২২ আগস্ট ২০১৯

সুনামগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ বলে কবিরাজকে মারধর

গণপিটুনি
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাবিবুর রহমান - ছবি : নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় এক কবিরাজকে মারধর করা হয়েছে। তবে কিছু লোক তাকে চিনে ফেলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার শেষ বিকেলে জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গণপিটুনির শিকার হন একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী মানিগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমান (৬২)।

গণপিটুনির শিকার আহত হাবিবুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে ওই দিনই রাতে জামালগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

আজ বুধবার দুপুরে থানা পুলিশ জন্টু নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গণপিটুনির শিকার হাবিবুর রহমান একজন কবিরাজ। তিনি ঘটনার দিন উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামের হরেন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে যান। তিনি বাড়িতে না থাকায় পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে কবিরাজ হাবিবুর রহমান চলে আসতে চান। এ সময় রোগী হরেন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা সজিব চৌধুরীকে (৩০) রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বললে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাবিবুরকে ‘গলাকাটনী-গলাকাটনী, ধর-ধর শালারে’ বলে চিৎকার করে। এসময় সজিবসহ আশপাশে থাকা গোলামীপুর গ্রামের সুবল দাস (৩০), কেবল দাস (২৮), দিপক (২৫), মিন্টু (২১) এবং আরো ৭/৮ জন জড়ো হয়ে কবিরাজ হাবিবুরকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মার খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান হাবিবুর। একই গ্রামের কিছু লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি শোনে কবিরাজ হাবিবুর রহমানকে চিনে তাকে উদ্ধার করে তার আত্মীয়দের খবর দেন। আত্মীয়রা এসে আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিতে নিয়ে আসেন। এ অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। একজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গলাকাটা বা ছেলেধরা’ জাতীয় গুজবে সাড়া না দিতে মাইকিং ও জনসচেনতামূলক সভা করে জানানো হয়েছে। ‘গলাকাটা’ জাতীয় কোনো খবর বা গুজব শুনলে অথবা কাউকে সন্দেহ হলে জামালগঞ্জ থানা পুলিশক খবর জানাতে তিনি অনুরোধ করেন।


আরো সংবাদ