০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

দুই অধ্যাপকের বিনিময়ে তিন তালেবান কমান্ডারের মুক্তি

তালেবান নেতা আনাস হাক্কানি - ছবি : সংগৃহীত

পাশ্চাত্যের দুই পণবন্দীর বিনিময়ে আফগান সরকার তিন তালেবান কমান্ডারকে মুক্তি দিয়েছে। আলজাজিরাকে সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র মঙ্গলবার জানায়, মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে একজন হলেন সিনিয়র তালেবান নেতা আনাস হাক্কানি। তিনি কাতারে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এখানেই রয়েছে তালেবানের রাজনৈতিক অফিস।

তাদের বিনিময়ে মঙ্গলবার দু’জন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক মুক্তি পেয়েছেন। তারা হলেন মার্কিন নাগরিক কেভিন কিং ও অস্ট্রেলিয়ার টিমোথি উইকস। তিন বছর আগে তালেবান তাদেরকে বন্দী করেছিল।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক আফগান কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ওই দুই অধ্যাপককে নিরাপদে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তাদের এখন পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

বন্দী বিনিময়ের এই তথ্য এখন পর্যন্ত আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা বা কাবুলে মার্কিন দূতাবাস নিশ্চিত করেনি।
কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফাস্টস গ্লোবাল পিস, সিকিউরিটি অ্যান্ড জাস্টিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাইকেল সেম্পল মুক্তি পাওয়া তালেবান বন্দীদের গ্রুপটির ‘এলিট’ সদস্য হিসেবে অভিহিত করেন।
১৮ বছরের যুদ্ধ

এক সপ্তাহ আগে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি ঘোষণা করেন যে হাক্কানি ও অপর দুই কমান্ডারকে মুক্তি দেয়া হবে। এই হাক্কানির ভাই তালেবানের উপনেতা ও তালেবানের সহযোগী সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান।
ওই সময় গানি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য তালেবানের সাথে সরাসরি আলোচনা করা। উল্লেখ্য, কাবুল সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল বিবেচনা করে তাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে রাজি হচ্ছে না তালেবান।
তবে বন্দী বিনিময় হঠাৎ করেই স্থগিত হয়ে যায় তালেবানের হাতে থাকা পণবন্দীদের সংগঠনটি অন্যত্র সরিয়ে নিলে। কমান্ডাররা কাতারে না পৌঁছার কারণে তালেবান এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সেম্পল বলেন, মুখ রক্ষা করতেই বন্দী বিনিময় সম্পন্ন করা হয়েছে। তালেবান এখন আফগান সরকারের সাথে আলোচনা করবেই, এমন কোনো নিশ্চিয়তা নেই।

তালেবান ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। ২০০১ সালে মার্কিন হামলায় তারা উৎখাত হয়।
দুই পক্ষের মধ্যে ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের চেষ্টা চলছে। গত মাসে পাকিস্তানে গিয়ে আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জালমি খালিলজাদ তালেবানের শীর্ষ আলোচক মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের সাথে সাক্ষাত করেছেন।
আল জাজিরা


আরো সংবাদ