২৩ অক্টোবর ২০১৯

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পঞ্চম অধ্যায় : মহানবি (স)-এর জীবনাদর্শ ও অন্যান্য নবিগণের পরিচয়

-

প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ‘পঞ্চম অধ্যায় : মহানবি (স)-এর জীবনাদর্শ ও অন্যান্য নবির পরিচয়’ থেকে আরো ২টি বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : হযরত ঈসা (আ) সেখানকার লোকদের কী কী উপদেশ দিলেন?
উত্তর : হযরত ঈসা (আ) ছিলেন আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত একজন নবি ও রাসুল। সে সময়ে সেখানকার লোকেরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা দেব-দেবীর পূজা করত। হযরত ঈসা (আ) তাদেরকে এক আল্লাহর এবাদতের প্রতি আহ্বান জানালেন। শিরক থেকে বিরত থাকতে বললেন। সকল দুর্নীতি ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে বললেন। সেখানকার লোকজন হযরত ঈসা (আ) এর কথা মানল না। তারা আল্লাহর এবাদত করল না। তারা তাঁর ঘোর শত্র“তে পরিণত হলো। তারা তাঁকে আরও নিষ্ঠুর কষ্ট দিতে থাকল। এমনকি তারা তাঁকে হত্যা করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করল। একদিন তারা তাঁকে হত্যা করার জন্য এক ব্যক্তিকে ঘরের মধ্যে পাঠাল। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে! দয়াময় আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে তাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে দিলেন। আর ঘরের মধ্যে যে লোকটি তাঁকে হত্যা করার জন্য প্রবেশ করেছিল, তার আকৃতি হযরত ঈসা (আ)-এর আকৃতির মতো হয়ে গেল। সে ঘর থেকে বের হতেই তার সাথীরা তাকে ঈসা (আ) ভেবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করল।
প্রশ্ন : হিজরত কী? মহানবি (স) কোথায় ও কেন হিজরত করেছিলেন?
উত্তর : হিজরত : ‘হিজরত’ শব্দের অর্থ দেশ ত্যাগ। নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নিজ দেশ অর্থাৎ জন্মভূমি ত্যাগ করে অন্যত্র গমন করাকে হিজরত বলা হয়।
যেখানে হিজরত করেন : মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
হিজরতের কারণ : মদিনার কিছুসংখ্যক লোক মক্কায় এস ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা মহানবিকে কাছে পাবার আশায় মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার আবেদন জানালেন। অন্যদিকে কুরাইশদের অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়ইে চলল। নবিজী (স) মুসলমানদের মক্কা থেকে মিদনায় হিজরত করার অনুমতি দিলেন। তাঁর অনুমতি পেয়ে তারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করলেন। এর মধ্যে কুরাইশরা নবি (স) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। তারা তাদের পরিকল্পনামাফিক গভীর রাতে সশস্ত্র অবস্থায় নবিজীর বাড়ি ঘেরাও করে। মহান আল্লাহ ফেরেশতা মারফত তাঁকে এ চক্রান্তের কথা জানিয়ে দিলেন এবং হিজরতের নির্দেশ দিলেন। হিজরতের সময় নবিজীর সঙ্গী হলেন হযরত আবু বকর (রা)। কাফেররা পিছু নওয়ায় তাঁরা সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিলেন। পথে বহু বাধা অতিক্রম করে তাঁরা ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর মদিনায় পৌঁছলেন। ইসলামের ইতিহাসে মহানবি (স)- এর হিজরত এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। হিজরতের ফলে ইসলাম প্রচার ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। মদিনায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি সমাজ ও ইসলামি রাষ্ট্র।

 


আরো সংবাদ