১৭ নভেম্বর ২০১৯

অভিযানের শিকড় কতটুকু গভীরে যাবে?

-

সম্প্রতি অনেক কথাই চাউর হচ্ছে এর মধ্যে একটি কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েছে। রাজনীতির কথা শুনলে অনেকেই নাক ছিটকান এই বলে যে, রাজনীতি বা রাজনীতিবিদই সব শেষ করল (!) অনেক অনাচার, অবিচার, স্বেচ্ছাচারিতা, অত্যাচার, ধ্বংস, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরতন্ত্রের অনুশীলন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, মানি লন্ডারিং প্রভৃতির জন্য রাজনীতি নহে বরং উচ্চ বিলাসী রাজনীতিবিদরাই (মিডিয়ার ভাষায় হাইব্রিড) দায়ী যারা ক্ষমতায় একবার অধিষ্ঠিত হতে পারলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ধ্বংস করার জন্য যত ধরনের আইনকানুন, কূটকৌশল প্রভৃতি চরমপর্যায়ে পৌঁছলেও মাটি ও মানুষ থেকে উঠে আসা রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের দিয়েই বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তি এসেছে, বাঙালির মাতৃভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষায় মর্যাদা পেয়েছে, দেশটি স্বাধীনতা লাভ করেছে।

ফলে এক দিকে বর্ণচোরা রাজনীতিবিদদের দিয়ে যেমন রাজনীতি কলুষিত হয়েছে, অন্য দিকে অনেক রাজনীতিবিদ নিষ্ঠার সাথে মানুষকে ভালোবেসে দেশ ও জাতিকে আলোর মুখ দেখিয়েছেন, অনেকে আবার দেশ ও জাতিকে লুট করে লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। তবে লুটেরাদের সংখ্যাই বেশি, যাদের হাতে এখন রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ। যেখানে রাজনীতির চর্চা হয় অর্থাৎ গণতন্ত্র আপন গতিতে চলে যেখানে লুটপাট করার রাস্তাটি প্রশস্ত থাকে না। রাষ্ট্র, দেশ ও জাতি তথা শাসনব্যবস্থার একটি চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ঠিক রাখার জন্য সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তথা সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি ক্ষেত্র অপরিহার্য, যে ক্ষেত্রটি বিরাজনীতিকায়নের কারণে ব্যাংক লুটেরা, ভূমিদস্যু, টাকাওয়ালা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জুয়াড়িদের নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত রাজনীতি চলে গেছে।

সম্প্রতি সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের দুর্নীতির ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ, তা অবশ্যই স্বীকার করতে হয়। যদিও ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা আমার নেই, তথাপি সুস্থ ধারায় প্রতিযোগিতামূলক ছাত্র রাজনীতির আমি একজন সমর্থক। যে বয়সে একজন মানুষ ছাত্র রাজনীতি করে সে বয়সে আমি খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের সংগঠনে নিজেকে সম্পৃক্ত করি। অতিশয় ভদ্রলোকদের দৃষ্টিতে সে সংগঠনগুলো অতি নিম্নশ্রেণিভুক মানুষের সংগঠন, যেমন- রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, ইটাভাটা শ্রমিক ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠন, যার সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বস্তিতে বস্তিতে। যেহেতু ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা আমার নেই এবং যেহেতু তর্কিত ছাত্র সংগঠনটির বিপরীত ধারায় রাজনীতিতে আমি সম্পৃক্ত সেহেতু ওই সংগঠনের ভাগ্যহত নেতাদের নিয়ে কথা বলার চেয়ে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির অনুশীলন নিয়ে কথা বলাটাই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য।

অভিযোগ উঠেছে- সংগঠনটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন, যার মধ্যে ঈদ সেলামি বাবদ এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন নেতারা ৬% বখরা, চাঁদা, সেলামি দাবির কথা শুনলে যেকোনো বিবেকমান মানুষের চোখ যেমন কপালে ওঠে, তেমনি ভিসি কর্তৃক এক কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ (পত্রিকার ভাষ্যমতে) নৈতিকতার প্রশ্নে ধিক্কার ছাড়া অন্য কোনো বিশ্লেষণ দেয়া কতটুকু সমীচীন? এ মর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি (অধ্যাপক আরেফিন) সরকারি ঘরানার হয়েও বলেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র সব বিশ্ববিদ্যালয়েই বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক ঘটনায় দেখা যায় যে, ভিসির একটি নিজস্ব বাহিনী থাকে।

