১৬ জুন ২০১৯

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি : বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় : সমন্বয় ও নিঃসরণ

-

সুপ্রিয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বিজ্ঞান বিষয়ের ‘পঞ্চম অধ্যায় : সমন্বয় ও নিঃসরণ’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের চিত্র দু’টি লক্ষ করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. হরমোন কী? ১
খ. মস্তিষ্কের মেডুলার কাজ ব্যাখ্যা করো। ২
গ. অ চিত্রের অঙ্গাণুটির গঠন ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. মানবদেহের ই চিত্রের তন্ত্রটির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো। ৪
উত্তর : ক. যে রাসায়নিক পদার্থ কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।
খ. মেডুলা হলো মস্তিষ্কের নিচের অংশ। সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নি¤œভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে। এ জন্য সুষুম্নাশীর্ষকে মস্তিষ্কের বোঁটা বলে। মস্তিষ্কের এ অংশ হৃদস্পন্দন, খাদ্য গ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
গ. চিত্রের অ চিহ্নিত অঙ্গাণুটি হলো স্নায়ুকোষ বা নিউরন। এটি ২টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথাÑ
১। কোষদেহ : এটা নিউরনের প্রধান অংশ। এটি বিভিন্ন আকৃতির হয়। যেমনÑ গোলাকার, ডিম্বাকার বা নক্ষত্রাকার। কোষদেহ কোষ আবরণী, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত। এই কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না। তাই এরা অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয় না।
২। প্রলম্বিত অংশ : কোষদেহ থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে। এটা ২ প্রকার। যথাÑ র) অ্যাক্সন : কোষদেহ থেকে উৎপন্ন লম্বা সুতার মতো অংশকে অ্যাক্সন বলে। স্নায়ুতাড়না নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবাহিত করে। সাধারণত একটি নিউরনে একটি অ্যাক্সন থাকে।
রর) ডেনড্রন : কোষদেহের চার দিক থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাগুলোকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে সৃষ্ট শাখাগুলোকে ডেনড্রাইট বলে। স্নায়ুতাড়না নিউরনের দেহের দিকে পরিবাহিত হয়।
চিত্র : নিউরন
ঘ. চিত্রে ই চিহ্নিত তন্ত্রটি হলো রেচনতন্ত্র। রেচন পদার্থ হলো সেসব পদার্থ, যেগুলো দেহের জন্য ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয়। রেচন বলতে দেহের বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে বোঝায়। বিপাকের ফলে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া প্রভৃতি দূষিত পদার্থ দেহে প্রস্তুত হয়। এগুলো নিয়মিত ত্যাগ না করলে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এসব দূষিত পদার্থ দেহের মধ্যে জমে বিষক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর ফলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এসব বর্জ্য পদার্থ প্রধানত নিঃশ্বাস, বায়ু, ঘাম এবং মূত্রের সাথে দেহের বাইরে চলে যায়। ফুসফুস, চর্ম ও বৃক্ক এ তিনটি রেচন অঙ্গ। কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে এবং লবণজাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ চর্মের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। বৃক্কের মাধ্যমে দেহের নাইট্রোজেনযুক্ত তরল, দূষিত পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। মূত্রের মাধ্যমে দেহের শতকরা ৮০ ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত বর্জনীয় পদার্থ পরিত্যক্ত হয়।


আরো সংবাদ