২৬ মার্চ ২০১৯

নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর - ছবি : সংগৃহীত

নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৃহস্পতিবার রেডিও পাকিস্তানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। মূলত পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ভিসানীতি সহজ করার প্রথম পদক্ষেপে সরকার তুরস্ক, চীন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে আরো ১৭০টি দেশে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ৯০টি দেশের নাগরিকদের বিজনেস ভিসা দেয়া হবে। অন্যদিকে ৫৫ টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দেয়া হবে। বর্তমানে পাকিস্তানে ২৪টি দেশের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে।

ইতোমধ্যে করাচি ও লাহোর বিমানবন্দরে যাত্রী শনাক্তকরণে বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। অচিরেই দেশটির অন্যান্য বিমানবন্দরেও এ সুবিধা সংযোজন করা হবে।

পাকিস্তান সরকার বিদেশী সাংবাদিক বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর সাংবাদিকদের জন্যও ভিসানীতি প্রণয়ন করছে। এর দ্বারা তারা বিশ্বের অন্য দেশেও পাকিস্তানী সাংবাদিকদের যাতায়াত সহজ হবে বলে আশা করছে।

ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ভারতের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে যেসব সাংবাদিক ভারত যেতে ইচ্ছুক তাদের ভিসা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারত কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেবে পাকিস্তান। সূত্র : ডন

আরো পড়ুন : নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য মনে করেন না ইমরান
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ০৪ মার্চ ২০১৯, ১৬:২১

দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রায় থেমে গেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সিদ্ধান্তে। পুরোটা হয়তো থেমে যায়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে।

যেখানে বলা হচ্ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরেকটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে, সেখানে একেবারে ভিন্ন পরিস্থিতি। আর যেহেতু ইমরান খানের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে ঘুরে গেছে, তাই ইমরানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার দাবি উঠে বিভিন্ন জায়গা থেকে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টেও প্রস্তাব আনা হয়েছে।

বিষয়টি আরো বড় হওয়ার আগে নিজেই রাশ টেনে ধরেন ইমরান খান। টুইটারে তিনি বলেন, ‘আমি নই, যিনি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছিলেন, তিনিই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবিদার।’

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলোকে ধাওয়া করতে গিয়ে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে বিধ্বস্ত হয় ভারতের দুটি মিগ ২১। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন মিগ ২১-এর পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। প্রথমে ভারত বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ও পাইলট আটক দুটি বিষয়েই স্বীকার না করে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু পরে তার ভিডিও প্রকাশ করা হলে তা মেনে নিতে বাধ্য হয় ভারত।

এরপর ঘুরে যায় পরিস্থিতির মোড়। যেখানে পাকিস্তানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার দাবি চলছিল, তা পাল্টে দাবি করা হয়, অভিনন্দনকে মুক্তি দেয়া হোক। ভারত এ দাবি করলেও তারা নিজেরাই এতে আস্থা রাখতে পারছিল না। তিন বাহিনীর প্রধানদের দিয়ে বৈঠকের প্রস্তুতিতে এরই প্রমাণ মিলেছিল। তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল।



কিন্তু হঠাৎ করে আবারো বাতাস পাল্টে যায়। কারণ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্তির ঘোষণা দেন। যথারীতি পরদিন তাকে ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ইমরান খানের এই প্রাজ্ঞ পদক্ষেপে দু’দেশের কূটনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে পড়ে। উধাও হয়ে যায় যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহও। শুধু পাকিস্তান নয়, ভারত থেকেও যথেষ্ট প্রশংসা পান ইমরান খান।

পাকিস্তানের দাবি, অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কাশ্মীর ইস্যু এবং উপত্যকায় শান্তির পথে অগ্রদূতের ভূমিকা নিয়েছেন ইমরান। দিল্লি-ইসলামাবাদের উত্তেজনা কমাতে শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনিই। এখান থেকেই উঠে আসে ইমরান খানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হোক। গত শনিবার বিষয়টি পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা পার্লামেন্টেও তোলা হয়।

এরপর ইমরান টুইটারে লিখেন, আমি নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার নই। তিনি যোগ্য, যিনি কাশ্মিরের বাসিন্দাদের ইচ্ছানুসারে কাশ্মির বিতর্কের সমাধানের চেষ্টা করেছেন এবং এই উপমহাদেশে শান্তি ও উন্নয়নের পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছেন।’ এ কথা বলে তিনি আসলে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফওয়াদ চৌধুরিকেই ইঙ্গিত করেছেন। কারণ অভিনন্দনকে ভারতে ফেরানোর জন্য পাক সংসদে প্রস্তাব এনেছিলেন এ ফওয়াদ চৌধুরিই।

তবে ভারত দাবি করছে, উদারতা দেখিয়ে নয়, বরং তাদের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েই পাকিস্তান অভিনন্দনকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র : খালিজ টাইমস


আরো সংবাদ