তবে প্রেক্ষাপট বলে যে, এ অবস্থা শুধু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নয়, বরং সারা দেশেই বিদ্যমান; প্রশাসন ও রাজনীতি অঙ্গন, যার অধিক্ষেত্র অনেক বড়। যে সরকার দুর্নীতির বিষয়ে যত বেশি বলেছে, সে সরকারের দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়ার ইতিহাস তত বড়, এ কথা নতুন কিছু নয়। এক-এগারোর সরকারের নায়কেরাও এ তালিকা থেকে বাদ যায় না। ওই সময়ে টাক্সফোর্স দুর্নীতিবাজদের তালিকা প্রকাশ করে; কিন্তু দুর্নীতির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য ব্যাপক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কপাল পুড়েছে তাদের যারা তৎকালীন দুর্নীতি দমন টাক্সফোর্সকে ম্যানেজ করতে পারেনি। ডিমান্ড এত বেশি ছিল যে, চাহিদা পূরণ করে ম্যানেজ করাও ছিল দুরূহ ব্যাপার। Truth Commission গঠন করা হয়েছিল, যাদের অর্থকরী ছিল তারা কমিশন নির্ধারণ অর্থ জমা দিয়ে বেঁচে গেছেন, যা পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক পন্থা বলে ঘোষণা করেন।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি হওয়ার বিষয়টি যেন গা-সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসি চাঁদা বা বখরা দেবেন কেন? এর পেছনে কী রহস্য রয়েছে? ওই টেন্ডার কাজে ভিসির নিশ্চয়ই ভাগবাটোয়ারা রয়েছে, নতুবা ভিসি ছাত্রদের কাছে নতজানু কেন হচ্ছেন? প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ভিসি নিয়োগ হয়। এ পদ্ধতি আগেও ছিল। তবে এর আগে ভিসিরা রাখঢাক মেনেই রাজনীতিতে উন্মেষিত হতেন, আর এখন তারা দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন পাল্লা দিয়ে, টার্গেট শুধু ভিসি পদ বাগানোসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা আদায় করা।

মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকেরা যোগ্যতার ভিত্তিতে না হয়ে তদবিরভিত্তিক রাজনৈতিক বিবেচনায় ভিসির পদপদবি দখল করেন বলে তাদের সরকারি দলের ছাত্র নেতাদের কাছে নতজানু থাকতে হয়। মেরুদণ্ড সোজা থাকলে এ ধরনের ছাত্র সমস্যা বা নেতাদের চাঁদাবাজি কোনো সমস্যা নয়। এ মর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপিকা নুসরাত শিমু একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্র নেতাদের এতটা ক্ষমতাধর ভেবে তোষামোদি, ভাগবাটোয়ারা, কমিশন দেয়া এসব আমাদের বাদ দিতে হবে। ক্ষমতার লোভে বড়রা (রূপক অর্থে নয়, আক্ষরিক অর্থেই) যদি ছোটদের তোষামোদি করে, তাহলে ছোটরা আশকারা পেয়ে একসময় লাগামহীন ঘোড়া হবে, শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করবে, ভিসির সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’

বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সামাজিক অভিব্যক্তি সব কিছুই চলছে এখন তোষামোদিভিত্তিক। তোষামোদি এমনই একটি বিষয়, মোটামুটি সবাই এটাকে পছন্দ করে, রাজনৈতিক নেতারা তো পছন্দ করেনই, এর চেয়ে বেশি পছন্দ করেন সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিকে যারা চার দেয়ালের ভেতরে ‘নিরাপত্তার’ নামে আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দী করে রাখে। ‘ছাত্রলীগকে ধরার পর যুবলীগকে ধরছি’ প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যের পর যখন হালে জুয়ার ক্যাসিনোতে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান শুরু হলো, তখন যুবলীগের চেয়ারম্যান আঙ্গুল চোষার যে উপমা দিয়েছিলেন তা যথার্থই সত্য এবং সত্যের উপরে সত্য, যদিও তিনি পরে তার বোল পাল্টিয়ে নরম সুরে এখন বাহিনীদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান ‘আঙ্গুল চোষার’ হুমকি এবং পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনাকারীদের ‘অভিনন্দন’ দুটি সমর্থনযোগ্য। বাহিনীদের অভিনন্দন এই যে, তাদের দুঃসাহসিক অভিযানের ফলেই দেশবাসী জানতে পারল যে, ঢাকা এখন ক্যাসিনো রাজধানী এবং লাখ কোটি কোটি টাকা ক্যাসিনোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

