২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শীতের রাতে আন্দোলনকারীদের কম্বল কেড়ে নিল ভারতীয় পুলিশ

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নিজেদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে এবার নতুন পন্থা নিয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। শনিবার রাতের অন্ধকারে নারী বিক্ষোভকারীদের লেপ-কম্বল কেড়ে নিয়ে গেল তারা। কেড়ে নেয়া হয় থালা-বাসন, খাবারও। শনিবার রাতে লখনৌয়ে ওল্ড কোয়ার্টারের কাছে ঘণ্টাঘর এলাকায় এমনই দৃশ্য চোখে পড়ল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই সেই ভিডিও ছড়িয়েছে। তাতে যোগী সরকারের দমননীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা।

সিএএ এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) বিরোধিতায় পাঁচ শতাধিক নারী গত একমাস ধরে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই শুক্রবার থেকে ঘণ্টাঘরের কাছে জমা হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের নারীরা। ছিল কচিকাঁচারাও। প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে বাঁচতে লেপ-কম্বল নিয়ে বসেছিলেন তারা। কিন্তু সন্ধ্যা পেরোতেই সেখানে হাজির হয় পুলিশের একটি দল। লেপ-কম্বল কেড়ে নিতে শুরু করে তারা। খাবার এবং থালা-বাসনও কেড়ে নেয় পুলিশ।

পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে ‘কম্বল চোর’ বলে অভিযুক্ত করেছেন কেউ কেউ। আবার কটাক্ষও করেছেন কেউ কেউ। প্রশ্ন উঠেছে,‘সরকারি নেতারা ওই কম্বল মুড়ি দিয়ে ঠিকঠাক ঘুমিয়েছেন তো?’ কোন আইনে বিক্ষোভকারীদের কম্বল কেড়ে নেয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তবে সে সবে কান দিতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তাদের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়,‘ঘণ্টাঘরের কাছে বেআইনি বিক্ষোভ চলছিল। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তাঁবু খাটানোর চেষ্টা চলছিল। একটা দল কম্বল বিলি করছিল। যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি, তারাও কম্বল নিতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ভিড় হঠাতেই আমাদের নামতে হয়। আর তা করতে গিয়েই নিয়ম মেনে কম্বল বাজেয়াপ্ত করা হয়।’ সূত্র : আনন্দবাজার।


আরো সংবাদ