১৯ মে ২০১৯

ভোটগ্রহণের মধ্যেই বিকল হচ্ছে ইভিএম, মোদির আসন কমার আভাস

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি - ফাইল ছবি

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার ৯৭টি আসনে ভোটগ্রহণ করার কথা থাকলেও নির্বাচন হয়েছে ৯৫টি আসনে। তামিলনাড়ুর ভেলোর ও ত্রিপুরা রাজ্যের পূর্ব ত্রিপুরা আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক বুথ থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম বিকলের খবর আসতে শুরু করে।

ফলে অনেক কেন্দ্রে এতে ভোট প্রদানে বিলম্ব হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রার্থী ও ভোটাররা। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গতকাল যে ৯৫টি আসনে নির্বাচন হয় সেগুলোর বেশির ভাগই ২০১৪ সালে বিজেপি পেয়েছিল।

কিন্তু এবার এসব আসনের অনেকগুলোই বিজেপির হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য ও বিভিন্ন নির্বাচনী সমীক্ষায় আভাস দেয়া হয়েছে। সবগুলো দফার নির্বাচন মিলিয়ে বিজেপি এবার ধারণার চেয়েও অনেক কম আসন পাবে বলে সমীক্ষায় বলা হচ্ছে। আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় ১১৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ার খবর আসতে থাকে। এতে নির্বাচন কমিশনও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। খবর আসতে থাকে মহারাষ্ট্রের বীর লোকসভা আসনের পাঁচটি বুথে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট বিকলের খবর আসে।

ভোটগ্রহণ শুরু হতেই এই আসনের জিওরাই, মাজালগাঁও, কেজ, অস্টি, পারালি বুথে ইভিএম অকেজো হয়ে পড়ে। কমিশনের কর্মীরা দ্রুত সেসব ইভিএম পাল্টে নতুন ইভিএম বসিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু করায় সহায়তা করেন। আসামের শিলচরের একটি বুথে ভিভিপ্যাট খারাপ হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা সেটি পাল্টে দেন। এ ছাড়া তামিলনাড়ু, বিহার, উত্তরপ্রদেশের কিছু বুথেও ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে সমস্যা দেখা দেয়, বিলম্বিত হয় ভোটগ্রহণ। এ কারণে ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দুই সমীক্ষায় বিজেপির আসন কমার পূর্বাভাস : হু হু করে কমছে বিজেপির জনপ্রিয়তা। প্রথম দফার ভোটের পরে বদলে গেছে পরিস্থিতি। আগে যত আসন প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বিজেপি তার চেয়ে অনেক কম আসন পাবে বলে দাবি করছে ভারতের প্রথম সারির দুই সমীক্ষক সংস্থা সি-ভোটার এবং সিএসডিএস। সংবাদ সংস্থা ‘দ্য কুইন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন সিএসডিএসের ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার। সি-ভোটারের সর্বশেষ সমীক্ষাও বলছে গোটা ভারতে ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয়তা কমছে মোদি সরকারের। গত এক মাসে ১৯ শতাংশ কমেছে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা।

ভোটের আগে সর্বশেষ সমীক্ষায় সি-ভোটার এবং সিএসডিএস দু’টি সংস্থায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি আসন দিয়েছিল। কিন্তু প্রথম পর্বের ভোটের পরই তারা অবস্থান বদলেছে। গত ১৩ এপ্রিল এশিয়ান এজ কে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিএসডিএস ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার বলেছেন, ‘উত্তরপ্রদেশের ৮টি আসনের মধ্যে ৬টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে গতবারের তুলনায় ভোট কম পড়েছে। যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের ভোটে মোদি হাওয়া কোনোই কাজ করছে না। আর এখানেই বিপদ আছে বিজেপির। গত বছর এ আটটিতেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু এবার অন্তত ৬টি তাদের হারাতে হবে বলে মনে হচ্ছে।’

আগের সমীক্ষায় সিএসডিএস অনুমান করেছিল উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৩২ থেকে ৪০টি আসন পেতে পারে। কিন্তু প্রথম রাউন্ডের পরে তারা তাদের অনুমান কমিয়ে করেছে ২০ থেকে ২৫টি আসন। শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, যদি ভোটের হার না বাড়ে তাহলে বিহার এবং মহারাষ্ট্রেও প্রত্যাশার তুলনায় বিজেপি অনেক কম আসন পেতে পারে বলে মনে করেন ড. সঞ্জয় কুমার।

আগের সমীক্ষায় বিহারে এনডিএ পাচ্ছিল ২৮ থেকে ৩৪টি আসন। মহারাষ্ট্রে আসন সংখ্যার অনুমান ছিল ৩৮ থেকে ৪২টি। কিন্তু সঞ্জয় কুমার বলছেন, পুলওয়ামা হামলার পরে যে মোদি হাওয়া তৈরি হয়েছিল, তা এখন স্তিমিত। এখন ভোট হচ্ছে স্থানীয় ইস্যুতে। আর সেটাই বিজেপির জন্য সবচেয়ে খারাপ খবর।

শুধু সিএসডিএস নয়, সি-ভোটারও বিজেপির আসন সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হবে বলে মনে করছে। সি-ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী গত ৭ মার্চ বিজেপির জনপ্রিয়তা ছিল প্রায় ৬২ শতাংশ। মাত্র এক মাসের মধ্যে ১২ এপ্রিল তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে বিজেপি অনেকটাই খারাপ পারফরম্যান্স করতে পারে। সি- ভোটার মনে করছে মোদির জনপ্রিয়তা পুলওয়ামার আগে যেমন ছিল, এখনো সেই পরিস্থিতিতে ফিরে এসেছে, যা ভালো খবর নয় দলটির জন্য।

জলপাইগুড়িতে ভোটদানে বাধা, গুলি : বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জলপাইগুড়ির ঘুঘুডাঙায় একটি বুথে গোলমালের অভিযোগ আসে। ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের বাধা দেয়া হয় এবং ভোটারদের লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরাই গুলি করেছেন। ঘুঘুডাঙার ওই বুথের প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, তিনি গুলির শব্দ শুনেছেন।

ভোটদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে দার্জিলিং কেন্দ্রের চোপড়ায়ও। শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবিতে এখানে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভোটাররা। এ ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তৃণমূল কর্মীদের পাল্টা অভিযোগ, তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বিজেপির কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পাথর ছুড়তে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও র্যাফ। কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে বিক্ষোভ চলতেই থাকে। ৪ ঘণ্টা পর চোপড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছলে গ্রামবাসী বিক্ষোভ বন্ধ করেন।

সিপিএম প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর : পশ্চিমবঙ্গের ইসলামপুরে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ভোটগ্রহণ দেখতে আসার সময় এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। মহম্মদ সেলিম জানান, ইসলামপুরের পাটাগড়ায় জাল ভোট দেয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান। তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়িতে হামলা চালায় বলে তিনি জানান।

ছত্তীশগড়ে মাওবাদীদের বোমা হামলায় জওয়ান আহত : ভোট চলাকালে ছত্তীশগড়ের রাজনন্দগাঁও কেন্দ্রের কোরাচা-মনপুর রাস্তায় মাওবাদীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিস্ফেরণে এক আইটিবিপি জওয়ান সামান্য আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ১১টা নাগাদ রোড ওপেনিং পার্টির গাড়ি লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা। তাতে আহত হন আইটিবিপির কনস্টেবল মন সিংহ।


আরো সংবাদ