২৪ অক্টোবর ২০১৯

ইরান-ব্রিটেন সঙ্ঘাত

-

বহু দিন ধরে ইরানে বিবিসির সম্প্রচার নিষিদ্ধ। এ জন্য ব্রিটেন ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘে হয়রানি, নিগ্রহ এবং বিবিসির পারস্য সার্ভিস স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসে এবং অন্যরাও বলতে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে লেগেছে। তাই ইরান অনেক অপেক্ষা করার পর শেষ অবধি পুরোদমে ইউরেনিয়াম উৎপাদন করছে। ফলে মাত্র এক মাসের মধ্যে ইরান যেকোনো ধরনের পরমাণু বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে। হরমুজ প্রণালীর ভূ-কৌশলগত অবস্থান আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভূমধ্যসাগর প্রান্তে, জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশে ইরানি সুপার ট্যাংকার ‘গ্রেস ১’ ছেড়ে দিয়েছে। ট্যাংকারটি ব্রিটিশ নেভির কমান্ডোরা আটক করেছিল। এ নিয়ে ইরান ও ব্রিটেনের মধ্যে নতুন বিরোধ শুরু হয়েছে। ইঙ্গ-মার্কিন অক্ষ হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধ বাধিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালী, ওমান ও পারস্য উপসাগরে কর্তৃত্বহীন করার পরিকল্পনা করছে- বিশ্লেষকেরা এটাই মনে করছেন। ব্রিটিশ রয়েল মেরিনের দুর্দান্ত অপারেটররা মূলত আমেরিকার অনুরোধে ইরানের সুপার ট্যাংকার আটক করে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রিত জিব্রাল্টারে নিয়ে যায়। এর ১৫ দিন পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে ব্রিটিশ পতাকাবাহী ‘স্টেনা ইম্পেরো’ আটক করেছে।

সবাই ধারণা করেছিল ইরানি ট্যাংকার ছেড়ে দিলে ব্রিটিশ ট্যাংকারকে ইরান ছেড়ে দেবে। কিন্তু ইরানি ট্যাংকার ছেড়ে দেয়ার পরও ইরানিরা ব্রিটিশ জাহাজটি ছেড়ে দেয়নি। ইরান বলেছে, দু’টি জাহাজের অবস্থান একই নয়। ব্রিটিশ জাহাজটি আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে ইরানের পানিসীমায় ঢুকে পড়েছিল, বারবার সতর্ক করা হলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। এখন ব্রিটেনের পতাকাবাহী সব জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। এতে পারস্পরিক বিরোধ আরো বেড়ে গেলেও ইরান ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং ‘যেমন ঢিল তেমন পাটকেল’ নীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ব্রিটেন এর মধ্যে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ইরান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে পাঠিয়ে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে জব্দ করেছে আরো দু’টি জাহাজ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বা পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ অনেক দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্রিটেন এই সঙ্কটে নেতৃত্ব দিতে চায়। জাহাজ হাতছাড়া হওয়ার পর ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকেছে। যে মহাদেশীয় ফোরাম থেকে বের হওয়ার জন্য ব্রেক্সিট আন্দোলন, তারা এখন পানি ঘোলা করার জন্য সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চাইছে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউরোপীয় সুরক্ষা বাহিনী পাঠানোর জন্য লবিং শুরু করেছে।

যুদ্ধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, আরো ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে আছে। এর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে তা বেশি হবে বলে মনে হয় না। উপসাগরে যুদ্ধ করতে রয়েল নেভির আরো যুদ্ধজাহাজ আসার সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক বলয়ে আরো এক দেশ আছে, যেটি কারণে-অকারণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করে থাকে। তার নাম অস্ট্রেলিয়া। ২১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়া হরমুজ কোয়ালিশন ফোর্সে যোগ দিয়ে যুদ্ধজাহাজ, সেনাদল ও হেলিকপ্টার গানশিপ পাঠিয়েছে। আমির শাসিত বাহরাইনও এই ফোর্সে যোগ দিয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ইরান বলেছে, যুদ্ধ শুরু হলে এগুলো ‘পালানোর সুযোগও পাবে না’।

গ্রেস-১ ট্যাংকার ছিনিয়ে নেয়াকে ইরান বলেছে, ‘সমুদ্র দস্যুতা’ এবং বলেছে, ‘ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের চাকর’। গত জুলাই মাসে ব্রিটিশ ‘হেরিটেজ’ জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইরানি গানবোট বাধা দেয়, উভয় পক্ষে গোলাগুলি হয়। তখন তিনটি আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছিল।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট নরমভাবে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জারিফকে শুধু এ কথা বলতে চাই, গ্রেস-১ এবং এর ভেতরের তেল কোনো মুখ্য কিছু নয়, কোথায় যাচ্ছে সেটিই ছিল বিবেচ্য।’ সিরিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধ ছিল। ব্রিটেন ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, সেখানে ইইউর অবরোধ নিয়ে তাদের এত চিন্তাভাবনা কেন তাও রহস্য।

