১৮ অক্টোবর ২০১৯

বলতে দিন সব কথা

বলতে দিন সব কথা - ছবি : নয়া দিগন্ত

হোক সব কথা, তবে নয় বাচালতা। নয় যথা তথা। আমরা বাংলাদেশীরা স্বল্পভাষী নই, আমাদের বাকপটুতা যথেষ্ট। তবে এসব বাক্যবিনিময় কিন্তু সব সময় যথাস্থানে হয় না। অর্থাৎ যথাস্থানে যুৎসই বক্তব্য দেয়ার যে গুরুত্ব, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই হয় না। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে পক্ষ-প্রতিপক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ নিরন্তর ঘটছে। এসব বক্তব্য সাময়িককালের জন্য উত্তাপ-উত্তেজনা সৃষ্টি করে বটে। তবে আখেরে তা খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। এসব বক্তব্য আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ত, যদি না সংবাদমাধ্যম সেগুলো প্রকাশ করত। বস্তুত এটাই কাম্য নয় যে, রাজনীতিকেরা এসব সাধারণ বিষয় নিয়ে তর্ক জুড়বেন। তারা তর্ক করবেন কোন নীতি, কী ব্যবস্থা নিলে দেশ ও দেশের মানুষের দ্রুত যে অধোগতি ঘটছে, তা রুখে দেয়া যাবে। দেশ যে নীতি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে চলছে তার কোথায় কতটুকু গলদ। তার বিপরীতে কোন ব্যবস্থা নিলে দেশের আশু রোগমুক্তি ঘটবে। এখন যেসব তর্ক-বিতর্ক মানুষের কানে আসে তা নিছক নিন্দা-পরনিন্দা, যা কিনা অর্থহীন ও অরুচিকর এবং অসহিষ্ণুতার শামিল। অবশ্য এমন প্রবণতা হালের বা নতুন তা নয়। এমনটি বহু দিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে চলে আসছে। তবে তা থেকে দেশের কোনো হিত হয়নি, বরং রাজনীতিকেরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছেন; বিদ্বেষ বিসম্বাদ তাদের মধ্যে অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর তুলে দিয়েছে। এ কারণে জাতীয় কোনো দুর্যোগমুহূর্তে তাদের একত্রে বসে তার সুরাহা করার বিষয় নিয়ে এখন কথা বলার কোনো পরিবেশ নেই। আর এসব আলোচনায় প্রশাসনে কোনো আগ্রহ-উৎসাহ থাকে না।

অথচ আলোচনা তথা কথা বলার জন্য যে নির্দিষ্ট ফোরাম রয়েছে অর্থাৎ আইনসভা, সেখানে জনগণের পক্ষে কথা বলার এখন কোনো প্রতিনিধি নেই। কারণ, এক বিতর্কিত ভোটে সেই সভা গঠিত হয়েছে। এমন কৌশল ও ব্যবস্থা করে সে ভোট হয়েছে, যাতে কেবলই এক বলয়ের তথা ক্ষমতাসীন ও তাদের অনুরাগীদের প্রতিনিধি ব্যতিরেকে সত্যিকার কোনো জনপ্রতিনিধিদের সে সভায় প্রবেশ করার সুযোগ মেলেনি। এর পরিণতি এটা হয়েছে যে, সে সভায় কেবলই ক্ষমতাসীনদের গুণকীর্তন হয়। জাতীয় কোনো সমস্যা সঙ্কট নিয়ে কোনো কথা হয় না। অথচ বেশুমার যত সব সমস্যায় জর্জরিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষ এখন হতাশায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে আছে। জনজীবনের এসব সমস্যা নিয়ে আইন সভায় আলোচনা এবং তার প্রতিবিধান করা নিয়ে কথা বলা ছিল অপরিহার্য। কিন্তু এই গুরুত্বের বিষয়টি ক্ষমতাসীনেরা কোনো আমলেই নিচ্ছে না। এভাবে সব কিছুতে প্রশাসনের এমন নির্লিপ্ততা ও বেপরোয়া আচরণ থেকে দু’টি বিষয়ে ধারণা করা যায়। জাতীয় সমস্যাগুলো উপলব্ধি করতে তাদের বিবেচনাবোধের ঘাটতি অথবা এসবের সমাধান করতে তাদের সক্ষমতার অভাব। অথবা যা এবং যতটুকু তারা করছে, তা নিয়েই সবাইকে তৃপ্ত থাকতে হবে। আসলে এটা কর্তৃত্ববাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন। ওপরে আলোচনা প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে, এখন বিরুদ্ধ মতের কোনো কথাই ক্ষমতাসীনেরা আমলে নিচ্ছে না। এও প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং কর্তৃত্ববাদিতার লক্ষণ।

