের নিকৃষ্ট ‘অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ’-এর শিকার হয়েছে। সামরিকতন্ত্র তাদের ওপর পেশিশক্তির মহড়া চালাচ্ছে দীর্ঘকাল ধরে। এসব অত্যাচারে তারা হারিয়েছে তাদের জাতিসত্তা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। প্রতিটি রোহিঙ্গা নাগরিকের ওপর চালানো হয়েছে গণহত্যা, জাতিগত নিধন ও ধর্মীয় দাঙ্গা। তাদের নাগরিকেরা সম্মুখীন হয়েছে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের, নারীরা হারিয়েছে তাদের ইজ্জত, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তাদের বাড়িঘরে এবং লুটে নেয়া হয়েছে তাদের সহায়-সম্পত্তি। তাদের কেউ নেই। তাদের কিছু নেই। প্রাচীন আরাকান ভূমি তথা নব্য রাখাইন রাজ্য পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। রোহিঙ্গারা চিত্ত, বিত্ত ও বৈভবে সমৃদ্ধ হলেও আজ তারা সর্বহারা। আছে শুধু শৃঙ্খল। আজ তাদের মিয়ানমারের শৃঙ্খল ব্যতীত হারানোর কিছু নেই।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]


আরো সংবাদ