২৭ মে ২০১৯

প্রাণির সেবা করেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল তানিয়ার

তানিয়া। বিপন্ন প্রাণির সেবায় নিজেকে উজাড় করে দিতেন। কোথাও কোন প্রাণির বিপদ শুনলে তার সেবা ও উদ্ধারের জন্য পাশে যেতেন। ভয় আতঙ্ক দূরে ফেলে রাত বিরাতে ও বিপন্ন প্রাণি উদ্ধারে নিজেকে জড়াতেন। প্রাণির সেবা করে করে জীবন প্রদীপ নিভে গেলো সেই মানুষটির। বন্য প্রাণীর সেবা-শুশ্রূষা করাই ছিল যার নেশা।

গত বুধবার ১৩ মার্চ সকালে অসংখ্য সুহৃদ ও পরিচিতজনদের শোক সাগরে ভাসিয়ে শেষ বিদায় নিলেন মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী গবেষক, সংরক্ষক তানিয়া খান (৪৭)।

বন্য প্রাণীর সেবক হিসেবে সবাই তাকে চিনতেন। তার সময় কাটত বন্য প্রাণীর সেবা-যত্ন করে। সারাক্ষণ ওদের নিয়েই তার যত চিন্তা, যত কাজ। খবর পেলেই ছুটে যেতেন রাস্তার পাশে পড়ে থাকা বিড়ালছানা ও কুকুরছানা উদ্ধারে। তাদের উদ্ধার করে নিজের কাছে নিয়ে আসতেন। মায়ের আদর দিয়ে সেবা করতেন। ওরা সুস্থ হলে যার যার জায়গায় ছেড়ে দিতেন তিনি।
বন্য প্রাণী গবেষক, সংরক্ষক।

ব্যতিক্রমী মানুষটির এভাবে চলে যাওয়াকে কেউ মেনে নিতে পারেরনি। মৃত্যুর আগেও নাকি তার পরিচর্যায় মেছো বাঘের একটি ছানা ছিল। মার্চের প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মমরুজপুর এলাকায় ওই মেছো বাঘের বাচ্চাটি ধরা পড়েছিল। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বাচ্চাটি উদ্ধার করে তার কাছে হস্তান্তর করে।

জানা গেছে, পাখি ও বন্য প্রাণীদের সেবা দিতে তানিয়া খান প্রতিষ্ঠা করেন সোল (সেভ আওয়ার আনপ্রোটেক্টেড লাইফ)। নিজেই সোলের পরিচালক। নিজের খাবার দাবারের তেমন খোঁজ রাখতেন না। তিনি পশুপাখিদের খাবার জোগাড়ে অগ্রাধিকার দিতেন । ব্যস্ত থেকেছেন তাদের নিয়ে।

বন্য প্রাণীর ছবি তুলা ছিল তার শখ । তার বিয়ে হয়েছিল বন বিভাগের রেঞ্জার মুনীর আহমেদ খানের সঙ্গে। তানিয়া বার্ড ক্লাবের সদস্য হয়ে প্রাণিকুল রক্ষায় সময়-শ্রম দিয়েছেন। কাজ করেছেন আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন ফর ন্যাচার), নিসর্গসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে।

বছর চারেক আগে তানিয়ার স্বামী মুনীর মারা যান। কিন্তু তানিয়া আর ফিরে যাননি সুনামগঞ্জে নিজেদের বাড়িতে।
বন-প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা মৌলভীবাজারেই থেকে যান। কালেঙ্গা এলাকায় বাসা তৈরি করেন। সোলের কার্যলয় হিসেবে সেটি ব্যবহার করতেন। অল্প কিছুদিনেই এলাকার ছোট–বড় সবার সঙ্গে তার তৈরি হয়ে যায় গভীর সংযোগ। প্রতিবেশীরাও তার প্রাণী প্রেমে মুগ্ধ হয়েছেন।

অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাকে সহযোগিতা করেছেন। মৌলভীবাজার কালেঙ্গার বাসায় তানিয়া খান একা থাকতেন। গত বুধবার সময়মতো তার দরজা-জানালা খোলা না দেখে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে বেলা ১১টার দিকে দরজা ভেঙে বিছানায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

বুধবার রাতে তার কালেঙ্গার বাসার পাশেই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।


আরো সংবাদ