১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রাজনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ - নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজনগর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় মনসুরনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরজান আহমদের ‘ফরজান ফার্নিচেয়ার’ ও দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এসময় রাসেল ও শরিফ নামে দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার সময় উপজেলা পরিষদের সামনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে আওয়ামীলীগের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উপজেলা সমন্বয় সভা ছিল। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন বখত ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান খান সভায় যোগদান করলে তাদের লোকজনও পরিষদে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ এসে লোকজনদের পরিষদের বাইরে চলে যেতে বলে।

এদিকে, সভা শেষে বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সভা শেষে সহকারী কমিশিনারের (ভূমি) কার্যালয়ে একটি সাক্ষ্য দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন বখত বের হয়ে আসেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া লোকজন ও সাধারণ সম্পাদকের লোকজনের মধ্যে উসকানিমূলক কথাবর্তার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় মনসুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরজান আহমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ফরজান ফার্নিচার’ ও দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়।

এ ঘটনায় শরিফ (২৫) ও রাসেল (৪০) নামে দুজন আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান খান বলেন, সকাল থেকেই পরিষদের অতিরিক্ত লোকজন ছিল। পুলিশ সবাইকে সরিয়ে দেয়। বিকালে আমার কার্যালয়ে লোকজন ছিলেন। মিলন বখত সাহেবের লোকজন একটি ফার্নিচার দোকন থেকে বের হয়ে আমার কার্যালয়ের সামনে থাকা লোকজনদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় আমার দুজন লোক আহত হয়। মামলা দেয়ার জন্য তারা হয়তো দোকান ভেঙ্গে আমার লোকজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সধারণ সম্পাদক ও মনসুরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন বখত বলেন, পরিষদের মিটিং ও এসিল্যন্ডের কার্যালয়ে সাক্ষ্য দিয়ে আমি ও ফতেহপুরের চেয়ারম্যান বের হয়ে আসি। আমি গাড়িতে করে চলে আসার পর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে থেকে লোকজন বের হয়ে এসে হামলা চালিয়ে একটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকমর্তা (ওসি) আবুল হাসেম বলেন, আওয়ামীলীগের উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রযেছে। মোটরসাইকেল ও দোকন ভাংচুরের ব্যাপারে কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