আগে দেশের আইনসভার বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনা হয়েছে। আইনসভায় সব বিষয়ে কথা বলার অবারিত সুযোগ আছে। আইন সভার সদস্যরা হেন বিষয় নেই, যা নিয়ে তারা কথা বলতে পারবেন না। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে আলোচনা হবে, তা থেকে নির্বাহীরা নিজেদের কর্তব্যকর্ম নির্ধারণ করতে সক্ষম হবেন। তবে এখন এমন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। কেননা সব বাস্তব বিষয় নিয়ে কথা হলে তাতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু যেতে পারে। তাই সদস্যদের আত্মসংশোধন করে বক্তব্য দিতে হয়। যাতে নিজেরাই নিজেদের আঁতে ঘা না দিয়ে বসেন। আইনসভায় সত্যিকার জনপ্রতিনিধিত্ব নেই, তাই এখন রাজপথেই বেশি কথা হয়। তবে আইন সভায় কথা বলার যে অবারিত সুযোগ ও গুরুত্ব, সেটা রাজপথে নেই। আর এখন যে অবস্থা তাতে রাজপথে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা সম্ভব নয়। কেননা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রশাসনের প্রতি এতটাই অনুরক্ত যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার ন্যূনতম প্রয়াসকে তারা সহ্য করে না। যারা বলতে চেষ্টা করেন তাদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়।
কথা বলা নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয়েছে, আমাদের সংবিধানও কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে।

তবে নিছক বলার জন্য কথা বলা এবং মাত্রা ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে নীতিনৈতিকতার সীমানা ডিঙ্গিয়ে পরনিন্দা-পরচর্চা করা হলে তা স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হবে। এতে সমাজের শান্তি স্বস্তি পরস্পর শ্রদ্ধা পোষণ করার যে শালীনতা, সেটা বিনষ্ট হবে। এমন কথা অবশ্যই পরিহার করা উচিত, যা কিনা মানুষের অনুভূতি ও সমাজের মূল্যবোধকে আঘাত করে। আমাদের সমাজে সবাই অভিন্ন ধর্ম সংস্কৃতি ও মন-মানসিকতার অধিকারী নয়, এটা শুধু বিচিত্র নয় দেশের বাগানের নানা রঙের পুষ্পরাজি। এমন সব ফুলের পাপড়ি স্নিগ্ধ কোমল ও স্পর্শকাতর। একে আলতোভাবে পরিচর্যা ও স্পর্শ করতে হবে।

তা না হলে যে ক্ষত সৃষ্টি হবে, তাতে গোটা মালঞ্চের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। তাই আমাদের বাক্যবিন্যাস এতটা সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মোলায়েম হওয়াই সঙ্গত হবে। যেমনটি ফুলবনে বয়ে যাওয়া মৃদু হাওয়া বাগানের কোনো ক্ষতি না করে তার সৌরভ চারপাশে ছড়িয়ে দেয়। তেমনি আমাদের বাক্যবিন্যাসে সত্য ও নীতি-নৈতিকতার প্রকাশ ঘটবে, কিন্তু তাতে ঝাঁজ থাকবে না। আমাদের কথায় অপরাধকে কোনো ছাড় না দিয়ে তা প্রকাশ করবে, কিন্তু একই সাথে অপরাধীকে বাক্যবাণে জর্জরিত করা ঠিক হবে না; বরং তাকে সংশোধিত হওয়ার জন্য সৎ ও আন্তরিক পরামর্শ দিতে হবে, যাতে সে সংশোধিত হয়ে সমাজে পুনর্বাসিত হতে পারে, সমাজচ্যুত হলে ক্ষোভ-দুঃখে আরো বড় অপরাধীতে পরিণত হয়ে মানুষের বড় ক্ষতি করতে না পারে। আর কথা বলতে গিয়ে সততার পরিচয় দেয়া খুবই গুরুত্বের বিষয়। কেননা ভুল তথ্যসংবলিত কথা মানুষকে বিপথগামী করতে পারে। সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করে মানুষকে অপমান-অপদস্থ করা। বহু হীনমনের মানুষ আছে, যারা এমন অপরাধকে তো অপরাধ মনেই করে না, বরং অপমানিত ব্যক্তির দুঃখ-বেদনায় আমোদ অনুভব করে এবং এমন কাজের জন্য তারা গর্ববোধ করে। এটা একটা ব্যাধি আর ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যেমন সমাজকে রোগাক্রান্ত করতে পারে, ঠিক তেমনি এদের কটুকথা সমাজে হিংসাবিদ্বেষ ছড়াতে পারে।

