১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছেলের নাম রেখে কর্মস্থলে ফিরছিলেন আল আমিন

ট্রেন দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন (বাঁ থেকে) আদিবা আক্তার সোহা, আলী মোহাম্মদ ইউসুফ, সুজন মিয়া ও রুবেল মিয়া - ছবি : ইউএনবি

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমুরত গ্রামের আল আমিন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন চট্টগ্রামে। কয়েক দিন আগে জন্ম নেয়া ছেলের নাম রাখতে এসেছিলেন বাড়িতে। তবে তার আর কর্মস্থলে ফেরা হলো না।

সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন উদয়ন ট্রেনের যাত্রী আল আমিন। সেই সাথে আহত হয়েছেন তার চাচা মনু মিয়া ও ফুফাতো ভাই শামীম।

বানিয়াচংয়ের বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘১৯ দিন আগে আল আমিনের এক ছেলে হয়। ছেলের নাম রাখতে সে সম্প্রতি বাড়ি আসে। একমাত্র ছেলের নাম রাখে ইয়ামিন। তার আরো দুটি মেয়ে রয়েছে। ছেলের নাম রেখে তিনি চাচা মনু মিয়া ও ফুফাতো ভাই শামীমকে নিয়ে সোমবার রাতে উদয়ন ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হন। ট্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। সাথের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আল আমিনের কোনো ভাই-বোন নেই। অনেক আগে তার বাবা আইয়ুব হোসেন ও মা মারা গেছেন।’

কসবার মন্দবাগ স্টেশ‌ন এলাকায় সোমবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ছয়জন হবিগঞ্জের। আল আমিন ছাড়া বাকি পাঁচজন হলেন- সদরের বড় বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আলম, আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ, বানিয়াচং উপজেলার তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার আড়াই বছরের মেয়ে আদিবা আক্তার সোহা, চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের ফটিক মিয়া তালুকদারের ছেলে রুবেল মিয়া তালুকদার ও পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া।

নিহত কিশোর ইয়াছিন আলম বাবার সাথে চট্টগ্রামে যাচ্ছিল সাগর ও দর্শনীয় স্থান দেখতে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বাবা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর আলম।

শহরের আনোয়ারপুর গ্রামের আব্দুল আহাদ জানান, তার চাচাতো ভাই আলী মোহাম্মদ ইউসুফ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত। স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একমাত্র মেয়েকে বাড়িতে আনার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। ট্রেন দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তাম্বুলিটুলা গ্রামের সোহেল মিয়া জানান, তিনি ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম চট্টগ্রামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার তারা বাড়ি আসেন। সোমবার তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। ট্রেন দুর্ঘটনায় তার একমাত্র মেয়ে সোহা মারা গেছে। তিনি, তার স্ত্রী ও সাড়ে ৪ বছর বয়সী ছেলে নাছির আহত হয়ে এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন।

বন্ধুদের সাথে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজার যাচ্ছিল চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামের রুবেল মিয়া তালুকদার। সে স্থানীয় শানখলা দাখিল মাদরাসার ছাত্র।

পাকুড়িয়া গ্রামের সুজন মিয়া চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। তিনি সরকারি বৃন্দাবন কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি হবিগঞ্জ আদালতে মোহরার (নকলনবিশ) হিসেবে কাজ করতেন।
সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