১২ ডিসেম্বর ২০১৯

বাবরি মসজিদ মামলার রায় : আশঙ্কা যে কারণে

-

বাবরি মসজিদ মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের অনুমতিসংবলিত যে রায় দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতেরই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকায় (৯ নভেম্বর, ২০১৯) তিনি বলেন, কেন এমন রায় দেয়া হলো তা তিনি ভেবে পাচ্ছেন না। চার-পাঁচশ’ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মসজিদ ২৭ বছর আগে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ভেঙে দেয়া হলো। এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে মন্দির হবে। এই ঘটনা দেশের সংবিধানের ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ার অবস্থা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তার আশঙ্কা, এই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এরকম কাণ্ড আরো ঘটানো হবে। অশোক কুমার বলেছেন, বিতর্কিত জায়গায় মন্দির ছিল না বলে আদালত মেনে নিয়েছে। ফলে সেখানে মন্দির নির্মাণ করতে দেয়ার পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। পুরাতাত্ত্বিক বিভাগও মন্দিরের কোনো প্রমাণ পায়নি। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, আদালতের রায়ের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, কোনো প্রমাণ নয়। রাম শুধু মহাকাব্যে রয়েছেন। সেই সূত্রে অনেক মানুষের মনে একটা বিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের বলে একটা মসজিদের জমি মন্দিরকে দিয়ে দেয়া যেতে পারে না।

অবসরপ্রাপ্ত এই ভারতীয় বিচারপতি অনেক বিজ্ঞ। তার প্রশ্নগুলো যথার্থ এবং রায় দেয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টের এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করি। কিন্তু আমার মনে আরেকটি যে প্রশ্ন জেগেছে, তা হলো আমরা কি সভ্য হচ্ছি নাকি বর্বরতার পথে অগ্রসর হচ্ছি, আমরা কি মানবিক হচ্ছি, নাকি অমানবিক বর্বর হয়ে যাচ্ছি? এটাই কি সভ্যতার লক্ষণ? আমরা কি সভ্যতার সমাপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছি? অযোধ্যা মামলার রায় প্রদানের সাথে জড়িত ভারতীয় বিচারকদের সম্পর্কে আমার একটি উপলব্ধি হয়েছে। সেটি হলো, ইসলামিক আইন সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত বলেই মনে হয়েছে। তারা যদি ইসলামের যুদ্ধরীতি এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কর্তব্যের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে, সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখতেন, তাহলে তাদের পক্ষে এ ধরনের একটি রায় দেয়া সম্ভব হতো না। এরই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি, যারা বিচারকের আসনে বসবেন তাদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে শুধু কেতাবি জ্ঞান দিয়ে প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করা যায় না।

চাকরিসূত্রে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তান যাওয়ার পর মানুষ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এরপর পিএইচডি সূত্রে আমেরিকা এবং পরবর্তীকালে শিক্ষকতা ও আইডিবির চাকরির সুবাদে বিশ্বের বহু দেশে, অসংখ্য মানুষ ও বহু সম্প্রদায়ের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। ৩৩ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই পুরো সময়টি আমার কেটেছে দেশের বাইরে, ভিনদেশী সমাজ ও সংস্কৃতির মানুষের সাথে মিশে। শ্বেতাঙ্গদের যেমন দেখেছি, তেমনি আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের সাথেও মিশেছি। আরব সংস্কৃতি দেখেছি; তেমনি পাপুয়া নিউগিনির মতো দেশে আদিম সমাজ ও অর্থনীতি কেমন হতে পারে, সেটিও দেখেছি। শুধু দেখা নয়, এগুলো নিয়ে পড়াশোনা ও লেখালেখির সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুবাদে অনেক দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ানো এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। সেখান থেকে আমার যে প্রধান উপলব্ধি হয়েছে তা হলো- ইউনিটি অব ম্যানকাইন্ড। মানুষকে মানুষের ভালোবাসতে হবে। যদি মানুষকে ভালোবাসতে না শেখ তাহলে তোমার যেকোনো রায়, তা বিচারিক বা রাজনৈতিক রায়- যেটিই হোক না কেন, সেটি ভ্রান্ত হতে বাধ্য। মানুষকে না চিনলে তার ব্যাপারে রায় কিভাবে দেবে?