তবে ‘অভিনন্দন’ দেয়ার চেয়ে আঙ্গুল চোষার বক্তব্যটি আরো ধ্রুব সত্য। কারণ বাংলাদেশে যত অপকর্ম সংগঠিত হয় সবই হচ্ছে গডফাদারদের ছত্রছায়ায়। র‌্যাব পুলিশ যাকে সালাম দেয় তার পক্ষেই গডফাদার হওয়া সম্ভব, নতুবা নয়। বাংলাদেশে কোথায় কী অপকর্ম হয় পুলিশ র‌্যাব তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব জানে এবং তাদের বখরা দিয়েই অপকর্ম চালাতে হয়। সব টর্চার সেল তাদের নখদর্পণে। তদুপরি মিডিয়ার ভাষ্য মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্যাসিনো বন্ধের জন্য পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয়া ছাড়া মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে জিডি করা হয়েছিল। তার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কানে পানি যায়নি। যেখানে অন্যায় বা আইন ভঙ্গ হবে সেখানেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বিষয়টি স্পষ্ট যে, মাসিক, সাপ্তাহিক টোল বা দৈনিক বখরা দিয়েই আইন ভঙ্গকারীরা বেআইনি কার্যকলাপ করে অজস্র অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচার করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও শহরের সরকারি ক্যাডারদের এ ধরনের টর্চার সেল রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে বখরা দিয়ে চলছে জেলা উপজেলায় জুয়ার আসর চলে, যদিও জুয়া ও গণিকাবৃত্তি সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। সংবিধানের ১৮(২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়া খেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ক্যাসিনো গডফাদারদের রিমান্ডে বিভিন্ন তথ্যে রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে এসেছে। সরকারের শুল্ক ও ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে ফাঁকি দিয়ে ক্যাসিনো মেশিন কিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করল? ক্যাসিনো ফাদারদের গ্রান্ড ফাদাররা এখনো রাজা বাদশা সম্রাটদের মতো বহালতবিয়তে। তার পরও কি সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সরকারের মুখ রক্ষা, না দুর্নীতি সমূলে উচ্ছেদ করায় সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ (!)। কিন্তু শুধু দেশকে লুটে খাওয়ার জন্য সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষার যারা জিকির তোলে, তারাই সেই সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে জুয়ার উপার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করছেন। তারাই এখন নিজেদের সরকারের পর সরকার মনে করে এবং এ অবস্থার সৃষ্টি সুযোগ করে দিয়েছে সরকার স্বয়ং, কারণ ভোটারবিহীন নির্বাচনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি ক্যাডারদের ওপরও সরকারকে নির্ভরশীল হতে হয়েছে। এখন সরকার তাদের মুখ রক্ষার জন্য অভিযান করতে বাধ্য হচ্ছে, তবুও অভিযানকে স্বাগতম।

তবে যাদের আইনগতভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার জন্য দেশে ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠিত হলো, সেসব সরকারি পোশাকধারীদের সরকার বিচারের আওতায় আনতে পারবে কি না এতে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ নির্বাচনী নাটকে অর্থাৎ ভোটারবিহীন তথাকথিত নির্বাচনে যারা এ সরকারের মাথায় জয়ের মুকুট পরালো আইন সেই শৃঙ্খলা বাহিনীর সে সদস্যদের সরকার বিচারের আওতায় আনবে কোন মুখে? তার পরও আশার কথা এই যে, যুবলীগ চেয়ারম্যানের ভাষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর (আঙ্গুল চোষাদের) যদি বোধোদয় হয় তবেই অভিযানটি আলোর মুখ দেখবে। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে, গৃহপালিত নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, প্রশাসন, ক্যাডার সমন্বয়ে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রাতে ভোটের জুয়ায় সরকার সফলকাম হয়েছে। তবে ভোট লন্ডারিংয়ের বিচারের দাবি একদিন হয়তো উঠতেও পারে।

