১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

একে একে পরিবারের ৬ জনকে হত্যা করলেন গৃহবধূ!

একে একে পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু। ১৪ বছরের মধ্যে ঘটা এ ঘটনা নেয়া হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশী তদন্তে উঠে আসে এসব মৃত্যু ছিল অস্বাভাবিক এবং তা ঘটেছে পরিবারেরই এক নারীর কারণে।

ভারতের কোঝিকোড়ের একটি ক্যাথলিক পরিবারে ঘটে যাওয়া এসব মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করেছে কেরালা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। মৃত্যুর কারণ খুঁজতে ৪ অক্টোবর পারিবারিক কবর খুঁড়তে হয় পুলিশকে।

২০০২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ট্র্যাজেডি তাড়া করে বেরিয়েছে পোন্নামাট্টোম পরিবারকে। ওই পরিবারের গৃহবধূ জলি, তার দ্বিতীয় স্বামী শাজু ও যে আত্মীয় তাদের সায়ানাইড সরবরাহ করেছিল, তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখুঁত ষড়যন্ত্র করে একে একে পরিবারের ছয়জনকে শেষ করে দেয়া হয়েছে।

২০০২ সালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ৫৭ বছরের আন্নাম্মা থমাস যখন মারা গেলেন, তখন সবাই সেটাকে স্বাভাবিক মৃত্যুই ভেবেছিল। ৬ বছর পর হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যান তার স্বামী ৬৬ বছরের টম থমাস। ২০১১ সালে তাদের ছেলে ৪০ বছরের রয় থমাসেরও একইভাবে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, বিষ খেয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। এরপর ২০১৪ সালে আন্নাম্মার ভাই ৬৭ বছরের ম্যাথিউ মানজাদিইলও একইভাবে মারা যান।

এই চারজনেরই দেহ সায়রো মালাবার গির্জার কবরখানায় সমাধিস্থ করা হয়। ২০১৬ সালে তাদের আত্মীয়ের দুই বছরের কন্যা হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। তার কয়েক মাস পরেই তার মা ২৭ বছরের সিলির মৃত্যু হয়।

এরই মধ্যে রয়ের বিধবা স্ত্রী জলি ও মৃত সিলির স্বামী সাজু বিয়ে করে ও পরিবারের সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে। শ্বশুরের শেষ উইলও দেখায় জলি। তবে আমেরিকার বাসিন্দা টমের ছোট ছেলে মোজো তার বিরোধিতা করেন এবং পরিবারে ধারাবাহিক ভাবে ৬ জনের মৃত্যুতে সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ দায়ের করেন।

এক গৃহবধূর এত বছর ধরে সুপরিকল্পিতভাবে এতগুলো খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত কেরালা। ফোনকল খতিয়ে দেখে পুলিশের নজরে আসে যে অস্বাভাবিক সময়েও ক্রমাগত ফোনে কথা হতো জলি ও সাজুর। মৃতদেহগুলোকে ফের খতিয়ে দেখে তাদের দেহাবশেষ থেকে সায়ানাইড পায় ফরেনসিক টিম।

সূত্র : এই সময়


আরো সংবাদ