২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সুনামগঞ্জে দুটি শিশু হত্যার ঘটনায় অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

-

সুনামগঞ্জে সম্প্রতি নৃশংসভাবে একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে। জেলায় প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সাথে পারিবারিক কলহ এবং মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই ধরণের মনুষত্ব্য বিকৃত ঘটনা ঘটছে। ফলে অভিভাবকরা শিশু সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মাঝে আছে। তাই সমাজে সবার মাঝে সামাজিক মূল্যবোধ, সুসর্ম্পক বাড়ানোর প্রতি এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর জেলার দিরাই উপজেলায় কেজাউরা গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে রাতে নৃসংশভাবে হত্যা করে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। সোমবার ভোরে গাছের সাথে ঝুলানো অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পুরো শরীর রক্তাক্ত, কান ও লিঙ্গ কর্তন অবস্থায় ছিল।

এর পর গত ৮ জানুয়ারি বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নিখোঁজ হন শিশু তোফাজ্জল। তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় দাদা জয়নাল আবেদীন পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। জিডি করারপর শুক্রবার ভোর রাতে বাড়ির বসতঘরে তোফাজ্জলের একজোড়া জুতা ও ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণকারীরা পরিবারের লোকজনের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। পরদিন শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় গোয়ালঘরের সামনে সিমেন্টের বস্তায় তোফাজ্জলের লাশ রেখে যায় অপহরণকারীরা।

সচেতন মহল মনে করছেন, হিংসা আর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ এখন দিন দিন মনুষত্ব্য হারিয়ে জঘন্য সব কাজ করছে। তাই কোনো ঘটনাকে হাতিয়ার করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে সে জন্য যত ছোট বা বড় পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া হউক না কেন তা দ্রুত সমাধান করতে নিজ নিজ এলাকার প্রভাবশালী, চেয়ারম্যান ও সচেতন নাগরিকদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারী থাকলে এমন জঘন্যসব ঘটনা গঠবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সর্বস্তরের জনসাধারণ।

শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, গত বছল নৃশংসভাবে তুহিনকে আর গত ১১ জানুয়ারি তোফাজ্জলকে হত্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি চ্যালেন ও পত্রিকা জুড়ে দেখা যাচ্ছে বীভৎস কায়দায় দুটি খুন হওয়ার ঘটনা। এতে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। শিক্ষার্থীরাও এসব হত্যার ঘটনা শুনে আতঙ্কগ্রস্ত। পাষণ্ড হত্যাকারীরা এতো ববর্রভাবে হত্যা করেছে দেখলেই গা শিউরে ওঠে। সবাইকে এখন সচেতন হতে হবে।

অভিভাবক আলমগীর হোসেন, শফিকুলসহ অনেকে জানান, মানুষ এখন দিন দিন মনুষত্ব্য হারিয়ে ফেলছে। হিংসা আর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে জঘন্য সব কাজ করছে। সমাজে বসবাস করতে হলে ঝগড়া বিবাদ হতেই পারে। সমাধানও আছে। তাই বলে খুন এটা ভাবাই যায় না। ইদানিং দুটি শিশু খুনের ঘটনায় নিজের সন্তানদের নিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকি। বিশেষ করে নিজের সন্তানকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে নিজের সন্তানকে বলি দিতেও কুণ্ঠা বোধ করে না। এই মনমানুষিকতা থেকে বের হতে হবে। খুন করার আগে একবার হলেও চিন্তা করতে হবে এতেই সমস্যার সমাধান না বরং সমস্যা আরো বেড়ে যায়। হারাতে হয় প্রিয়জন। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, আগে সবার মাঝে ছিল সামাজিক সম্প্রতি ও ভালবাসার সর্ম্পক। বিপদে আপদে সবাই সবাইকে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসত। তাই অতীত মনে করে এই খুন, খারাপী আর হিংসা প্রতিরোধ করতে সবাইকে সবার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিশুরদের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়াতে হবে। তারাই আমাদের আগামীর সম্পদ তাদের খুন করা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ নয়।


আরো সংবাদ