২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আফরিন ফাতিমার দুর্দান্ত জয়

আফরিন ফাতিমা
আফরিন ফাতিমা - ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লির মর্যাদাসম্পন্ন জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে চমক সৃষ্টি করেছে ওয়েলফেয়ার পার্টির ছাত্র সংগঠন ফ্রাটারনিটি মুভমেন্ট ও বাপসা জোট। ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে জয় ছিনিয়ে নিয়েলেন জোট প্রার্থী আফরিন ফাতিমা। প্রথমবার জোট বদ্ধ হয়ে লড়াই করেই এই জয়ে উচ্ছসিত উভয় ছাত্র সংগঠন।

জানা গেছে, জেএনইউ এর মাস্টার্স্ট ডিগ্রির ছাত্রী আফরিন ফাতিমা এর আগেও আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা ক্যাম্পাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পরেই চলে আসেন জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। রবিবার জেএনইউ এর ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা যায় জয়ী হয়েছেন ফাতিমা। তার জয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন আফরিন ফাতিমা। জয়ী হয়েই সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে, যে সমস্ত ইস্যু নিয়ে লড়াই করেছেন সে সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আশ্বাস দেন। এবিভিপি ও বামেদের গড়েও কঠিন লড়াই করেই তার এই জয় হওয়ায় তিনি সকলের প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
সূত্র : টিডিএন

গেরুয়া মুছে লাল আবির মাখল জেএনইউ
লোকসভা নির্বাচনে হারার পরে আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বামপন্থীরা। দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির নির্বাচনে গণনার পর দেখা গেল প্রায় বিপুল ভাবে প্রতিটা আসনে এগিয়ে রয়েছে বামেরা। তবে দিল্লি হাই কোর্টের আদেশ অনুসারে ১৭ তারিখের আগে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।

বরাবরের বাম দুর্গ হিসেবে পরিচিত জেএনইউ তে এবারে নির্বাচন যে বেশ কঠিন ছিল মেনে নিচ্ছে অনেকেই। সারা দেশে বিলুপ্ত আখ্যা পাওয়া বাম যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এতটা বড় ব্যবধানে জিততে পারে তা হয়তো ভাবে নি কেউই।

১৮৪১ টির মধ্যে ৫৫০টি ব্যালতগণনার পর দেখা গিয়েছে বাম দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ঐশী ঘোষ ২৬৬ টি ভোটে এগিয়ে রয়েছে। যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিরসা আম্বেদকর ফুলে ছাত্র সংগঠনের( বাপসা) জিতেন্দ্র সুনার থেকে যা অনেকটাই বেশী।
সাকেত মুন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ৩৬০ টি ভোট পেয়েছে সতিশ চন্দ্র যাদব জেনারেল সেক্রেটারির ২৬১ টি ভোট এবং মহম্মদ দানিশ জয়েন্ট সেক্রেটারি পদের জন্য ৩৫৩ টি ভোট পেয়েছে।
এই নির্বাচনে বাম দল গুলো অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন(এআইএসএ), স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া ( এসএফআই), ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্ট ফেডারেশন (ডিএসএফ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট ফেডারেশন ( এআইএসএফ) যুগ্ম ভাবে এবিভিপির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন চেয়ারম্যান শশাঙ্ক প্যাটেল জানান, শুক্রবার রাত ১১.৫৫ মিনিটে গণনা শুরু হওয়ার কথা হয়। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা তা মানতে চায়নি।

ভোট গণনা নিয়ে শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেলের সঙ্গে গণনা নিয়ে ছাত্রদের বচসা হয়। নির্বাচন পদ্ধতি ও ফল ঘোষণার দিনক্ষণ নিয়ে বাদানুবাদ চলে। ছাত্ররা পরিস্কারভাবেই জানায় নির্ধারিত দিনের আগেই নির্বাচনের ফল বাইরে আনা যাবে না।লিখিত বয়ানও চান তাঁরা। টালবাহানায় কেটে যায় ১১ ঘণ্টা। বন্ধ থাকে গণনা। রোববার গণনা চলাকালীনই বোঝা যায় ফল বামেদের দিকেই।

গণনার শুরু থেকেই বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলেন বাম প্রার্থীরা। শেষ রাউন্ডের গণনার আগেই তারা অনেক ভোটে এগিয়ে ছিল । তাই বাকি ভোটের একটিও যদি বামেরা না পায়, তাহলেও জয় নিশ্চিত। তাই এদিন দুপুর গড়াতেই ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ । একে অন্যকে লাল আবীর দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ১৭ তারিখের আগে বের করা যাবে না। তবুও জয়ের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে।

এর আগে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার দিন রোববার থাকলেও দুই ছাত্রের করা আবেদনের ভিত্তিতে আদালত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিন পিছিয়ে দেয়।

 

 


আরো সংবাদ