২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নাগরিকত্ব আইন মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয় : মোদি

নরেন্দ্র মোদি - ছবি : পিটিআই

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) পক্ষেই সাফাই গাইলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির রাজধানী নয়া দিল্লিতে এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, এ আইনটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, বরং ধর্মের কারণে পার্শ্ববর্তী তিন দেশে প্রতারিত শরণার্থীদের জন্যই এটি করা হয়েছে।

কাগজেকলমে দিল্লির মঞ্চটা ছিল বিজেপির নির্বাচনী জনসভা। সেই মঞ্চই কার্যত হয়ে উঠল সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদীর ভাষণস্থল। এই দুই বিষয় নিয়ে দেশজোড়া বিক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে মোদির আশ্বাস- হিন্দু হোক বা মুসলিম, দেশের কোনো নাগরিকের জীবনেই প্রভাব পড়বে না। সেই সাথে উল্লেখ করলেন ভারতের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের কাঠামোর কথা। পাশাপাশি, সিএএ-এনআরসি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন মোদি।

রোববার দিল্লি রামলীলা ময়দানে বিজেপির নির্বাচনী জনসভায় ভাষণে মোদি তুলে ধরলেন নয়া স্লোগান, ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতের বিশেষত্ব।’ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর পাশ হওয়ার বহু আগে থেকেই যে বিশেষত্ব উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে তার সরকারের বিরুদ্ধে, তাকেই উল্লেখ করে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সাথে তার দাবি, এই আইনের ফলে দেশের ১৩০ কোটি ভারতবাসীর জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না, তা সে সংখ্যাগুরু হোক বা সংখ্যালঘু। তার কথায়, ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কারো নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়ার জন্য নয়। দেশের কোনো মুসলমানকে তাড়াতে এই আইন নয়। যে শরণার্থীরা আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ধর্মের কারণে প্রতারিত এই আইন তাদের জন্য। এই আইন সেসব শরণার্থীদের জন্য যারা বহু বছর এ দেশে রয়েছেন।’

এ দিনের সভায় মোদি একই সাথে মনে করিয়ে দিলেন, ভারতের জনগণের একটা বৃহদাংশই তাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন। সংসদেও বহুমতে ভোটে পাশ হয়েছে সিএএ এবং এনআরসি। সেই মতকে সম্মান জানানোর কথা বলেছেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, ‘আপনারা যদি জনমতকে অগ্রাহ্য করেন, তবে মোদির কুশপুতুল পোড়ান। কিন্তু দেশের সম্পত্তি পোড়াবেন না। তা নষ্ট করবেন না।’

১১ ডিসেম্বর সংসদে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এই আইনের ফলে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ খ্রিস্টান, পার্সি ও জৈন শরণার্থীদের এ দেশের নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে এই বাদ রাখা হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের। তা নিয়ে প্রতিবাদে মুখর গোটা দেশ। যদিও মোদির বক্তব্য, এই আইনের ফলে এ দেশের মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তার দাবি, এই আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই গুজব ছড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলো ও কিছু শিক্ষিত শহুরে নকশাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।

মোদির কথায়, ‘কিছু শিক্ষিত শহুরে নকশাল ভুল বোঝাচ্ছেন, সকলকে ডিটেনশন শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সকলকে বলব, কংগ্রেস আর শহুরে নকশালরা ডিটেনশন শিবির নিয়ে যা বলছেন, তা মিথ্যে কথা।’

সিএএ-র পাশাপাশি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়েও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে দেশ। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, দিল্লিসহ সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাদের রাজ্যে এনআরসি কার্যকর করতে দেবেন না। তবে সংসদে পাশ হওয়ার পর সে কথা কী ভাবে বলতে পারেন ওই মুখ্যমন্ত্রীরা, সে প্রশ্নও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি মোদির পরামর্শ, ‘আপনারা তো মুখ্যমন্ত্রী, ভারতের সংবিধানকে সামনে রেখে শপথ নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় থেকে এমনটা কি করা যায়? কিছু আইন জানা মানুষের সাথে আলোচনা করে তার পর কথা বলুন।’

বিরোধীদের মধ্যে সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই আইনের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও বুদ্ধিজীবীদের সাথে রাস্তায় নেমে বিরোধিতা করতে দেখা গেছে তাকে। এ দিনের ভাষণে সেই মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘সংসদে কয়েক দিন আগেই মমতা দিদি বলতেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে হবে। শরণার্থীদের নাগরিকত্বের কথা বলতেন। কিন্তু মমতা দিদি এখন সোজা কলকাতা থেকে জাতিসঙ্ঘে পৌঁছে গেছেন।’

মোদির কটাক্ষ, ‘আপনি কাদের বিরোধিতা করছেন, কাদের সমর্থন করছেন, সেটা গোটা দেশ দেখছে মমতা দিদি? এমনটা কী হল, যাতে আপনি পাল্টে গেলেন?’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