আমাদের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মানুষের মন ভুলানোর জন্য কথার ফুলঝুরি তৈরি করে থাকে। যাতে তাদের কথায় মেতে ওঠে দেশের মানুষ এবং তাদের উড়ানো ফানুসের পেছনে ছুটতে থাকে। মানুষের এমন দিকভ্রান্ত হয়ে ছোটার সুযোগে কর্তারা ক্ষমতার চর্চা করতে সক্ষম হন কোনো বাধাবিপত্তি ছাড়াই। মানুষকে দিকভ্রান্ত করা যে অপকৌশল, তা নিয়ে কেউ কথা বললে সে বক্তব্যকে কিছুমাত্র সহ্য করা হচ্ছে না। আসলে কথা বলে শিশু ভোলানোর যে নীতি তারা অনুসরণ করে চলেছে, তার মূল কারণ জনগণকে অন্ধকারে রেখে ক্ষমতাসহ সব কিছু কুক্ষিগত করা। আর তাদের প্রতিপক্ষকে বাক্যবাণে ও শক্তি প্রয়োগ করে দমনের যে নীতি অনুসৃত হয়ে আসছে, তার মাধ্যমে দেশ এক কর্তৃত্ববাদী শাসনের নাগপাশে আবদ্ধ হতে চলেছে। আর এমন নীতি নিয়ে তারা অতীতে ব্যর্থ হয়েছিল বটে, কিন্তু এখনো সে কথা ভুলে যায়নি। বরং সেই নীতির স্মৃতিচারণ করে আবারো তেমন কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। সেটা যে জননিন্দিত হয়েছিল, মানুষ সেই নীতির জন্য ক্ষিপ্ত ছিল এবং তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের যে মাধ্যম, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম তার মাধ্যমে সত্য কথা বলার যে স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় সংবিধান দিয়েছে, এখন তাতে সরাসরি কোনো বাধাবিপত্তি দেয়া হচ্ছে না বটে, কিন্তু আড়ালে-আবডালে কলকাঠি নাড়া ও কৌশল আঁটা হয়েছে, যাতে সব কথা সব সত্য প্রকাশিত হতে না পারে। তা ছাড়া, আরো কথা আছে। এখন যত গণমাধ্যম রয়েছে তার বেশির ভাগের স্বত্বাধিকারীরা ক্ষমতাসীনদের নীতি-আদর্শের অনুসারী ও সুবিধাভোগীও বটে। আর সে কারণে গণমাধ্যমগুলো ওপরের আভাস-ইঙ্গিত এবং কথার বাইরে যেতে পারে না। এভাবে যদি সঠিক কথা বলার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলা হয়, তবে দুর্যোগ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

যথা তথা কথা বলার গুরুত্ব তেমন না থাকলেও এখন সেটাই হচ্ছে। এর যথার্থ কারণ অবশ্য রয়েছে। এই নিবন্ধের আগে এ কথা বলা হয়েছে যে, জাতির সমস্যা-সঙ্কট নিয়ে কথা বলার যে নির্দিষ্ট ফোরাম তথা জাতীয় সংসদ, সেখানে কথা বলার জন্য যথার্থ জনপ্রতিনিধিদের প্রবেশ করার সুযোগ হয়নি। ফলে এই সভায় এখন অসার অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে এখন কায়েম রয়েছে সংসদীয় ব্যবস্থা। এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এই সভা হবে দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সংসদকে ঘিরে সব কিছু আবর্তিত হবে। দেশের যাবতীয় সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম এই সভায় বসেই হবে। এখন সেই সভা বিদ্যমান থাকলেও তবে বলতে গেলে এর খোলসটি কেবল পড়ে আছে। এর অন্তরাত্মা তাতে নেই। এ বিষয়ে সবাই অবগত যে, এই আইন সভা গঠিত হওয়ার রেওয়াজ হচ্ছে একটি প্রশ্নমুক্ত ও প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের মাধ্যমে। যাতে এই মহান সভা গঠিত হতে পারে সত্যিকার জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে, যারা সংসদে এসে মাটি ও মানুষের কথা বলবে। কিন্তু বর্তমানে চলমান একাদশতম সংসদ সেভাবে গঠিত হয়নি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, প্রজাতন্ত্রের আমলা শ্রেণী এবং ক্ষমতাসীনদের নানা অপকৌশলে সে নির্বাচনে জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধিদের পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এই সংসদে সরকারের বিপক্ষে কথা বলার কেউ নেই। সেজন্য এ সংসদ জীবন্ত নয়, বরং নির্জীব একটি কাঠামো মাত্র। বলা হয়, দেশে রয়েছে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা অথচ সংসদে এর বিপরীত; রয়েছে একদলীয় ব্যবস্থা।

বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহুমতের অস্তিত্ব থাকতে হয়। কিন্তু সেটা না থাকলে স্বাভাবিকভাবে এ প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দেবে যে, দেশে আসলে কোন শাসনব্যবস্থা এখন কায়েম রয়েছে। কথা বলার ফোরাম নিয়ে প্রশ্ন, ভোটের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন, শাসনব্যবস্থার স্বরূপ নিয়ে প্রশ্ন, মানুষের মৌলিক অধিকার ভোগ করা নিয়ে আছে প্রশ্ন। আসলে প্রশ্নের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। অথচ সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই, কেবলই মূক হয়ে থাকা। সংসদীয় গণতন্ত্রে আইন সভার মুখ্য দায়িত্বগুলোর অন্যতম হচ্ছে প্রশাসনের রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা যত অনিয়ম-দুর্নীতির কথা শোনা এবং নির্বাহীদের সেজন্য জবাবদিহি করা। আর এর মাধ্যমেই ঝরে যেতে পারে সব অনিয়ম।

কথা বলা এবং সে কথা না শোনার বিষয় নিয়ে অনেক কথাই বলা হলো। এখন শেষ কথা হচ্ছে, জনগণের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের প্রতি মনোযোগী হওয়া। সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যারা সমাজের অধোগতির কথা প্রশাসনের গোচরে নিয়ে আসেন, তাদের সেসব বক্তব্যকে বন্ধুর বচন হিসেবে গ্রহণ করে তা সমাধানে এগিয়ে এসে মানুষের ভোগান্তি দূর করা। এখন আসলে প্রশাসন তাদের নিকটস্থ কিছু মানুষের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য লাখো জনতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বলে, সমাজে এখন ভয়াবহ আকারে আয়বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এক বিরাটসংখ্যক মানুষ আয়বৈষম্যের শিকার হয়ে দিন দিন দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় সংবিধানে আয়বৈষম্য ক্রমাগত দূর কথার কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলা হয়েছে। নির্বাহীরা দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালেও এমন বৈষম্য দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শপথ নিয়ে থাকেন। দেশের উন্নয়ন নিয়ে কর্তাদের মুখ থেকে বহু কথা শুনছি। কিন্তু উন্নয়নের অর্থ যদি হয় কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সমষ্টির ফুলে-ফেঁপে ওঠা আর অধিকাংশের নিরন্ন থাকা। তবে একে তো আর উন্নতি বলা চলে না। সেটা আসলেই অধোগতি। এমন একটা অবস্থাকে নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়ে কথা বলা কি সাজে? উন্নয়নের যে সামগ্রিক ধারণা, সেখানে শুধু নিছক আর্থিক কিছু অগ্রগতিকেই বোঝানো হয় না। মানুষের জীবনাচরণে স্বচ্ছন্দের পাশাপাশি সুনীতির চর্চা, কথা বলার স্বাধীনতা নিজ মতের আলোকে সংগঠন করা, প্রকাশ্যে সংগঠিত হওয়া এবং সভা-সমাবেশ করার অধিকার অর্জন। এসবের সমন্বয় ঘটলেই কেবল উন্নয়নের ধারণা পরিপূর্ণ হতে পারে। তা না করে কেবল উন্নয়নের দাবি করা নিছক অসার কথা। তাই কর্তাদের উচিত নয় এমন বয়ান দেয়া।

[email protected]


আরো সংবাদ