ব্রিটিশরা ইরানে কলোনি স্থাপন করতে না পারলেও ইরানে তামাক ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করেছিল এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহিঃশক্তি ইরানে ঘাঁটি করতে চেয়েছিল। ইরানের ইতিহাস, স্বাধীনতা, বিশ্বসভ্যতা ও বিজয়ীর ইতিহাস। ব্রিটিশরা ইরানের সমাজে বেশি অনুপ্রবেশ করেছিল। তখন থেকেই ব্রিটিশদের ইরানিরা ভালো চোখে দেখত না। ব্রিটেনের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র তার বই ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইরান অ্যান্ড হোয়াই ইট ডিসট্রাস্টস ব্রিটেন’ গ্রন্থে ইরানের এই মনোভাব তুলে ধরেছেন। ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর ইরান আমেরিকা, ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক নতুনভাবে স্থাপন করার প্রচেষ্টা চালায়। গত চার দশকে ইরান নিজের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে নিজের প্রভাববলয় বাড়াতে পেরেছে। তাই ইরানকে দমনে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইসরাইলের হাতে অনেক কর্মসূচি।

গত চার দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দেশটি নিজেকে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। যে ছক নিয়ে ২০২০ সালের মধ্যে ইঙ্গ-মার্কিন জোট মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে, সেটি সহজে আর কূল পাচ্ছে না। ব্রিটিশরা সব সময় তেহরানে প্রতিপত্তি কায়েম করার চেষ্টা চালিয়েও ইরানকে বশ করতে পারেনি।

দেখা যায়, ইঙ্গ-ইরান সম্পর্ক ২০০ বছর ধরেই বিস্ফোরণোন্মুখ। ১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর সেটি আরো স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ইরানের রাষ্ট্রযন্ত্রে ধর্মীয় কর্তৃত্ব অনেক কর্তৃত্বশালী দেশ সইতে পারছে না। আজকের ইরান ৪০ বছর আগের ইরান নয়; বরং অনেক শক্তিশালী। পরমাণু, চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বলীয়ান হয়েছে। এ বিষয়ে একটি উদাহরণ হলো, ইরান কয়েক বছর আগে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। রাাশিয়া কিছু দিন আগে ইরানকে এস-৪০০ কেনার কথা জানালে ইরান সেটি ‘এখন দরকার নেই’ মর্মে জানিয়ে দিয়েছে। ইরান এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রকে নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে এত উন্নত করেছে যে, তা ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইলকেও ছাড়িয়ে গেছে। অন্য দিকে, ব্রিটেন আর্থিক মন্দার কারণে নৌ ও সেনাবহর কমিয়ে ফেলেছে।

যদি ব্রেক্সিট কার্যকর হয় এবং আয়ারল্যান্ড স্বায়ত্তশাসনে ফিরে যায় বা স্বাধীনতা ঘোষণা করে তখন ‘ব্রাইটন’রা চাকরির জন্য দেশ ছাড়বে। মূলত ব্রিটেন একটি বিভক্ত সমাজ। সেখানকার এলিট শ্রেণী বিশ্বে তাদের স্থান কেমন সে বিষয় নিশ্চিত নয়। প্রায় ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ইরানবিরোধী কোনো পদক্ষেপ সাফল্য দেখেনি। তথাপি ব্রিটেন সব সময় ইরানবিরোধী কার্যক্রমে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। ইরানবিরোধী বাহরাইনের ‘খলিফা’ পরিবারের একনায়কতন্ত্রকে ব্রিটেন সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ইয়েমেন যুদ্ধে তাদের নিজেদের জড়ানো এর দু’টি সাম্প্রতিক উদাহরণ। এ দিকে, ইরান সর্বক্ষেত্রেই ব্রিটেনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে।

১৯৭৯ সালের পর ইঙ্গ-ইরান সম্পর্কে ফাটলের দু’টি বড় ঘটনা বিশ্বকে নাড়া দেয়। একটি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ফতোয়া। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদিকে ‘কাফের’ ফতোয়াসহ জীবিত বা মৃত ধরে নিয়ে এলে নগদ অর্থের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। ইরানের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ ব্রিটিশ মুসলমান সমাজকে যেন চমকে দেয় এবং এই পদক্ষেপ ব্রিটেনের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ আধুনিক ইরানের প্রথম বড় ধরনের আঘাত। ইঙ্গ-ইরান সম্পর্কে ভাঙনের দ্বিতীয় ঘটনা হলো, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু নিষেধাজ্ঞায় মোড়লিপনার কারণে নভেম্বর ২০১১ সালে তেহরানে ইরানি ছাত্রছাত্রীরা ব্রিটিশ দূতাবাসে হামলা চালায়।

