১৮ নভেম্বর ২০১৯

পাহাড়ী টিলার সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কমলা

টিলার উপর ছোট বড় কমলার গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কাঁচা আর আধা পাকা ছোট ছোট কমলা।

নাগপুরি, খাসি, ছাতকী, চায়নিজসহ বিভিন্ন জাতের কমলার চাষ হয় এখানে। সুদূর চীন ও বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাষ হয় বলে ফলটির নাম চায়নিজ কমলা। তবে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামের কমলাচাষী মুর্শেদ মিয়ার বাগানে বিভিন্ন জাতের কমলা চাষ হচ্ছে। চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুর্শেদের বাড়ির চারপাশে টিলার ঢালে সারি সারি কমলাগাছ। গাছভর্তি ফল। স্থানীয় জাতের কমলার পাশাপাশি সেখানে রয়েছে বেশ কিছু চায়নিজ কমলার গাছ। চায়নিজ কমলার গাছ ও ফল স্থানীয় জাতের চেয়ে আকারে ছোট।

ঘুরে ঘুরে বাগান দেখার ফাঁকে কথা হয় বঝি টিলার মানিক মিয়া ও লাল টিলার মুর্শেদ মিয়ার সাথে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জাতের কমলার চাষ করছেন। তাদের দুটি বাগানে স্থানীয় জাতের দুই শতাধিক কমলাগাছ রয়েছে।

অনেক দিন আগ থেকে হায়ছড়া, লালছড়া, শুকনাছড়া, রুপাছড়া, জরিছড়া ও কচুরগুল গ্রামের লোকজন বিছিন্নভাবে নিজ উদ্যোগে কমলা চাষ করে আসছেন। ২০০১ সালের দিকে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ এলাকায় নতুন রুপে কমলা চাষ শুরু হয়।

তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি নার্সারি থেকে কৌতূহলী হয়ে ১৮০টি চায়নিজ কমলাগাছের চারা কিনে আনেন। বাগানের ফাঁকে ফাঁকে লাগান এসব চারা।

মুর্শেদ মিয়া জানান, ১০/১৫ বছর যাবত গাছে ফল ধরে আসছে। তবে সংখ্যায় কম ছিল। এবার প্রচুর ফল ধরেছে। কমলার বীজ থেকে চারা রোপন করলে গাছ দীর্ঘদিন বাঁচে। তার বাগানে বীজের চারার গাছ বেশী রয়েছে।

মানিক মিয়ার বলেন, চায়নিজ কমলার একেকটি গাছে এক থেকে দেড় হাজার ফল ধরেছে। কার্তিক মাসের শেষ দিকে ফল পুরোপুরি পাকবে। তখন বিক্রি শুরু করবেন। স্থানীয় জাতের কমলায় রোগবালাই বেশি দেখা দেয়। তবে চায়নিজ কমলায় এখনো রোগবালাই দেখা দেয়নি।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিং সম্প্রতি আবদুল গফুরের বাগানের চায়নিজ কমলার ফলন সরেজমিনে দেখেছেন। তিনি বলেন, এ জাতের কমলার জন্ম চীনে। সে কারণে বাজারে এটা চায়নিজ কমলা নামে পরিচিত। স্থানীয় জাতের চেয়ে চায়নিজ কমলা মিষ্টি বেশি। ফলে অনেকেই সেটা পছন্দ করে। মোর্শেদকে ফলটির বীজ থেকে চারা উৎপাদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশি জাতের কমলা লালছড়া গ্রামে বাগানের গাছ থেকে পাকা কমলা এনে বাড়ির উঠানে রাখা হয়েছে। সেখানে বসে আকারভেদে কমলা বাছাই করছিলেন কমলাচাষি মানিক মিয়া ও তার স্ত্রী ছালেহা বেগম। বাছাই করা এসব কমলা পাইকারদের কাছে বিক্রি হবে। তাদের দুটি কমলাবাগানে ৩০০ গাছ রয়েছে। ফলন সম্পর্কে জানতে চাইলে ছালেহা হেসে বললেন, ‘এইবার কমলা পাইয়া মন ভরি গেছে।’

এলাকাবাসী জানান, লালছড়ার আশপাশের হায়ছড়া শুকনাছড়া, রুপাছড়া, জরিছড়া ও কচুরগুল গ্রামের বিভিন্ন বাগানে এবার কমলার ভালো ফলন হয়েছে।

লালছড়ার বড় বাগানটি মোর্শেদ মিয়ার। ওই বাগানের ৫০০ গাছে কমলা ধরেছে।

চাষিরা জানান, এখানকার কমলা দেশি জাতের। আকারভেদে ১০০ কমলা এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হয়। সিলেট, কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও চট্টগ্রামের ফলের আড়তদারেরা এখান থেকে কমলা কিনে নেন।

বানর ও কাঠবিড়ালি ফল নষ্ট করে ফেলে। সে কারণে পুরোপুরি পাকার আগেই চাষিরা কমলা বিক্রি করে ফেলেন।

উপজেলার ৯১ হেক্টর টিলাভূমিতে কমলার চাষ হয়। গাছের সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান আছে ৬৮টি।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফুল বারি সরেজমিনে গিয়ে কমলা চাষীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।

তিনি জানান, কমলা চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া উপজেলায়। কমলা চাষীদের আমরা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা দিয়ে আসছি।


আরো সংবাদ