১৭ নভেম্বর ২০১৯

বন্ধুত্ব বনাম আপসকামিতা

-

সরকারদলীয় কোনো কোনো মন্ত্রীর (এমপি-নেতাসহ) মুখে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ইতোমধ্যে দেশবাসী দীর্ঘ দিন ধরে শোনে আসছে। ক্ষমতাসীন দলের গুণকীর্তনের কথাও জনগণ শুনছে। গণমানুষ এটাও জানতে পারল যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ক্যাসিনো চললেও সংবিধান নিষিদ্ধ ওই অপকর্মগুলো দায়িত্বশীল কর্তারা চোখে দেখেননি। যুক্তি হিসেবে এর পেছনে দু’টি কারণ হতে পারে। ০১. তারা (বাহিনী) ক্যাসিনো জুয়া সম্পর্কে জানতেন না। যদি তাই হয় তবে তারা ব্যর্থ, অনুপযুক্ত এবং অনেকে মতলববাজ। ০২. তারা (বাহিনী) জানতেন। কিন্তু কারো না কারো অথবা নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য ক্যাসিনোর ভাগ-বাটোয়ারা পেয়েই তা বিনা বাধায় চলতে দিয়েছেন। তবে গণমানুষ দ্বিতীয় যুক্তিটিই বিশ্বাস করছে, নিশ্চিত হয়ে এ কথা বলছি। ক্যাসিনো অভিযান এখন থমকে গেছে; এর মানে- যেভাবে গর্জে উঠেছিল, সেভাবে বর্ষেনি। পত্রিকার সংবাদ ও গণমানুষের গুঞ্জন থেকে শোনা যাচ্ছিল, ক্যাসিনো গডফাদাররা অভিযানের আওতায়। কিন্তু সে সংবাদভিত্তিক প্রত্যাশার ‘গুড়ে বালি’। শুধু একজন শীর্ষ নেতার ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ’ ও ‘বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা’ ছাড়া গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান মোতাবেক পদক্ষেপই গৃহীত হয়নি। মাত্র একজন গডফাদার কেরানীগঞ্জ টু হাসপাতাল, হাসপাতাল টু কেরানীগঞ্জ আসা যাওয়ার মাধ্যমে মিডিয়ার খোরাক হচ্ছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ভাটা পড়তেই বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। আবরার নিহত হয়েছেন সহপাঠীদের দ্বারা। সহপাঠীদের কোনো ক্ষতি তিনি করেননি। তার পরও তাকে নিহত হতে হয়েছে ফেসবুকে একটি গণতান্ত্রিক স্ট্যাটাস দেয়ার কথিত অপরাধে। কী ছিল সে স্ট্যাটাসে? পত্রিকার ভাষ্যে জানা যায়, সরকারের সাথে ভারতের মোদি সরকারের চুক্তির সমালোচনা করে, আবরার সে চুক্তিটিকে অসম দাবি করেছেন, বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন এবং যাতে বাংলাদেশ কোনো প্রকার লাভবান হয়নি বলে মন্তব্য রয়েছে। তার হত্যাকাণ্ডে যে নেতৃত্ব দিয়েছে সে ইস্কন নামক সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সদস্য (পত্রিকার ভাষ্যমতে)। মিয়ানমার বা ভারতের মতো বাংলাদেশ কোনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশের মানুষও অসাম্প্রদায়িক। তার পরও প্রিয়া সাহাদের মতো উগ্রবাদী গোঁড়া সাম্প্রদায়িক যারা মুসলমানবিদ্বেষী, তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ তুলছেন। অথচ অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। প্রসঙ্গত, চাকরি অথবা প্রমোশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য নেই, যেমনটি রয়েছে পাশের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে। অমিত সাহা ও প্রিয়া সাহার সেকুলার দাবি করা ধর্মাবলম্বীরা এখন রাষ্ট্রীয় বড় বড় জনগুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদায় আসীন রয়েছেন। তার পরও অভিযোগের কারণ হলো- মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশী কোনো মুসলমান যদি এ ধরনের অভিযোগ তুলতেন, তবে রাষ্ট্রবিরোধী অনেক মামলা তার ঘাড়ে চেপে বসত, যা প্রিয়া সাহার ব্যাপারে কার্যকর হয়নি। অবশ্য এ মর্মে দু-এক মন্ত্রীর লম্ফঝম্প খুবই চলছিল। এটা বিভ্রান্তিকর রাজনীতির হাস্যকর একটি বৈশিষ্ট্য বটে।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সাথে সাতটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশে একটি পার্লামেন্ট থাকলেও চুক্তির বিষয় সেখানে আলোচনা করা হয়নি। সব চুক্তির বিষয়বস্তু জনগণ জানতে পারেনি। যতটুকু জেনেছে তা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে। ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়া হয়েছে, অথচ তিস্তা নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের কান্নায়ও ভারতের বরফ গলেনি। তাই এ ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার অধিকার তো একজন নাগরিকের থাকাই স্বাভাবিক। তার পরও সাংবিধানিক তথা মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করাতেই সরকারি দলের তরুণদের হাতে আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে খুন হতে হলো। বিরোধী দল যে ভূমিকা রাখেনি, আবরার সে ভূমিকা রেখেছেন। এতে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্র নিয়ে যারা ভাবেন তাদেরও জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে।

বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার প্রাক্কালে লর্ড ক্লাইভ ও মীর জাফরের মাঝে চুক্তি হয়েছিল। সে চুক্তির সারমর্ম তখন জানা যায়নি, যখন জানা গেল এ ব্যাপারে, তখন ‘বাংলা’ ব্রিটিশদের পদতলে। বিশিষ্ট গবেষক জাতীয় আর্কাইভসের পদস্থ কর্মকর্তা মীর ফজলে আহমদ চৌধুরী তার গবেষণাগ্রন্থ ‘দলিলপত্রে পলাশীর যুদ্ধ’ গ্রন্থে ‘জাফর আলী খান ও ইংরেজদের মধ্যে চুক্তিপত্র’ শিরোনামের অধ্যায়ে বলেন, “মীর জাফর আলী খানের সাথে ইংরেজদের মোট তিনটি চুক্তি হয়। প্রথমটি গোপনে পলাশীর যুদ্ধের আগে এবং অন্য দুটি সিরাজউদ্দৌলার পতনের পরে ইংরেজরা মীর জাফরকে ‘নবাব’ ঘোষণার পর। ১০ মে গোপন চুক্তিটি ১৫ রমজান ১১৭০ হিজরি সনে সম্পাদিত হয়েছিল। এই চুক্তিটিতে ইংরেজি মাস বা তারিখের উল্লেখ নেই। তবে অনেকের মতে, এটি ১৭৫৭ সালে হয়েছিল। প্রথমে এই চুক্তিটিতে ১২টি শর্ত বা অনুচ্ছেদ ছিল। পরবর্তীকালে আরো একটি অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়।”

