১৯ আগস্ট ২০১৯

জ্বালানি ট্যাংকে ছিদ্র : ভারতের চন্দ্রযান-২ উৎক্ষেপণ স্থগিত

চন্দ্রাভিযান
শেষ মুহূর্তে ভারতের চন্দ্রযান-২ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। - ছবি: সংগৃহীত

রকেট ইঞ্জিনের জ্বালানি ট্যাংকের ছিদ্র থেকে হিলিয়াম নির্গত হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ভারতের চন্দ্রযান-২ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টার কম সময়ে তাদের এই যুগান্তকারী চন্দ্র মিশন স্থগিত করা হয়। মঙ্গলবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম একথা জানায়। খবর এএফপি’র।

খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত রোববার দিবাগত রাত ২টা ৫১ মিনিটে চন্দ্রযান-২’র যাত্রা করার কথা ছিল। এ উপলক্ষে কাউন্টডাউন শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (আইএসআরও) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণের মাত্র ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে যাত্রা স্থগিত করে।

শ্রীহরিকোটা মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযানটির ভারতে পূর্ব উপকূলের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা জানায়, শিগগিরই এটি উৎক্ষেপণের নতুন তারিখ জানানো হবে।

আইএসআরও জানায়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চন্দ্রযান-২’র উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে মিশনের সিনিয়র এক বিজ্ঞানীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, চন্দ্রযান-২’কে বহন করা রকেটের হিলিয়াম জ্বালানি থাকার অংশে একটি ফুটো রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিজ্ঞানী বলেন, ‘হিলিয়াম ভর্তি করার পর দেখা যায় চাপ কমে যাচ্ছে যা থেকে ধারণা পাওয়া যায় সেখানে ছিদ্র রয়েছে। তিনি আরো জানান, সেখানে ‘কয়েকটি ছিদ্র’ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের প্রত্যাশা ছিল, চন্দ্রযান-২ প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে। এ জন্য ভারত প্রায় ১৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এটির অধিকাংশ যন্ত্র ভারত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করে। চন্দ্রযান-২’র লক্ষ্য ছিল চাঁদে পানি ও খনিজ পদার্থের অনুসন্ধান করা। যাত্রা সফল হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করা দেশের ক্ষেত্রে ভারত হতো চতুর্থ দেশ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার যান চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেছে।

চন্দ্রযান-২ অভিযানে ভারত খুবই শক্তিশালী রকেট ব্যবহার করেছে। এই রকেটের ওজন ৬৪০ টন। উচ্চতা ১৪৪ ফুট। এটি ১৪ তলা ভবনের সমান উঁচু। মহাকাশযানটির ওজন ২ হাজার ৩৭৯ কেজি। অরবিটার, ল্যান্ডার ও রোভার নামে এর তিনটি আলাদা অংশ রয়েছে। অরবিটারের কাজ ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি নেয়া। বিক্রম নামের ল্যান্ডারের কাজ চাঁদে মাটির খোঁজ করা। আর প্রজ্ঞান নামের রোভারের কাজ পৃথিবীতে বিশ্লেষণের জন্য চাঁদের ছবি ও তথ্য পাঠানো।

উল্লেক্য, ২০০৮ সালে ভারত প্রথম মহাকাশযান চন্দ্রযান-১ উৎক্ষেপণ করে। তবে এটি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেনি। চন্দ্রযান-১ রাডার ব্যবহার করে চাঁদে পানির খোঁজ চালায়।


আরো সংবাদ