২৩ অক্টোবর ২০১৯

ইসলামে ও আইনে নিষিদ্ধ জুয়া

-

বাংলাদেশের সংবিধানের মৌল নীতিগুলোর অন্যতম হলো জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা। তাই জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার জন্য হানিকর- এমন সব কাজ সংবিধানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুয়া খেলা একটি মারাত্মক অনৈতিক কাজ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে- ‘জুয়া খেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

জুয়া বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- তাস দিয়ে, ঘোড়দৌড়ের বাজির মাধ্যমে, ক্রিকেট, ফুটবল প্রভৃতি খেলায় কোন দল জিতবে এ নিয়ে বাজি ধরা, আধুনিক ক্যাসিনোতে বিভিন্ন ধরনের জুয়া, হাউজির মাধ্যমে জুয়া খেলায় লিপ্ত হওয়া প্রভৃতি। সব ধরনের জুয়া খেলাই আমাদের সংবিধান এবং দেশের আইনে নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাজধানী শহর ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলা শহরে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে জুয়া খেলা।

ঢাকায় যেসব অভিজাত ক্লাব রয়েছে, এগুলোর প্রতিটিতে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলা চলছে। কোনো কোনোটিতে হাউজির মাধ্যমেও জুয়া খেলা চলে। বিভিন্ন জেলা শহরে সরকারি-বেসরকারি যেসব ক্লাব রয়েছে, এগুলোর প্রতিটিতেই তাসের জুয়া চালু রয়েছে।
স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ‘রেসকোর্স’ নামে পরিচিত ছিল। সে সময় উদ্যানটিতে প্রতি রোববার ঘোড়দৌড়ের রেস বা জুয়া খেলা অনুষ্ঠিত হতো। স্বাধীনতার পর ঘোড়দৌড়ের জুয়া খেলা বন্ধ করার বিষয়ে সে সময়কার রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা বলিষ্ঠ অবদান রাখেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে জুয়া খেলা অনৈতিক বিধায়, এর প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে বলা হয় তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও আগ্রহে।

দেশের সর্বত্র অপ্রতিরোধ্যভাবে তাসের জুয়া খেলার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তসহ সব শ্রেণী ও পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ জুয়া খেলা তথা এই অনৈতিক নেশার সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে বাসাবাড়ি, হোটেল, মেস, ছাত্রাবাস, ডর্মিটরি প্রভৃতি ছাড়াও হাটে, ঘাটে, মাঠে ও নির্জন স্থানে জুয়া খেলা চলে। এমনকি রেল ও বাস স্টেশন, হাটবাজার এবং বাস, লঞ্চ, স্টিমার প্রভৃতির অভ্যন্তরে জুয়া খেলা চলছে। গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় অনেকে জুয়া খেলায় মত্ত থেকে দীর্ঘ সময় কাটায়।

যারা জুয়া খেলে বা জুয়ার বাজি ধরে, এদের জুয়াড়ি বলা হয়। এরা তিন ধরনের। এর একটি হলো উচ্চবিত্ত। এদের অর্থকড়ির কোনো অভাব নেই। এরা জুয়া খেলে লাখ টাকা জিতলে বা হারলে এর কোনোটিই তাদের আর্থিক ভিতকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে না। এসব উচ্চবিত্ত ব্যক্তি জুয়া খেলাকে সময় কাটানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আর অন্য দু’টি শ্রেণীর একটি হলো অভ্যাসগতভাবে জুয়াড়ি; অন্যরা মাঝে মধ্যে বিশেষত ছুটির দিন ও অবসর সময়ে জুয়া খেলে থাকে। অভ্যাসগত জুয়াড়িরা এদের পকেটে টাকা আছে কি নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। এরা একবার জুয়া খেলায় বসে ক্রমাগতভাবে হারতে থাকলেও দেখা যায় অপর জুয়াড়িদের কাছ থেকে ধারকর্জ করেও খেলা অব্যাহত রাখে। জুয়া খেলায় হার-জিত থাকায় উভয়টি সমন্বয় করলে দেখা যায়, বেশির ভাগের হারের পাল্লাই ভারী। অভ্যাসগত জুয়াড়িদের অনেকে জুয়া খেলতে গিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে, এমন নজির রয়েছে সর্বত্র। অভ্যস্ত জুয়াড়িদের মধ্যে অনেকে হেরে যখন শূন্য পকেটে ঘরে ফেরে, তখন তাদের স্ত্রীর ওপর চড়াও হতে দেখা যায়। এদের মধ্যে একটি অন্ধবিশ্বাস কাজ করে। তা হলো, তারা খেলায় মত্ত থাকাকালে স্ত্রীর অভিশাপের কারণে হারের ঘটনা ঘটেছে। আর তাই ঘরে ফিরে স্ত্রীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে হারের মনোব্যথা হালকা করার চেষ্টা করে। উল্লেখ্য, অভ্যাসগত জুয়াড়িদের খেলায় মত্ত থাকা সম্পর্কে তাদের স্ত্রীদের সম্যক ধারণা থাকে।