মীর জাফর আলী খানের সাথে সন্ধি : ১৭৫৭ ‘আমি আল্লাহ এবং আল্লাহর নবীর নামে শপথ করছি, যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এই সন্ধির শর্তাবলি মেনে চলব।’ (এই অংশটুকু মীর জাফর আলী খান নিজ হাতে লিখেছিলেন)। মীর মোহাম্মদ জাফর খান বাহাদুর বাদশাহ আলমগীরের সেবক। এ সন্ধিটি অ্যাডমিরাল এবং কর্নেল ক্লাইভ (সাবুদ জং বাহাদুর) গভর্নর ড্রেক এবং মি. ওয়াটের সাথে সম্পাদিত। যাতে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি সংযুক্ত ছিল। আর্টিকেল-১ : যেসব শর্ত, শান্তিকালীন সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মনসুর উলমূলক শাহ কুলি খান বাহাদুর, হায়বাত জংয়ের সময়ে সম্পাদিত হয়েছিল, আমি সেগুলো মানতে সম্মত আছি। আর্টিকেল-২ : ইন্ডিয়ান অথবা ইউরোপিয়ান যেই হোন, যারা ইংরেজের শক্র, তারা আমারও শক্র। আর্টিকেল-৩ : বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যায় ফরাসিদের যেসব ফ্যাক্টরি এবং অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে সেগুলো ইংরেজদের দখলে যাবে। আমি কখনোই তাদের ওই তিনটি স্থানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেবো না। আর্টিকেল-৪ : নবাব কর্তৃক কলকাতা দখল ও লুণ্ঠনের ফলে ইংলিশ কোম্পানির যে ক্ষতি হয়েছে এবং সেজন্য সৈন্যদলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা বিবেচনা করে আমি এক কোটি টাকা প্রদান করব। আর্টিকেল-৫ : কলকাতায় বসবাসকারী ইংরেজদের যেসব মালামাল লুণ্ঠন করা হয়েছে, সেজন্য আমি ৫০ লাখ টাকা দিতে সম্মত হলাম। আর্টিকেল-৬ : কলকাতায় বসবাসকারী সুধীজন, মুসলমান এবং অন্যান্য ব্যক্তির যাদের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। আর্টিকেল-৭ : কলকাতায় বসবাসকারী আরমেনিয়ান যাদের সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে, তাদের জন্য আমি সাত লাখ টাকা প্রদান করব। বরাদ্দকৃত অর্থ অ্যাডমিরাল এবং কর্নেল ক্লাইভ (সাবুদ জং বাহাদুর) দেশীয়, ইংরেজ, সব সুধীজন এবং মুসলমানদের মধ্যে বিতরণ করবেন এবং বাকি অর্থ কাউন্সিল যাকে উপযুক্ত মনে করবে তাকে বণ্টন করবেন। আর্টিকেল-৮ : কলকাতার চার দিকে যে খাদ আছে, সেগুলো বেশ কয়েকজন জমিদারের দখলে। আমি ইংরেজ কোম্পানিকে খাদ্য ব্যতীত ছয় শ’ গজ জমি প্রদান করব। আর্টিকেল-৯ : কলকাতার দক্ষিণ দিকে কলপি পর্যন্ত যে পরিমাণ ভূমি আছে, সেগুলো ইংরেজ কোম্পানি, জমিদারির অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সেখানকার সব কর্মকর্তা তাদের অধীনস্থ হবে। অন্যান্য জমিদারের মতো তারাও (অর্থাৎ কোম্পানি) একইভাবে রাজস্ব প্রদান করবে। আর্টিকেল-১০ : গঙ্গা নদীর নিকটবর্তী হুগলিতে আমি কোনো নতুন দুর্গ নির্মাণ করব না। আর্টিকেল-১১ : প্রদেশ তিনটিতে সরকার প্রতিষ্ঠা করার সাথে সাথেই যথাসম্ভব শিগগিরই আমি উপরি উক্ত অর্থ বিশ্বস্ততার সাথে প্রদান করব। ১৫ রমজান চতুর্থ বর্ষ রাজস্বকাল। (এই ১১টি অনুচ্ছেদ সম্পাদিত হওয়ার পর আরো একটি অতিরিক্ত শর্ত সংযুক্ত করা হয়)। আর্টিকেল-১২ : এই অনুচ্ছেদ বা আর্টিকেলগুলো হলো যে, মীরজাফর আলী খান বাহাদুর শর্তাবলি শপথ করে নিশ্চিত এবং বাস্তবায়িত করবেন। সম্মানিত ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছে যে, আমরা আমাদের শক্তি দ্বারা মীর জাফর খান বাহাদুরকে বাংলা বিহার উড়িষ্যা প্রদেশের সুবেদার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সাহায্য করব এবং তার সব ধরনের শক্রদের বিরুদ্ধে যখনই তিনি সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাবেন, তখনই সর্বাত্মক সাহায্য করব। উপরি উক্ত অনুচ্ছেদ বা শর্তাবলি তখনই কার্যকর হবে যখন তিনি নবাব হবেন (সূত্র : অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব প্রণীত ‘সুবে বাংলার সিপাহসালার বেঈমান মীর জাফর আলী খান’ বইয়ের পাতা ১১-১২)।

