২০ নভেম্বর ২০১৯

২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-১৭২

বাংলা প্রবন্ধ রচনা : বিদায় হজ
-

সুপ্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ১৪ নম্বর প্রশ্নে ২০০ শব্দের একটি রচনা লিখতে বলা হয়। প্রশ্নে রচনা লিখনের ইঙ্গিত দেয়া থাকবে। প্রশ্নটি হবে যোগ্যতাভিত্তিক। আজ তোমাদের বাংলা বিষয় থেকে আরো ১টি প্রবন্ধ রচনা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
বিদায় হজ
[ভূমিকা-বিদায় হজের উদ্দেশে যাত্রা-বিদায় হজের ভাষণ-ভাষণের বিষয়বস্তু-উপসংহার]
ভূমিকা: ইসলামের ইতিহাসে মহানবি মুহম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দশম হিজরি সনের জিলকদ মাসে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (সা.) হজ উপলক্ষে বিদায় হজের ভাষণ দেন।
বিদায় হজের উদ্দেশে যাত্রা : মহানবি (সা.) দশম হিজরিতে মদিনা থেকে মক্কার পথে হজ পালনের উদ্দেশে রওনা হন লক্ষাধিক মুসলমান নিয়ে। যুল হুলাইফায় গিয়ে মহানবি (সা.) ও তার সঙ্গীরা সবাই হজের জন্য ইহরাম বাঁধেন।
বিদায় হজের ভাষণ : আরব দেশের নানা স্থান থেকে প্রায় দুই লাখ মানুষ মহানবির (সা.) সঙ্গে হজ পালনের জন্য আরাফাত ময়দানে আসেন। জাবালে রাহমাত নামক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মহানবি (সা.) সমবেত মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন। এটিই ছিল আরাফাতের ময়দানে মহানবির (সা.) শেষ ভাষণ।
ভাষণের বিষয়বস্তু : বিশ্বের ইতিহাসে মহানবির (সা.) ওই ভাষণ মানবাধিকারের সনদ হিসেবে স্বীকৃত। জাতি, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকারের শাশ্বত বাণী হিসেবে তিনি বলেনÑ
১. তোমরা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোন। আজকের এই দিন তোমাদের কাছে পবিত্র। এ মাসটিও তেমনি তোমাদের কাছে পবিত্র। তোমাদের জীবন ও সম্পত্তি তোমাদের পরস্পরের কাছে পবিত্র।
২. মনে রেখ, একদিন তোমরা আল্লাহর কাছে হাজির হবে। পৃথিবীতে তোমরা যে কাজ করেছ, আল্লাহ তোমাদের কাছে তার হিসাব চাইবেন।
৩. তোমাদের ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীরাও আল্লাহর বান্দা। তাদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করো না। তোমরা নিজেরা যা খাবে, তাদেরও তাই খেতে দেবে। নিজেরা যে কাপড় পরবে, তাদেরও তাই পরতে দেবে।
৪. মনে রেখ, সব মুসলমান একে অন্যের ভাই। তোমরা এক ভাই কখনো অন্য ভাইয়ের সম্পত্তি জোর করে দখল কর না।
৫. কখনো অন্যায় এবং অবিচার করো না। সামান্য পাপ থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে।
৬. মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী থাকবে। একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দায়ী করা চলবে না। এরপর মহানবি (সা.) জোর দিয়ে বললেনÑ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। নিজের ধর্ম পালন করবে। যারা অন্য ধর্ম পালন করে, তাদের ওপর তোমার ধর্ম চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করো না।
মহানবি (সা.) চারটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে বললেনÑ ১. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না।
২. অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করো না।
৩. পরের সম্পদ অপহরণ করো না।
৪. কারও ওপর অত্যাচার করো না।
তিনি আরো বললেনÑ তোমাদের কাছে আমি দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছিÑ ১. আল্লাহর বাণী আল-কোরআন এবং
২. আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ রাসুলের জীবনের আদর্শ।
এ দু’টি তোমাদের পথ দেখাবে।
মহানবি (সা.) তার ভাষণ শেষ করলেন। তার চোখ-মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
উপসংহার: ইসলাম ধর্মে বিদায় হজের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদায় হজের ভাষণে নবিজি (সা.) যেসব কথা তুলে ধরেছেন, সেগুলো পালন করা হলে মানবজীবনে সফলতা সুনিশ্চিত।

 


আরো সংবাদ