২১ নভেম্বর ২০১৯

২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-১৭৩ বাংলা প্রবন্ধ রচনা : মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

-

সুপ্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ১৪ নম্বর প্রশ্নে ২০০ শব্দের একটি রচনা লিখতে বলা হয়। প্রশ্নে রচনা লিখনের ইঙ্গিত দেয়া থাকবে। প্রশ্নটি হবে যোগ্যতাভিত্তিক। আজ তোমাদের বাংলা বিষয় থেকে আরো ১টি প্রবন্ধ রচনা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
(ভূমিকা-জন্ম ও শিক্ষা-কর্মজীবন-রাজনৈতিক জীবন-‘উপাধি’ প্রদান-পূর্ব বাংলার রাজনীতি ও ভাসানী-মৃত্যু-উপসংহার)
ভূমিকা : বাংলার কৃষক-মজুর-শ্রমিকের অতি আপনজন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি চিরকাল নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছেন ও সংগ্রাম করেছেন। এ জন্য তিনি, মজলুম জননেতা।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন : সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে মওলানা আবদুল হামিদ খানের জন্ম হয় ১৮৮০ সালে। তার বাবার নাম হাজি শরাফত আলী খান। মায়ের নাম মোসাম্মৎ মজিরন বিবি। অল্প বয়সেই তিনি পিতৃমাতৃহীন হন। তার এক চাচার কাছে থেকেই তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। এ সময় তিনি ইরাক থেকে আগত এক পীর সাহেবের স্নেহদৃষ্টি লাভ করেন। তিনি তাকে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। এ সময় তিনি দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হন।
কর্মজীবন: মওলানা আবদুল হামিদ খান মাদ্রাসার পড়া শেষ করে টাঙ্গাইলের এক প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতার সময় তিনি জমিদারের অত্যচার, নির্যাতন দেখতে পান। জমিদারদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ ও সংগ্রাম শুরু করেন। এর ফলে তিনি জমিদারদের রোষানলে পড়েন।
রাজনৈতিক জীবন : আবদুল হামিদ খান ২২ বছর বয়সে কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। তিনি ১৭ মাস পর মুক্তি পান। ১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে তিনি এক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি কৃষকসাধারণের ওপর জমিদারদের শোষণ, নিপীড়ন ও অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরেন। স্থানীয় জমিদারদের ষড়যন্ত্রে তার ওপর গ্রেপ্তারের হুমকি সৃষ্টি হলো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি বাংলা ছেড়ে আসামে চলে যান।
উপাধি প্রদান : মওলানা আবদুল হামিদ খান ১৯২৪ সালে আসামের ধুবড়ির নিকটবর্তী ভাসানচরে এক বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সভায় তিনি বাঙালি কৃষকদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এই সমাবেশেই সাধারণ কৃষকরা তাকে ভাসানচরের মওলানা নাম দেয়। পরে তাকে ভাসানী নাম দেয়। তখনই থেকেই তার পরিচয় হয় মওলানা ভাসানী নামে।
পূর্ব বাংলার রাজনীতি ও ভাসানী : ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৭ সালে ভাসানী টাঙ্গাইলের কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলন ‘কাগমারী সম্মেলন’ নামে খ্যাত। এ সম্মেলনে যোগ দেন দেশবিদেশের বহু খ্যাতিমান মানুষ। মওলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার মানুষকে শোষণ করছে। ১৯৭০ সালে তিনি পল্টন ময়দানে ভাষণ দেন এবং ভাষণে বলেন, এ দেশ একদিন স্বাধীন হবে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং জনমুখী কর্মসূচি পালন করেন।
মৃত্যু : ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।
উপসংহার : মওলানা ভাসানী স্বদেশপ্রেম, প্রগতিশীল আদর্শ ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক ছিলেন।

 


আরো সংবাদ