১৯ আগস্ট ২০১৯

স্ত্রীর লাশ টুকরো করতে কসাই ভাড়া!

খুন
নিহত সোনি - ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে খুন করে থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেছিলেন স্বামী উপেন্দ্র রজক। কিন্তু পুলিশকে বিভ্রান্ত করার তার সে চেষ্টা কাজে এলো না। সিসিটিভি ফুটেজেই ধরা পড়ে গেলেন সেই ‘অতি চালাক’ স্বামী। এমনকি পুলিশী জেরায় বেরিয়ে আসে আরো ভয়ঙ্কার তথ্য।

স্ত্রী সোনিকে শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হননি, কসাই ডেকে লাশ টুকরো টুকরো করে কেটে ব্যাগে ভরে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছেন উপেন্দ্র। এ ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কে সোনি-উপেন্দ্রর প্রতিবেশীরা।

ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরের।

স্ত্রী সোনিকে খুন করার পর লাশ গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে নিজেই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন স্বামী উপেন্দ্র। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে ১৮ জুলাই বিকেলে শিবপুর থানায় চলে যান শিবপুরের গিরিশ চ্যাটার্জ লেনের বাসিন্দা উপেন্দ্র রজক। থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। এদিকে, সেদিন সকালেই বালির জেটিয়াঘাটে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে এক মহিলার কাটা মুন্ডু ও দেহাংশ। আরো একটি ব্যাগে মেলে কয়েকটি ধারাল অস্ত্র। তদন্তে নামে বালি থানার পুলিশ।

কাটা মুন্ডুর ছবি তুলে বালি থানা বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেয়। তখনই শিবপুর থানার নিখোঁজ ডায়েরির খবর আসে।

শনাক্তকরণের জন্য ডাকা হয় সোনির স্বামী উপেন্দ্র রজককে। স্ত্রীকে তখন চিনতে অস্বীকার করেন উপেন্দ্র। তার দাবি ছিল, একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল স্ত্রীর। তাদেরই কারো সাথে পালিয়ে গেছেন সোনি।

এরপর জিটি রোডের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। বালিখালের কাছে সিসিটিভিতে দেখা যায়, তিনজন যুবক ট্যাক্সি থেকে তিনটি ব্যাগ নামাচ্ছে। পরে ব্যাগগুলো নিয়ে রিকশায় করে জেটিয়াঘাটের দিকে চলে যাচ্ছে।

ট্যাক্সি চালক ও রিকশা চালককে জেরা করে জানা যায়, হাওড়া ময়দান থেকে ট্যাক্সিতে ওঠে ওই তিন যুবক। ততক্ষণে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট, এই তিনজনের মধ্যে একজন উপেন্দ্র রজক। এরপরই ফের উপেন্দ্রকে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করা হয়। টানা জেরায় ভেঙে পড়ে স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করে নেন উপেন্দ্র।

তিনি জানান, স্থানীয় কসাই দিলওয়ার খানই ঘুমের ওষুধ কিনে আনে। ১৭ জুলাই রাতে স্ত্রীকে সেই ঘুমের ওষুধ খাইয়েই আচ্ছন্ন করা হয়। তারপর শ্বাসরোধ করে খুন।

স্ত্রীর লাশ টুকরো ও আড়াল করে ফেলার জন্য দিলওয়ারকে ৩০ হাজার টাকাও দেন উপেন্দ্র।

ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কে সোনি-উপেন্দ্রর প্রতিবেশীরা। খুনের মোটিভ নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ। উপেন্দ্রর দাবি অনুযায়ী, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই কী স্ত্রীকে খুন? না কী অন্য কোনো রহস্য? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

সূত্র : নিউজ১৮

দেখুন:

আরো সংবাদ