১৯ নভেম্বর ২০১৯

বিচারকদের স্বাধীনতা

-

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের একটি অন্যতম অঙ্গ। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ উচ্চাদালত ও অধস্তন আদালত সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতকে সুপ্রিম কোর্ট বলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নামক পৃথক দুটি বিভাগ রয়েছে। আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ ক’জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত হবে সে বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্টরূপে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। আপিল বিভাগ একক বেঞ্চ সমন্বয়ে গঠিত হলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ওই বেঞ্চ পরিচালিত হয়। আপিল বিভাগে একের অধিক বেঞ্চ গঠনের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম তার নেতৃত্বে বেঞ্চ পরিচালিত হয়। হাইকোর্ট বিভাগ একাধিক বেঞ্চ সমন্বয়ে গঠিত।

এর কোনো কোনোটি দ্বৈত বেঞ্চ এবং কোনো কোনোটি একক বেঞ্চ। দ্বৈত বেঞ্চ দু’জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত এবং এ দু’জনের যিনি কর্মে প্রবীণতম তিনি বেঞ্চ পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। বিশেষ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সময় সময়ে তিনজন বিচারক সমন্বয়ে হাইকোর্ট বিভাগে বেঞ্চ গঠন করা হয়। এ ধরনের বেঞ্চকে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলা হয়। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ক্ষেত্রেও যিনি কর্মে প্রবীণতম তার নেতৃত্বে বেঞ্চ পরিচালিত হয়।

প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চাদালতের বিচারকদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তার একক সিদ্ধান্তে নিয়োগ কার্য সমাধা করতে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেও আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য সমাধা করতে হয়।

প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারক, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পরবর্তী শপথ পাঠ ব্যতিরেকে একজন বিচারক পদে আসীন হন না। উপরে উল্লিখিত প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রেই পৃথকভাবে শপথ পাঠ করতে হয়। প্রধান বিচারপতির শপথ পাঠ রাষ্ট্রপতি পরিচালনা করেন; অপর দিকে, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের শপথ পাঠ প্রধান বিচারপতি পরিচালনা করেন।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রথমত দু’বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এ দু’বছর কালের কার্য সন্তোষজনক হলে প্রধান বিচারপতি একজন বিচারককে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে থাকেন; তবে সবসময় এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ যে মেনে চলা হয় এমন দাবি সঠিক নয়। সংবিধানে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের নির্ধারিত শপথের বিষয় উল্লেখ থাকলেও হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারকের শপথের বিষয়টি অনুল্লিখিত; যদিও হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারকগণ নিয়োগ পরবর্তী সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদের বিধানাবলির আলোকে শপথ পাঠ করেন।

প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নামে অভিহিত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ে সংবিধানে যে যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে, প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত কোনো যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ নেই। একজন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন দশ বছর তার ওকালতির অভিজ্ঞতা থাকলে অথবা অধস্তন বিচার বিভাগের কোনো পদে অন্যূন দশ বছর অধিষ্ঠিত থাকলে তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়।

সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অপরাপর যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ থাকলেও অদ্যাবধি আইনের মাধ্যমে এরূপ কোনো যোগ্যতা নির্ধারিত না হওয়ায় নিয়োগ দেয়ার সময় উপরোল্লিখিত অনুচ্ছেদে বর্ণিত যোগ্যতা ছাড়া অপরাপর যোগ্যতা বিশেষত শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেয়া হয় না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের নি¤œতম পদ হলো অধঃস্তন বিচার বিভাগের সহকারী জজের পদ। ম্যাজিস্ট্্েরট নামক স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিশিষ্ট কোনো পদ নেই। বর্তমানে প্রারম্ভিক পর্যায়ে যারা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরূপে কর্মরত তাদের প্রকৃত পদ হলো সহকারী জজ। ১ নভেম্বর ২০০৭ সাল পূর্ববর্তী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ দেয়া হতো। সহকারী জজ ও সহকারী কমিশনার পদে নিয়োগ লাভের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হলে একজন প্রার্থীকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ¯œাতক এ তিনটি পরীক্ষার প্রতিটিতে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রিধারী হতে হয়, যদিও সহকারী জজ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনে স্নাতক, আইনে সম্মান অথবা এলএলএম ডিগ্রিধারী হতে হয়।

বিচার বিভাগের নি¤œতম পদে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার বিষয় উল্লেখ থাকায় এর চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কোনোভাবেই উচ্চাদালতের বিচারক পদে নিয়োগ দেয়া সমীচীন নয়। যদিও দীর্ঘ দিন যাবৎ কারো কারো ক্ষেত্রে এ বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, সংবিধানে উচ্চাদালতের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যে নিয়ম তা হলো- উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্নরা নি¤œতর যোগ্যতাসম্পন্নদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করবেন।

অধঃস্তন বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্ট এ জেলা জজের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- জেলা জজ আদি অধিক্ষেত্রের মুখ্য দেওয়ানী বিচারক। একজন জেলা জজকে দায়রা জজের ক্ষমতা অর্পণ করা হলে তিনি জেলা ও দায়রা জজ নামে অভিহিত হন। জেলা জজের অব্যবহিত নিচের পদটি হলো অতিরিক্ত জেলা জজ। জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজের বিচারিক এখতিয়ার সমান হলেও জেলার দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা জজের ওপর প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। এ প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে জেলায় জেলা জজের নি¤œতর পদে কর্মরতদের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে প্রতিটি জেলায় জেলার দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা জজ পদধারী একাধিক বিচারক বিশেষ আদালতে জেলা জজ নামে অভিহিত পদে কর্মরত রয়েছেন, যদিও জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্ট এর সংজ্ঞানুযায়ী একটি জেলায় একের অধিক ব্যক্তিকে জেলা জজ পদে পদায়নের সুযোগ অনুপস্থিত।

জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজের বিচারিক ক্ষমতা সমান হওয়ার কারণে এ ধরনের বিশেষ আদালতে পদায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা জজ পদধারীদের বিবেচনা করা হলে আইনগত জটিলতা পরিহার সম্ভব। অতিরিক্ত জেলা জজদের দায়রা জজের ক্ষমতা অর্পণ করা হলে তারা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নামে অভিহিত হন। অতিরিক্ত জেলা জজের অব্যবহিত নিচের পদ হলো যুগ্ম জেলা জজ। যুগ্ম জেলা জজদের দায়রা ক্ষমতা অর্পণ করা হলে তারা যুগ্ম জেলা ও যুগ্ম দায়রা জজ নামে অভিহত হন। যুগ্ম জেলা জজের অব্যবহিত নিচের পদ হলো সিনিয়র সহকারী জজ এবং সিনিয়র সহকারী জজের নিচের পদ হলো সহকারী জজ, যেটি অধঃস্তন বিচার বিভাগের প্রারম্ভিক পদ।

প্রতিটি মেট্রোপলিটন শহরে মেট্রোপলিটন দায়রা জজের পদ রয়েছে। মেট্রোপলিটন দায়রা জজের অব্যবহিত নিচের পদগুলো হলো মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত দায়রা জজ ও মেট্রোপলিটন যুগ্ম দায়রা জজ। তাছাড়া মেট্রোপলিটন শহরে মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা জজ পদধারীদের মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্্েরট পদে পদায়ন করা হয়। মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অব্যবহিত নিম্নের পদ হলো অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। যুগ্ম জেলা জজ পদধারীদের অতিরিক্ত মুখ্য ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়। অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিচের পদ হলো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্্েরটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত। সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়।

প্রতিটি জেলা শহরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পদ রয়েছে। এ সব ম্যাজিস্ট্রেট মেট্রোপলিটন এলাকাবহির্ভূত অঞ্চল হতে উদ্ভূত মামলার বিচার করে থাকেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এর অব্যবহিত নি¤েœর পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুসৃত বিধান চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও তদ অব্যবহিত নি¤œতর ম্যাজিস্ট্রেটের পদে নিয়োগের বিধানের অনুরূপ।

উচ্চাদালতের বিচারকদের স্বাধীনতা বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে- সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারকগণ বিচার কার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। সংবিধান প্রণয়নকালীন সংবিধানে এ বিধানটি সন্নিবেশিত হয় এবং এটি কখনো কোনো ধরনের সংশোধনের আওতায় আসেনি। উচ্চাদালতের বিচারকদের মতো অধস্তন আদালতের বিচার কার্যে নিয়োজিত বিচারক ও ম্যাজিস্ট্্েরটদের বিষয়ে সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে- সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে বিচার কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচার কার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। বিচার কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার কার্যে নিয়োজিতকালীন স্বাধীনতার বিষয়টি সংবিধান প্রণয়নকালীন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এটি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া পরবর্তী আজো অক্ষুণœ রয়েছে।

আমাদের সংবিধানে উচ্চাদালত ও অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে স্বাধীন থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত অর্থেই উভয় ধরনের আদালতে নিয়োজিত বিচারকেরা সব ধরনের মামলার বিচার কার্য পরিচালনায় স্বাধীনতা ভোগ করেন কি না, এ প্রশ্নটি বিভিন্ন সময়ে আসতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তাদের আকাক্সক্ষার বিপরীতে সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে বিচারকেরা বিভিন্নভাবে হয়রানি, নাজেহাল ও নিপীড়নের সম্মুখীনসহ পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন অপরদিকে ক্ষমতাসীনদের আস্থাভাজন হয়ে যে সকল বিচারক তাদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী বিচার কার্য সমাধা করেছেন তাদের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠদের অতিক্রান্ত করে অতিমূল্যায়নের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেছে। এরূপ হয়রানি, নাজেহাল, নিপীড়ন ও পদোন্নতি বঞ্চনা থেকে প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ ও অধঃস্তন আদালতের অনেকেই নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি।

যে অর্থে সংবিধানে উচ্চাদালত ও অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের বিচার কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকার কথা বলা হয়েছে তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে যে বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো উচ্চ ও অধস্তন আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্নদের নিয়োগ দান। অতীতে প্রতিটি সরকার বেশির ভাগ নিয়োগদানের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে তার দলীয় রাজনীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

এর ফলে প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চাদালতের আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিকবার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষ হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক, স্থায়ী বিচারক এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক অধঃস্তন আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতদুষ্টতা ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রাধান্য পাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্নরা বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যের প্রকাশ ঘটেছে। এ ধারাটি অব্যাহত থাকলে বিচারকদের বিচার কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকার বিষয়টি নিছক পুস্তকের আবদ্ধ বাণী হিসেবে ন্যায়কে সমুন্নত করার পথে অন্তরায় হিসেবে হৃদয়ের রক্তক্ষরণে নিষ্প্রভ হয়ে থাকবে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
E-mail: [email protected]


আরো সংবাদ

সকল