১৯ আগস্ট ২০১৯

বানভাসিদের দুর্ভোগ চরমে, ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ

সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার উপর দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টির পানিতে নতুন নতুন এলাকার প্লাবিত হচ্ছে। দুই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভার নিচু এলাকায় সহস্রাধিক ঘর-বাড়ীর বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানিবন্দী আছে ২ হাজারেরও বেশি পরিবার।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দুই উপজেলার ৫০ টির মতো মাছের খামার। ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ। দিন দিন বাড়ছে বানভাসিদের দুর্ভোগ।

দুই উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে দুই উপজেলায় সরকারী ছুটি বাতিল করে সবাইকে বন্যার্তদের পাশে থাকতে বলা হয়েছে। দিরাই উপজেলার ২০টি ও শাল্লা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। দিরাইয়ে ৩৪টি ও শাল্লায় ৭০টি বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শাল্লার ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে শতাধিক পরিবারের লোকজন উঠেছে। দিরাই উপজেলার ১টি কেন্দ্রে কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিলেও সেখানে থাকা খাওয়ার কোন সুবিধা না হওয়ায় তারা ফিরে যায়।

সোমবার বিকাল ৩টার পর দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা শাল্লা উপজেলার বন্যা কবলিত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বানভাসি লোকজনকে আতঙ্কিত না হয়ে সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহবান জানিয়ে বলেন, বানভাসিদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য সামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। সময়মতো সবার কাছে সরকারের সাহায্য পৌছে দিতে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ প্রস্তুত রয়েছেন।

দিরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম জানান, দিরাইয়ে সোমবার পর্যন্ত ২৫/৩০ টি মাছের খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামের খামারি ফরিদ সরদার জানান, আমরা কয়েকজন যুবক একটি পঞ্চায়েতি বড় জলাশয়ে মাছ চাষ করেছিলাম, বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। আমাদের কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী জানান, দিরাই উপজেলায় নিচু এলাকার ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বানভাসিদের জন্য দিরাইয়ে ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন) জানান, দিন দিন বাড়ছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। উপজেলার ৪ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। উপজেলা সদরের মনিটরিং সেল থেকে সার্বক্ষণিক সকল ইউনিয়নের খবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান দুই উপজেলা চেয়ারম্যান।


আরো সংবাদ