এইচ টি ইমাম সরকারের পক্ষে অভিভাবকত্বসুলভ বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনিই এখন বর্তমানে বড় আওয়ামী লীগার (!)। তার মতে, গ্রেফতারকৃত ক্যাসিনো গডফাদাররা যুবদল বিএনপি করত। এর মধ্যে একজন ফ্রিডম পার্টি করত বলেও জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে সরকারি দল কত টাকার বিনিময়ে বিএনপি ও ফ্রিডম পার্টিকে তাদের দলে ভিড়িয়েছে। এইচ টি ইমামরা যে দলের নাম শুনতে পারেন না, তাদের কাছে নিজ দলের বড় বড় পদ বিক্রি করেন কত টাকার বিনিময়ে, এ প্রশ্নগুলোরও মীমাংসা হওয়া দরকার। তবে টাকা দিলেই যে রাজনৈতিক দলের নেতা ক্রয় করে ভালো পদ শিকার করা যায়, এটাও তার একটি প্রমাণ। অন্য দিকে কোরবানির হাটের মতো দেশের সব, বিশেষ করে বড় বড় রাজনৈতিক দলের হাট চাঁদরাত (অর্থাৎ নমিনেশন দাখিল পর্যন্ত) পর্যন্ত খোলা থাকে। ফলে হাটের গরুর মতো (নীতি আদর্শের তোয়াক্কা না করে) রাজনৈতিক দল নেতা বেচাকেনা চালিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিও রাজনীতিকে কলুষিত করেছে।

জাতীয় পত্রিকার ভাষ্য মতে ও সচিত্র প্রকাশিত খবরের মর্ম মতে, গ্রেফতার অভিযানে অভিযানকারী কর্মকর্তারা জুয়াড়ি গডফাদারদের এমন এমন ব্যক্তি যথা- র‌্যাব প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী প্রভৃতি স্বনামধন্য ব্যক্তিদের সাথে দেয়ালে সাঁটানো ছবিতে এমন আন্তরিকতা দেখা গেছে, যা না দেখলে বিশ্বাসই করা যেত না যে, পর্দার আড়ালে বা কাদের ছত্রছায়ায় গডফাদাররা এ অপরাধগুলো চালিয়ে গেছে। পত্রিকায় আরো সংবাদ বেরিয়ে আসছে যে, মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এটা কিসের আলামত? সমঝোতা না নাটকীয়তা? এ প্রশ্নগুলোর পরিসমাপ্তি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড থেকেই বোঝা যাবে যে, অভিযানের শিকড় কতটুকু গভীরে প্রবেশ করবে? টাকার প্রভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত হওয়ার কারণেই গডফাদাররা রাজনৈতিক অঙ্গনকে দখল করে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। খবর প্রকাশিত হচ্ছে যে, ব্যাংকগুলোতে টাকা নেই। সরকারি ছত্রছায়ায় যদি ক্যাসিনো চলে ব্যাংকে টাকা থাকবে কী করে? এ কারণেই দেশের গরিব দিন দিন গরিব হচ্ছে, ধনীরা হচ্ছে আরো ধনী। পাকিস্তানি ২২ পরিবারের স্থলে সৃষ্টি হয়েছে ২২ শ’ পরিবার। ভূমিদস্যুদের হাতে গরিবের চাষাবাদের জমি চলে যাচ্ছে। সংবিধানের ১৮(২) ধারা মোতাবেক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর দেয়া হলেও ভূমিদস্যুদের বিষয়ে রাষ্ট্র নির্বাক, যেমনটি ছিল ক্যাসিনোর বিষয়ে। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যে অবস্থা বিরাজমান তাতে মধ্যবিত্ত পরিবার আর থাকবে না, থাকবে শুধু উচ্চবিত্ত আর অন্য দল পরিচিত হবে ডড়ৎশরহম ঈষধংং হিসেবে। রাষ্ট্র ষড়যন্ত্রের মধ্যে রয়েছে, না রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপকরা নিজেই ষড়যন্ত্র করছে এটাই এখন দেখার বিষয়।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)
[email protected]


আরো সংবাদ

মাঠ সংস্কার উদ্বোধনে হাজী সেলিম অনুসারীদের হট্টগোল! চারুকলায় উৎসবে নবান্নকে বরণ ‘সুস্থ জীবনযাপনে মহানবীর জীবন অনুসরণের বিকল্প নেই’ খেলার মাঠগুলোকে বিশ্বমানের করা হচ্ছে : সাঈদ খোকন কেরানীগঞ্জেই হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার এমপি পদ ও পরিবহনের শীর্ষ পদ থেকে বহিষ্কার দাবি ঐক্যলীগের নতুন বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে : জি এম কাদের রাস্তা প্রশস্ত করার খবরে মুগদাবাসীর উদ্বেগ তাঁতি দলের আলোচনা সভা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারই জড়িত : গয়েশ্বর সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান স্পিকারের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা

সকল