আমার মেয়ে তখন লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্সে ভর্তি হয়েছে, ক্যান্টারবুরিতে তার ক্যাম্পাস। এখনো সেখানে একটি হল রয়েছে একান্তভাবে মেয়েদের জন্য যা ক্যান্টারবুরি হল নামে পরিচিত। ছুটির সময় স্ত্রীকে নিয়ে মেয়েকে দেখতে সেখানে গেছি। হলের এমনই নিয়ম ছিল যে, রুমগুলোর চাবিতে ব্ল্যাক ট্যাগ দেয়া থাকত। এর মানে হলো তার সাথে কেউ দেখা করতে পারবে না। হলের অ্যাটেনডেন্ট চাবির দিকে তাকিয়ে বলে দিতে পারত, কোন মেয়ের জন্য কোন নিয়ম প্রযোজ্য। এমনো দেখা গেছে, অনেক মেয়ের সাথে বাইরের কেউ তো দূরের কথা, বাবা-মাকেও দেখা করতে দেয়া হতো না। কে কে দেখা করতে পারবে, তার তালিকা থাকত অভ্যর্থনা কাউন্টারে। ব্রিটেনের মতো পশ্চিমা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র আমরা যাদেরকে বলি- তেমন একটা দেশে এটা কি কল্পনা করা যায়? এর কারণ হলো, তারা বিভিন্ন সমাজকে ভালোভাবে বুঝেছিল। ওই হলে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি যেকোনো ধর্মের মেয়ে থাকতে পারে। সারা বিশ্ব থেকে, কমনওয়েলথভুক্ত অনেক অনুন্নত দেশ থেকে তারা এসেছে। ব্রিটিশরা জানে, বেশির ভাগ সমাজেই পরিবারকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। মুসলিম তো বটেই, হিন্দু সমাজেও পরিবারের গুরুত্ব কম নয়।

এর বিরুদ্ধে তখন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছিল। ছাত্রদের যুক্তি ছিল, আমরা যখন হলে জায়গা পাচ্ছি না, তখন শুধু মেয়েদের জন্য হল কেন রাখা হবে, সেখানেও ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি ও আমার স্ত্রী যখন মেয়েকে দেখতে গেলাম, একটি রুমে নিয়ে ওয়ার্ডেন আমাদের বসিয়েছিল। তার সাথে আলাপচারিতার একপর্যায়ে আমি বললাম, তোমাদের এই সিস্টেম দেখে আমরা খুশি। তোমরা এভাবে মেয়েদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করো। আমরা মুসলমানরাও এটা করি। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলগুলোতে এমন বাধ্যবাধকতা থাকে। সে বলল, কিছু ছাত্র বিক্ষোভ করছে। তাদের দাবি মেনে নেয়া হলে এই ব্যবস্থা আর থাকবে না। তখন সে আমাকে অনুরোধ করল, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সিনেটের কাছে একটি চিঠি লেখার জন্য, যেন এই হলের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা না হয়। তার অনুরোধে চিঠি লিখেছিলাম। তাতে আমি লিখি যে, বিশ্বে যত ঔপনিবেশিক শক্তি ছিল, তাদের মধ্যে শুধু ব্রিটিশরাই বিভিন্ন সমাজের মধ্যে বৈচিত্র্যের বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। একসময় ব্রিটিশ শাসনে ‘সূর্য অস্ত যেত না’। আজো কমনওয়েলথভুক্ত ৫৩টি দেশ ব্রিটেনের রানীকে তাদের রানী বলে মনে করে। বহু দেশ শাসন করার তাগিদেই তাদেরকে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি বুঝতে হয়েছিল। ক্যাথলিক বা কোনো কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হয়তো এমন ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সর্ব সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে এমন কোথাও এ ধরনের ক্যাম্পাস নেই। ব্রিটিশরা ভারতের জন্য যে আইন করেছিল, ফিজিতে গিয়েও সেই আইন দেখেছি। মালয়েশিয়ার জন্যও একই আইন ছিল। আফ্রিকার জন্যও সেটাই। তারা বহু সংস্কৃতির সাথে মিশেছে। ফলে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের গুরুত্বটি অনুধাবন করতে পেরেছে।

তাই আমার মনে হয়, আমাদের বিচারক ও রাজনীতিবিদদের মানব প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিত। বিশেষ করে যারা বিচারক হবেন, তাদের জন্য এ বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে এ ব্যাপারে ‘গ্রুম’ করার জন্য কিছু সময় দেশের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করা উচিত। ব্রিটেনে এই সংস্কৃতি এখনো রয়েছে। ব্রিটিশ প্রিন্সকে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। একটি সমাজকে বোঝার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।

আমরা সাধারণত একটি গণ্ডির মধ্যে থাকি। আমাদের জীবনের শিক্ষার জন্য, বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য দেশ ভ্রমণ করা উচিত। মানুষকে জানার জন্য বিভিন্ন সমাজ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বিশেষ করে যারা আমাদের নেতা, রাজনীতিবিদ কিংবা বিচারক রয়েছেন তাদের বিভিন্ন দেশ সফর করা উচিত। এর মাধ্যমে তারা সমাজের অন্তর্নিহিত দর্শনগুলো অনুধাবন করতে পারবেন। তাহলে দৃষ্টিভঙ্গি অনেক প্রসারিত হবে। বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে যে বিচারপতি বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি বিরাট পণ্ডিত মানুষ। আমি আইনজ্ঞ নই। ফলে এগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করা আমার উচিত হবে না। আমি বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছি। আমরা মানুষকে চিনতে ব্যর্থ হচ্ছি। ইউনিভার্সাল ব্রাদারহুড অব ম্যানকাইন্ড- এ বিষয়টিকে আমরা ভুলে যাচ্ছি।

