২৫ আগস্ট ২০১৯

মোদির হেলিকপ্টারে তল্লাশি করায় মুসলিম কর্মকর্তা বরখাস্ত

মোদির হেলিকপ্টারে তল্লাশি করায় মুসলিম কর্মকর্তা বরখাস্ত - সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উড়িষ্যায় গিয়েছিলেন নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে। দিল্লী থেকে উড়িষ্যা বহুদূরের রাস্তা। তাই হেলিকপ্টারে চেপেই সেখানে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মোদিকে বহনকারী হেলিকপ্টারে তল্লাশি করার অভিযোগে মোহাম্মদ মোহসিন নামে একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি ভারতের প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৯৬ ব্যাচের কর্মকর্তা। তাকে উড়িষ্যার সম্বলপুর জেলায় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে মোহাম্মদ মোহসিনের নামে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি। সম্বলপুরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারে চেকিং নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনের আওতাভূক্ত নয়। কারণ, স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ এমন চেকিংয়ের বাইরে থাকে।

নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার সম্বলপুর সফরের একদিন পরেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হলো। ডিসি এবং পুলিশের ডিআইজির রিপোর্টের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মোহাম্মদ মোহসিনের ওই তল্লাশির কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টারটির উড্ডয়ন প্রায় ১৫ মিনিট বিলম্বিত হয়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাউরকেলায় নির্বাচন কমিশনের ফ্লাইট স্কোয়াডের সদস্যরা উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের হেলিকপ্টার তল্লাশি করেছেন। একই দিনে তল্লাশি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের হেলিকপ্টারেও।

বিজেপিকে বিদায় সার্টিফিকেট দেবো : মমতা

এদিকে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সামসিতে, মালদা উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূলপ্রার্থী মৌসম বেনজির নুরের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘ভোটের পর বিজেপিকে এনবিসি দেবো। মানে ন্যাশনাল বিদায় সার্টিফিকেট।’ বিজেপিকে হারানো প্রসঙ্গে এ ভাষাই ব্যবহার করেন মমতা।

বৃহস্পতিবারও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জির সমালোচনা করে মমতা বলেছেন, মালদা আর মুর্শিদাবাদে আরএসএস এবং বিজেপির সাথে গোপন আঁতাত করেছে কংগ্রেস। মোদিকে ভোট না দেয়ার আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, ‘মোদির বিরুদ্ধে একটা ভোট একটা গণতন্ত্রের থাপ্পড়।’

বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও সন্ধ্যা ৭টা থেকে টাকা বিতরণ হচ্ছে। টাকা ছড়ানোর খবর পেলে সাথে সাথে পুলিশকে জানান। পুলিশ পদক্ষেপ না নিলে আমাকে বলবেন।’

আরো পড়ুন : বিয়ের পোশাক পরেই ভোট দিলেন কাশ্মীরি নবদম্পতি
নয়া দিগন্ত অনলাইন, (১৯ এপ্রিল ২০১৯)

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফা শেষে বৃহস্পতিবার ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির মোট ৯৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও একটি বিষয়ে সবার চোখ আটকে গেছে। আর হল বিয়ের পোশাক পরেই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে চলে আসা। বিয়ের তারিখ আগেই ঠিক হয়েছিল। এর মধ্যে পড়ল নির্বাচনের তারিখ। তবে কি বিয়ে করতে গিয়ে লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ হারাবেন তারা। আর তাই নিজেদের লোকসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে জম্মু ও কাশ্মীরের এক নবদম্পতি বিয়ে সেরেই চলে চান ভোটকেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে ভোটও দিয়েছেন তারা। বিয়ের পোশাকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়া তাদের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তাদেরকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। বলা হচ্ছে, বিয়ে তো কী হয়েছে! গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে কোনো কিছুই বাধা হতে পারে না -এমনটাই দেখিয়েছেন এই বর-কনে।

জানা গেছে, লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ম্যাঙ্গালুরুতে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে কনের সাজেই ভোট দিয়েছিলেন কার্তিকা। এবার দ্বিতীয় দফায় জম্মু ও কাশ্মীরের এ নবদম্পতি উধমপুর বুথে ভোট দিয়েছেন।

ভোট দিয়ে গিয়ে বর বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠান তিন-চার দিন ধরে চলে তার মধ্যে থেকে ১০ মিনিট বের করে ভোট দিতে না আসার কোনো কারণ নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা পাঁচ বছরের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করি। তাই এখন যদি কোনো রকম ভুল হয় তার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে।’

স্বামীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্ত্রীও বলেন, ‘ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের উন্নয়ন যাতে ভালোভাবে হতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলেরই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া উচিত।’


আরো সংবাদ