মীর জাফর আলী খা নবাব আলীবর্দী খাঁর শুধু ভগ্নিপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রধান সেনাপতি। সেই সেনাপতি দেশপ্রেম দেখাতে পারেননি, যা দেখাতে পেরেছেন বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ। চুক্তির সব শর্ত জানা, দেখার এবং আলোচনা-সমালোচনার অধিকার প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের রয়েছে। যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিক নয় সে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করার অধিকার নেই। কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক অবশ্যই একটি সংবিধানের আওতাভুক্ত। সংবিধান হলো একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তিনামা যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনাসহ নাগরিকদের মতপ্রকাশের সব অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে। সে অধিকার প্রয়োগে যে সরকার বাধা সৃষ্টি করে সে সরকারই স্বৈরাচারী। আবরার হত্যার প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলের আগেই ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিএনপিকে কুষ্টিয়াতে তার কবর জেয়ারত করতে দেয়া হয়নি, যদিও কবর জেয়ারত করা প্রতিটি মুসলমানের অধিকার। সরকার দলীয়রা আবরারকে জামাত-শিবির বানানোর চেষ্টা করছে। যদি সে শিবির হয়ে থাকে, বুয়েটের ছাত্র নামধারী কেউ জল্লাদের ভূমিকায় কি অবতীর্ণ হতে পারে? বিশ্ববিদ্যালয় কি মানুষ হত্যার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র? শিবির হত্যার ব্যাপারে যদি সরকার বা সরকারের কোনো অংশের বা আর কারো প্রশ্রয় থাকে তবে এ হত্যার বিচার হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেবে। ডিএমপির বক্তব্য নিয়ে আরো ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আবরার হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত, বুয়েটের চার ছাত্রের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘তারা শিবির সন্দেহে আবরার’-কে ডেকে নিয়ে মারধর করেছিল। হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে মারধর করা হয়েছে, না কি মারধরের জন্য মারধর করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে (সূত্র : জাতীয় পত্রিকা ১৫/১০/২০১৯)। ডিএমপি কমিশনারের হত্যা সম্পর্কিত উল্লিখিত আইনি ব্যাখ্যাই প্রশ্ন তোলে, এ হত্যার বিচারের ব্যাপারে সরকার কতটুকু আন্তরিক?

‘সরকার’ আর ‘জনগণ’ এক নয়। চুক্তিটি সরকার না জনগণের স্বার্থে সম্পাদিত হয়েছে, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান বিশ্বে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কেউ কারো স্থায়ী বন্ধু নয়। বরং সম্পর্কটি নির্ভর করে স্বার্থগত সঙ্ঘাত (Conflict) অথবা স্বার্থগত আপসের (Compromise) ওপর। আমার মত এই যে, There is no friendship in relations state to state of. But the relationship is related to compromise or conflict. বাংলাদেশ সরকার ভারতের সাথে conflict এ জড়াতে চায়নি বলেই Compromise করছে। ফলে ফেনী নদীর পানি দিয়েছে, কিন্তু তিস্তা নদীর পানি আনতে পারেনি। অন্য দিকে, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এমনিতেই প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। কনটেইনার জটে পড়ে পণ্য নিয়ে খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে দিনের পর দিন। নতুন করে ভারতীয় পণ্য খালাসের জন্য চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করা হলে শত শত দেশী ব্যবসায়ী পথে বসবেন এবং নিত্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনুমান, একই বন্দর ব্যবহার করা হলেও ভারতীয় ব্যবহারকারীরা ভিআইপি মর্যাদা পাবেন এবং এর মাধ্যমে দেশী ব্যবহারকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে (জাতীয় পত্রিকা ১৪/১০/২০১৯)। ভারতের সাথে সরকারের এ Compromise কি শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে?

ভারতের সাথে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তির সমালোচনা করে আবরার ফাহাদ নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে, এক জেলার শাসকদলীয় নেতা বহিষ্কার হয়েছে। চুক্তির বিষয়ে সমালোচনায় সরকারি দল নাখোশ হওয়ায় সরকারের আঁতে ঘা লাগার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এ বিষয়ে যদি সরকারের স্বচ্ছতা থাকে তবে চুক্তির বিষয়াদি জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করা উচিত, নতুবা সন্দেহের বেড়াজালে সরকারকেই পড়তে হবে।

লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)
[email protected]


আরো সংবাদ

মাঠ সংস্কার উদ্বোধনে হাজী সেলিম অনুসারীদের হট্টগোল! চারুকলায় উৎসবে নবান্নকে বরণ ‘সুস্থ জীবনযাপনে মহানবীর জীবন অনুসরণের বিকল্প নেই’ খেলার মাঠগুলোকে বিশ্বমানের করা হচ্ছে : সাঈদ খোকন কেরানীগঞ্জেই হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার এমপি পদ ও পরিবহনের শীর্ষ পদ থেকে বহিষ্কার দাবি ঐক্যলীগের নতুন বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে : জি এম কাদের রাস্তা প্রশস্ত করার খবরে মুগদাবাসীর উদ্বেগ তাঁতি দলের আলোচনা সভা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারই জড়িত : গয়েশ্বর সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান স্পিকারের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা

সকল