ছুটির দিন ও অবসর সময়ে যারা জুয়া খেলে, জুয়া খেলে এদের অনেকে শখের বসে। এদের মধ্যে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছে। এ ধরনের জুয়াড়িরা হারের মধ্য দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ খোয়ালে তাদের মাসের অবশিষ্ট সময়ে ধারকর্জ করে চলতে হয়।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে এক শ্রেণীর ছাত্রের মধ্যে জুয়া খেলার নেশা এত ব্যাপক যে, তারা সারা রাত জুয়া খেলে দিনের অধীক বেলা পর্যন্ত ঘুমায়। এভাবে দেখা যায়, ক্লাসে উপস্থিত হওয়া ও পড়ালেখার চেয়ে জুয়া খেলার প্রতি তাদের অধিক আগ্রহ। মেসে বসবাসকারী কিছু ছাত্রের মধ্যেও এ প্রবণতাটি লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ রয়েছে। এরা মেস বা বস্তি বা নিম্নভাড়ার বসতবাড়িতে থাকে। শ্রমজীবী মানুষেরও একটি অংশ এমনভাবে জুয়া খেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে যে, নিজ কাজ শেষে পছন্দমতো স্থানে এরা মত্ত হয় জুয়া খেলায়।

জুয়া খেলায় যিনি জেতেন, তিনি খেলাভেদে যে অঙ্কের টাকাকে ভিত্তি ধরে খেলাটি পরিচালিত হয় কমপক্ষে তার দ্বিগুণ অথবা কয়েক গুণ অধিক অর্থ পেয়ে থাকেন। আর যারা হারেন, তাদের ব্যয়ের সম্পূর্ণটাই খোয়া যায়।

জুয়া খেলা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ বিধায় গুনাহ বা পাপ হিসেবে গণ্য। একজন ঈমানদার মুসলিম সব সময় নিজেকে জুয়াসম্পৃক্ত খেলা থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট। বাংলাদেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও অধিক মুসলিম। জুয়া ইসলামে নিষিদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধানে এর নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ থাকায় আইনে খেলাটি শাস্তিযোগ্য হওয়ায় কোনোভাবে এ কথিত খেলাটিকে বাংলাদেশের কোনো স্থানে চলতে দেয়া যায় না। সাধারণত কেউ সময় কাটানোর জন্য অর্থের সম্পৃক্ততা ছাড়া এবং নিছক বিনোদনের উদ্দেশ্যে তাস খেললে সেটি জুয়ার পর্যায়ে পড়ে না। এ ধরনের ‘নির্দোষ’ তাস খেলা পারিবারিক পরিমণ্ডলে এবং বনভোজন, ভ্রমণ প্রভৃতি উপলক্ষে হয়ে থাকে।

জুয়াকে আরবিতে ‘আল-মায়সির’ বলা হয়। এমন খেলাকে মায়সির বলা হয় যা লাভ-ক্ষতির সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামের আবির্ভাবের আগে এবং নবী করিম সা:-এর দুনিয়ায় আগমনের সময় মক্কায় নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন ছিল। রাসূল সা: সবগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন। জুয়া সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সা: বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন। (বায়হাকি, হাদিস : ৪৫০৩, মিশকাত, হাদিস : ৪৩০৪)।

ইসলাম ধর্মে জুয়া ও বাজি ধরা স্পষ্টত হারাম (নিষিদ্ধ) হিসেবে ঘোষণা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। আদেশ দেয়া হয়েছে এগুলো থেকে দূরে থাকার। মদ ও জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজসহ আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়কে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না। (সূরা মায়িদা, আয়াত ৯০-৯১)।

কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় জেলা শহরের কিছু অভিজাত ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠন সংশ্লিষ্ট ক্লাবে হাউজির নামে এবং ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত উপকরণের সাহায্যে জুয়া খেলা চলে আসছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে রাজধানী ঢাকা শহরস্থ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ক্লাব থেকে ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত উপকরণ জব্দ করার পর এর মূল হোতাদের নগণ্য সংখ্যককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হেফাজতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈভবের সন্ধ্যান মিলেছে। এসব ব্যক্তির পরিচয় উদঘটিত হলে দেখা যায়, এরা রাজনীতিসংশ্লিষ্ট খুবই প্রভাবশালী। এদের পেছনে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট আরো প্রভাবশালী কারা জড়িত, সেটিও উদঘাটন করা জরুরি। তা ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ক্লাবে এ বেআইনি কাজ চলে আসছিল তার রহস্য উন্মোচন করা অত্যাবশ্যক।

আমাদের এ উপমহাদেশ ব্রিটিশদের শাসনাধীন থাকাকালে ১৮৬৭ সালে দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট প্রণীত হয়। ইংরেজি গ্যাম্বলিং শব্দটির প্রতিশব্দ ‘গেমিং’। উভয় শব্দের বাংলা অর্থ ‘জুয়া’। আইনটিতে গ্যাম্বলিং বা গেমিংয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, জুয়া নির্ধারিত দিন নির্ধারিত স্থানে অনুমোদিত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত ঘোড়দৌড় ব্যতীত বাজি বা পণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ আইনটির ৩ নং ধারায় সাধারণ জুয়ার আড্ডা বসে, এমন স্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বা রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তির দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, এরূপ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনূর্ধ্ব তিন মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আইনটির ৪ নং ধারায় এরূপ স্থানে জুয়া খেলারত অবস্থায় অথবা খেলার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে- এমন কাজের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব এক মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অনূর্ধ্ব ১০০ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর ৯২ নং ধারায় সড়ক বা উন্মুক্ত স্থানে জুয়া খেলার দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে- এরূপ স্থানে কেউ জুয়া খেলার জন্য জড়ো হলে অথবা জুয়া খেলারত অবস্থায় থাকলে তার অনধিক ১০০ টাকা অর্থদণ্ড হবে।
দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর কার্যকারিতা শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অনুরূপভাবে ঢাকার মতো অপরাপর যেসব শহরকে মেট্রোপলিটন শহর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব মেট্রোপলিটন শহরের জন্য অনুরূপ আইন কার্যকর করা হলে সেসব শহরের ক্ষেত্রেও দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ কার্যকারিতা প্রয়োগের সুযোগ রহিত হয়ে যায়।

আমাদের মূল দণ্ড আইন ‘দণ্ডবিধি’ একটি সাধারণ আইন। অপর দিকে দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এবং অপরাপর মেট্রোপলিটন শহরসংশ্লিষ্ট আইন হচ্ছে, বিশেষ আইন। সচরাচর বিশেষ আইন সাধারণ আইনের ওপরে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। আমাদের দণ্ডবিধি জুয়া খেলা বা এ খেলার সাথে সংশ্লিষ্টতার অপরাধের বিষয়ে নিশ্চুপ। তাই দণ্ডবিধিতে জুয়া খেলাকে অথবা জুয়া খেলার সাথে সংশ্লিষ্টতাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে কি হয়নি, এমন বিতর্ক অপ্রাসঙ্গিক।

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানেই বলা আছে- সংবিধান ও আইন মেনে চলা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। সংবিধানে জুয়া খেলা নিরোধে রাষ্ট্র কর্তৃক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উল্লেখ থাকায় এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করে সব ধরনের জুয়া খেলা, এর সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং এতে ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রীর আমদানি ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করে, এর ব্যত্যয়ে কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করাই অত্যাবশ্যক ছিল। কিন্তু দেশ ও জাতির দুর্ভাগ্য, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরবর্তী সময়ে প্রায় ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এ বিষয়ে কঠোর সাজার বিধান রেখে অদ্যাবধি যথাযথ ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হয়নি কিংবা প্রণয়নের উদ্যোগও নেয়া হয়নি।
আমাদের দেশে বর্তমানে অর্থের সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন ধরনের যে জুয়া খেলা হয়, তা এক দিকে অনৈতিক; অপর দিকে বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। আর তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আবশ্যিক কর্তব্য, এ ধরনের জুয়া খেলা যেন কোনোভাবে চলতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকা। কিন্তু তারা যথাযথভাবে সচেষ্ট নয় বলেই দুর্বল আইনের নামমাত্র সাজার ফাঁক-ফোকর গলিয়ে আজ দেশের সর্বত্র বাধাহীনভাবে জুয়া খেলা চলছে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: [email protected]


আরো সংবাদ