এটি ছিল বড় ধরনের আঘাত। বৈরিতার তৃতীয় কারণটি টোরি সরকারের ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরাইলপ্রীতি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সাজিদ জাভিদকে সরিয়ে প্রীতি প্যাটেলকে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ তার পূর্বসূরি থেরেসা মে দুই বছর আগে, ২০১৭ সালে অবৈধভাবে ও গোপনে ইসরাইলি মন্ত্রী ও লবিস্টদের সাথে পরামর্শ করার দায়ে সরকার থেকে প্যাটেলকে বহিষ্কার করেছিলেন। এখন জনসন ইসরাইলের পছন্দের লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলেন। প্রীতির পিতামাতা ভারতের গুজরাটের লোক। তারা উগান্ডা থেকে ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। ইদি আমিন সব এশীয়কে বিতাড়নের হুমকি দিলে তারা উগান্ডা ত্যাগ করেন।

ইসলাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের আগ্রাসী মনোভাবের বিষয়ে বরিস জনসনের সাথে আলাপের জন্য লন্ডনে যাওয়ার কথা। তবে নিজের নির্বাচন এবং জনসনের ব্রেক্সিট সমস্যার কারণে সফর স্থগিত করে বার্তা পাঠান- ‘ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার জন্য’। সে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারও যোগ দেয়ার কথা। জনসন ও নেতানিয়াহু ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনে মিলিত হয়েছিলেন কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণার শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য। দু’জন পরস্পর বন্ধু, এ জন্য ট্রাম্প জনসনকে খুবই পছন্দ করেন।

রয়েল নেভি ডেস্ট্রয়ার এইচ এম এস ডানকান এখন পারস্য উপসাগরে। এর আগে ‘মনট্রোজ’কে পাঠানো হয়। ‘যুক্তি’ ছিল- ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজের হরমুজ প্রণালীতে যাওয়া-আসার প্রহরী হিসেবে কাজ করা। যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে অবরোধ দিলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে দেয়, সেটিকে নিবৃত্ত করতে ইরানের কৌশলগত এলাকা হরমুজ ফ্রন্টে যুদ্ধ বাধানোর এত তোড়জোড়, যা ইতোমধ্যে ব্রিটিশরা শুরু করে দিয়েছে। এ বিষয়ে এর আগে এই কলামে ‘ইরান যুদ্ধ : হরমুজ ফ্রন্ট’ লেখা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ‘মনট্রোজ’ ও ইরানি বোটের মাঝে কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গোলাগুলি হয়েছে। ইরানিরা আরো একটি ব্রিটিশ জাহাজে ওঠে, তবে সেটি জব্দ করেনি। এখন শোনা যাচ্ছে, মনট্রোজকে ফেরত নেয়া হবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য! আমরা আগেই উল্লেখ করেছিÑ সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ টহলের জের এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য রেখে দেয়া বিরাট এক খরচের বিষয়। এদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে আছে। বেতনভাতা বৃদ্ধির জন্য এর সবাই ধর্মঘটে নেমেছে। এসব সামাল দেয়া অনেক ঝামেলা বা খরচের ব্যাপার।

বহু বছর ধরে ব্রিটিশদের আয় কমে যাওয়ায় প্রতিরক্ষা বাজেট কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই দু’টি বড় ওয়ারশিপ পারস্য উপসাগরে রাখা তাদের তহবিলে পোষাচ্ছে না। ধারণা ছিল, স্টেনা ইম্পেরো জাহাজ হরমুজ দিয়ে গেলে ইরানিরা ভয়ে তা আক্রমণ করবে না। কিন্তু ঘটনা উল্টো হয়েছে এবং তেহরান আরো জাহাজ আটক করায় ব্রিটিশরা নমনীয় হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। তা ছাড়া রয়েল নেভির মাত্র ১৯টি ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট আছে। এর মধ্যে কয়েকটি মাত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধ তৎপরতায় ব্যবহার করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, যাদের জন্য ব্রিটিশরা নেমেছে এই সঙ্কটে; তারা কোনো সহায়তা দিতে নারাজ। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যুক্তরাজ্যের।’ লন্ডনের ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজির রিপোর্টে প্রকাশ পায়, নৌবহর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এটা আর প্রসারিত করা হবে না।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ব্রিটেনের মিলিটারি বাজেট প্রায় অর্ধেকে নেমে যায়। ২০১০ সালে বাজেট আরো সঙ্কীর্ণ হলে, নৌবাহিনীর দু’টি কেরিয়ার, দু’টি উভচর জলযান, চারটি ফ্রিগেট, বিমানবাহিনীর উপকূলবর্তী নিয়মিত পাহারা বিমান কেরিয়ারে ব্যবহৃত হেরিয়ার জাম্প জেটের খরচ প্রায় বন্ধ করে দেয়া হয়। পোশাকধারী সেনা ৩০ হাজার কমানো হয়েছে। তার পরও সামরিক খাতে ব্রিটেনের বার্ষিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, যা অবাক করার মতো। ব্রিটেনের নিরাপত্তা পরামর্শক বলেছেন, দু’টি নতুন এয়ারক্র্যাফট কেরিয়ার পাহারা দেয়ার মতো জাহাজ হাতে নেই। যুদ্ধের সময় সহযোগী দেশ থেকেই সহায়তার প্রয়োজন পড়বে। এ অবস্থায় ইরানের আক্রমণ সামাল দিতে ব্রিটিশদের যুদ্ধজাহাজ স্বল্পতার সমস্যায় ভুগতে হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