২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিহারে গ্রেফতার ছাত্রনেতা শারজিল ইমাম

শারজিল ইমাম - ছবি : সংগৃহীত

ইনসাফের জন্য আওয়াজ তুলেছিলেন দিল্লির জওহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়- জেএনইউয়ের সাবেক ছাত্র শারজিল ইমাম। ভারতের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত শাহিনবাগ প্রতিবাদ মঞ্চে অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়– দেশের মানুষের সর্বনাশের কথা ভেবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ওই ডাকে সাড়া দিয়েছেন বহু মানুষ। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে শাহিনবাগের প্রতিবাদ মঞ্চ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। এখন গোটা ভারত যেন শাহিনবাগ। স্বাধীনতার পর এমন প্রতিবাদ দেখেনি গোটা ভারত। এই প্রতিবাদে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহিলারা। প্রতিবাদের উদ্যোক্তা শারজিল ইমামকে খুঁজছিল পুলিশ। মঙ্গলবার বিহারের জেহানাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় শারজিলকে। তাকে নিয়ে আসা হবে দিল্লিতে। এরপর লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ চলবে বলে জানা গিয়েছে। শারজিলের প্রথম অপরাধ তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। দ্বিতীয় অপরাধ, তার ডাকে একত্রিত হয়েছে শাহিনবাগ। প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে ভারতজুড়ে। তার তৃতীয় অপরাধ কী– তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারো।

শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। যার মধ্যে রয়েছে দেশদ্রোহও। এ ছাড়াও বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে জেএনইউয়ের এই প্রাক্তনীর বিরুদ্ধে। আশ্চর্যের বিষয় হলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর দিল্লিতে প্রচারে গিয়ে স্লোগান দেন– ‘দেশ কি গদ্দারোকো...’ উলটো দিক থেকে বিজেপি কর্মীরা বলে ওঠে ‘গুলি মারো শালো কো...’। কোনো পুলিশ অনুরাগ ঠাকুরকে গ্রেফতার করেনি। বিজেপি নেতা প্রবেশ বর্মা বলেন– শাহিনবাগের প্রতিবাদীরা ঘরে ঢুকে তাদের বোনেদের ধর্ষণ পর্যন্ত করতে পারেন। বিজেপি নেতাদের হাজার আপত্তিকর মন্তব্যের পরও পুলিশ তাদের কেশাগ্র পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি।
সূত্র : পূবের কলম

 


আরো সংবাদ