২৩ অক্টোবর ২০১৯

কুমারীপুজো চলার সময়ই আগুনে পুড়ে মারা গেলেন ‘দেবী’

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করছেন। নবরাত্রির অঙ্গ হিসেবেই সোমবার মহানবমীর সকালে ছিল কুমারী পুজো। আর কয়েকজন কুমারীর সঙ্গে ৭ বছর বয়সী শিশু পূজাকেও দেবীজ্ঞানে পুজো করতে বসানো হয়েছিল। কিন্তু কুমারীপুজোর সেই আচারের মধ্যেই ঘটে যায় অঘটন। হঠাত্‍ৎই দাউদাউ শিখায় আগুন ধরে যায়। চারপাশ থেকে ঘিরে ধরা সেই আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচানো যায়নি বছর সাতের সেই নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে। উদ্ধারের পথ ছিল না। বেরোনোর উপায় ছিল না।

অতিকষ্টে যখন তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তখন শরীরের অনেকটাই আগুনে ঝলসে গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সেই মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত এই শিশুর নাম পূজা (৭)। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের অখ্যাত পূরা নিসপানসারি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি দোকানঘরের মধ্যে এই কুমারীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ঘটে যায় বিপত্তি। আরও কয়েকটি শিশুকন্যা ওই আগুনে জখম হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, শিশুকন্যাদের আর্তচিত্‍কার শুনে সেখানে ছুটে যায় স্থানীয়রা। ষেকানে গিয়ে লেলিহান শিখায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগুনের মধ্যেই প্রাণভয়ে চিৎকার করছিল বাচ্চাগুলো। কুমারীরূপে যাদের বসিয়ে নবরাত্রির পুজো চলছিল। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছেন, আট শিশুকন্যাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, পূজাকে তাঁরা রক্ষা করতে পারেননি।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে, যে দোকানটিতে কুমারীপুজোর আয়োজন হয়েছিল, সেখানে প্রচুর পরিমাণ তেল মজুদ ছিল। তা থেকেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দোকান মালিকই এই পুজোর আয়োজন করেছিলেন।

উন্নাওয়ের পুলিশ সুপার এমপি ভর্মা জানান, এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে, জ্বালানি তেলে কী ভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোকান মালিকের গাফিলতি থাকলে, আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র : এইসময়।


আরো সংবাদ