মানবতাকে অনুধাবনের জন্য একটি দিক তুলে ধরেছি। আর, বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন সাংবিধানিক মূল্যবোধ নিয়ে। বাবরি মসজিদের বয়স যাই হোক না কেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা বিদায় নেয়ার সময় ভারত স্থাপনাটিকে মসজিদ হিসেবেই গ্রহণ করেছিল। ভারতের সংবিধানে এই মূল্যবোধকে স্বীকার করা হয়েছিল। মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানেই দেয়া হয়েছে। বিচারপতি অশোক কুমারের পর্যবেক্ষণের সাথে যে কেউ একমত হবেন। বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তো রায় দেয়া যায় না। তোমার একটি বাড়ি আছে। আমি গিয়ে বললাম, তোমার বাড়ির নিচে আমার দাদা ঘর করে গেছে ১০০ বছর আগে। তাই এখন লোকজন নিয়ে ঘর ভেঙে দেশ, যেহেতু দাদার ঘর ছিল, তাই বাড়িটা আমার। কিন্তু এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না।

এখানে যে জিনিসটি উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করি সেটি হলো- মানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি বোঝার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের গুরুত্ব। শুধু ভারতীয় বিচারকদের জন্যই নয়, সব দেশের বিচারকদের জন্যই এটা প্রয়োজন। যারা মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন- মানুষের তৈরি সংবিধান অনুযায়ী তাকে আমরা সুপ্রিম কোর্ট বলি। মুসলমান হিসেবে আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি। কিন্তু দুনিয়াতে এসব আদালতই কাউকে ফাঁসি দিচ্ছে, আর কাউকে রেহাই দিচ্ছে। তাই কাজটি করার জন্য এর বিচারকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তাদেরকে গড়ে তোলা দরকার। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সার্বজনীন। শুধু ভারতীয় নয়, সাধারণভাবে সব বিচারকের ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাউকে এনে বিচারকের আসনে বসিয়ে দিলে তার কাছ থেকে ন্যায্য বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিদের রায়ের মধ্যে নানা অসঙ্গতি দেখা যায়।

ইতঃপূর্বে এই কলামের লেখায় আমি বলেছি, ভারত হলো মানব সভ্যতার মিলনমেলা। এখানে বিচিত্র সংস্কৃতির লোকজনের বাস। এসব সংস্কৃতিকে অনুধাবন করার একটি বিষয় রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে যেসব সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ইসলামী সংস্কৃতি উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে আছে। আমরা যদি ইসলামিক ল অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স বিবেচনা করি, তাহলে মুসলিম শাসক হিসেবে সম্রাট বাবর মন্দির ভেঙে তার উপর মসজিদ নির্মাণ করবেন- সেটি অবিশ্বাস্য। এমনটা ঘটেনি বলেই আমার বিশ্বাস। ইসলামে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় এমনকি যুদ্ধের সময়ও ধ্বংস করতে যে, কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, সে কথা আমরা জানি। আল কুরআনে এ ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। তেমনি হাদিসেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু কোনো বিশ্বাস নয়, এটা মান্য করা বাধ্যতামূলক। তাই মন্দির ভাঙার বিষয়টি বাবরের চরিত্রের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করি, যেটা তার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

ভারতে মসজিদ ভাঙা হয়েছে মন্দির তৈরি করার জন্য। বিচারপতি মসজিদ ভাঙাকে অন্যায় বলে সেখানে আবার মন্দির তৈরির অনুমতি দিয়ে কেমন ন্যায়বিচার করলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আশোক গাঙ্গুলি। বাংলাদেশের কোথাও মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে বলে জানা নেই। কারণ ইসলাম কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙাই অনুমোদন করে না। ইতিহাসের সর্বযুগের সব দেশের মুসলিম শাসকরা এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। যদি তা না হতো, তাহলে এই ভারতীয় উপমহাদেশ আট শ’ বছর মুসলমানরা শাসন করার পর আর কোনো ধর্মের অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। অথচ মুসলিম রাজা-বাদশাহদের দরবারে ভিন্ন ধর্মের মানুষ উচ্চ পদে, উচ্চ মর্যাদায় আসীন ছিলেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এই মূল্যবোধকে আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড; সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা
[email protected]


আরো সংবাদ