০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

বাবা-মা-ভাইকে রেখে চলে গেল ছোট্ট ছোঁয়া, দাফন সম্পন্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার না ফেরার দেশে চলে গেছে ছোট্ট ছোঁয়া। ট্রেন দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও একমাত্র ভাইকে ঢাকা পঙ্গু হাসপালে চিকিৎসায় রেখেই আদিবা আক্তার ছোঁয়ার (২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মা-বাবার কলিজার টুকরা আদরের ধন ছোট্ট ছোঁয়া। এক মুহূর্তের জন্যও মা-বাবাকে ছেড়ে থাকতো না, ট্রেন দুর্ঘটনার আগেও ছিল মা আর বাবার কোলে। মা-বাবাকে সব সময় চোখের সামনের রাখত। মা কিংবা বাবাকে সামনে না দেখলে জুড়ে দিতো কান্না। অথচ সামান্য সময়ের ব্যবধানে এখন আর আব্বু-আম্মুর জন্য ছোঁয়া মনির কণ্ঠে কোনো আকুতি নেই! ঘাতক ট্রেন কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ।

ছোট্ট ছোঁয়ার লাশ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পৌছার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মা-বাবার অবর্তমানে মঙ্গলবার রাত ১০টায় নানাবাড়ি সৈদ্যাটুলা গ্রামে ছোয়ার লাশ নানা মাফিক উল্লার তত্ত্বাবধানেই দাফন করা হয়। ছোয়ার লাশ দেখে উপস্থিত সবাইকেই কাঁদতে দেখা যায়। মানুষের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

ছোঁয়ার মৃত্যুতে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের এমপি এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চোধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মামুন খন্দকার ও বানিয়াচং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম খোকন গভীর সমবেদনা ও শোক জানিয়েছেন।

আদিবা আক্তার ছোঁয়ার নানা মাফিক উল্লা (৭০) নয়াদিগন্তকে বলেন, আমার ঔরসে কোনো সন্তান নেই। সন্তানের অভাবে যখন আমার স্ত্রী দিশেহারা তখনই ছোয়ার মা নাজমা বেগমকে দত্তক আনি। ছোট বেলায় দত্তক আনার পর থেকে একদিনের জন্য ওকে বুঝতে দেই নাই যে নাজমা আমাদের ঔরসের মেয়ে না। ভিটে বাড়ি সব হারিয়ে অন্যেও বাড়িতে থাকি। অভাব অনটন সত্ত্বেও মেয়ের কোনো চাহিদাকেই অপূর্ণ রাখি নাই। তার মুখের দিকে তাকিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছর পূর্বে উপজেলার টাম্বুলিটুলা গ্রামের সুহেল মিয়ার সাথে নাজমার বিয়ে দেই। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখেই ছিল আমার মেয়ে। জীবিকার তাগিদে জামাই ও আমার মেয়ে দুইজন চট্রাগ্রাম একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। সেখানে যেতেই স্বামী সন্তান নিয়ে উদয়ন ট্রেনে যাত্রা করে ছিল তারা।

কিন্তু পথিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় তারা গুরুতর আহত হয়। আহত হয়েছিল তাদের কোলে থাকা শিশু সন্তান ছোঁয়া মনিও। অন্যদের মতো তাদের তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধারকারীরা। এত বড় দুর্ঘটনার ধকল এত ছোট শরীর বইতে পারেনি। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক জানান ছোঁয়া মনি আর বেঁচে নেই। অন্যদিকে ছোঁয়ার বাবা সোহেল ও নাজমার অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে।


আরো সংবাদ