২১ নভেম্বর ২০১৯

২০১৯ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি-১

উদ্দীপকটি বারবার বুঝে পড়ে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখবে বাংলা
-

সুপ্রিয় ২০১৯ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। এ মুহূর্তে তোমরা বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে অযথা টেনশন না করে সিলেবাস অনুযায়ী বোর্ডবইয়ের সব অধ্যায় গুরুত্ব দিয়ে পড়বে। পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে এ প্লাস পেতে যা মনে রাখবে তা হলোÑ
পরীক্ষার প্রাক-প্রস্তুতি
হ পরীক্ষা শুরুর দুই-তিন দিন আগে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, যা পরীক্ষার্থী সঙ্গে নিয়ে যাবে তা সংগ্রহ করে রাখবে। যেমনÑ কলম, পেনসিল, ইরেজার, স্কেল, ট্রান্সপারেন্ট ফাইল ইত্যাদি।
হ কলম সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবে, উজ্জ্বল কালো কালির কলম যেন হয়। কেননা উজ্জ্বল কালি সহজেই পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে জেল কলমকে ‘না’ বলবে। একাধিক কলম রাখবে, তবে কলমগুলো একটু ব্যবহার করা থাকলে ভালো হয়।
হ পরীক্ষার উপকরণাদি বহন করবার জন্য একটি ট্রান্সপারেন্ট ফাইল আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখবে।
পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি
হ তোমার প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সাথে নেবে। যেমনÑ একাধিক কলম (কালো ও নীল), প্রবেশপত্র, পেনসিল, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, স্কেল, ক্যালকুলেটর (বিষয়সাপেক্ষে), ঘড়ি, জ্যামিতি বক্স, টাকা ইত্যাদি। এগুলো সংগৃহীত ট্রান্সপারেন্ট ফাইলে বহন করবে।
হ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করবে। সে কারণে পরীক্ষার প্রথম দিন অন্তত ১ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবে। শুরুতেই আসন বিন্যাস জেনে নেবে। আসন খুঁজে নিশ্চিত হবে। যদি কোনো সমস্যা থাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে সাথে সাথে জানাবে। আসনে বসে মনে মনে মানসিক প্রস্তুতি সেরে নেবে। একটু রিলাক্স মুডে থাকবে। কোনো রকমের তড়িঘড়ি বা টেনশন করবে না।
পরীক্ষার হলে যা করণীয়
হ উত্তরপত্র নেয়ার সময় দাঁড়িয়ে গ্রহণ করবে। প্রাপ্ত উত্তরপত্র ভালোভাবে দেখে নেবে। উত্তরপত্র ছেঁড়া বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে পরিদর্শককে জানাবে। শুধু কভার পৃষ্ঠা ছাড়া অন্যসব পাতার উভয় পৃষ্ঠায় লিখবে। আর মার্জিন করলে তা অবশ্যই সিঙ্গেল লাইনের এবং পেনসিল দিয়ে করবে।
হ প্রশ্নপত্র হাতে পেলে মনোযোগসহ একবার পড়ে নেবে। মনে মনে নির্ধারণ করবে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে ভালো পারো। যে প্রশ্নের উত্তর লিখবে তা সুন্দর করে গুছিয়ে লিখবে। মার্জিনের ওপরে কিছু লিখবে না। প্রতিটি প্রশ্নের শেষে সমাপ্তি সূচক চিহ্ন দেবে এবং এক্ষেত্রে নীল কালির কলম ব্যবহার করতে পারো।
হ বাংলা বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকটি বারবার বুঝে পড়বে, তারপর উত্তর লিখবে।
হ পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জনে হাতের লেখার ভূমিকা রয়েছে। হাতের লেখা খুব সুন্দর না হলেও পরিচ্ছন্ন যেন হয়। উত্তর লেখার সময় অহেতুক কাটাকাটি করা ঠিক নয়। যদিও কাটতে হয়, তবে তা একটানে কাটবে। পৃষ্ঠার একেবারে শেষ পর্যন্ত না লিখে নিচে একটু জায়গা রেখে দেবে।
হ পরীক্ষার খাতায় কালো কালি ও নীল কালি ব্যবহার করবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় নম্বর লেখার ক্ষেত্রে নীল কালি ব্যবহার করলে ভালো।
হ পরীক্ষার সময় মনোযোগসহকারে উত্তর লেখা এবং রিভিশনে ব্যস্ত থাকা বাঞ্ছনীয়। কোনোভাবেই সময় নষ্ট হয়, এমন কিছু করা যাবে না। প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হলে মনোযোগের সাথে রিভিশন দেবে । তা ছাড়া অতিরিক্ত উত্তরপত্রের নম্বর ঠিকমতো লেখা হয়েছে কি না তা দেখবে।
হ তোমাদের ১০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তরের জন্য সময় যেহেতু ৩ ঘণ্টা, সেহেতু সময়ের দিকে খেয়াল রেখে উত্তর লিখবে। যেসব প্রশ্ন সহজ মনে হয়, সেগুলোর উত্তর আগে লিখবে। অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোনো কিছু লিখে প্রশ্নের উত্তর বড় করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০০ নম্বরের উত্তর লিখবে।
হ যেসব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন আছে সেখানে ‘ক’ নম্বর প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই এক বাক্যে লিখবে। আর ‘খ’ নম্বর ২ প্যারায়, ‘গ’ নম্বর ৩ প্যারায় ও ‘ঘ’ নম্বর ৪ প্যারায় লিখবে। তবে উত্তর প্যারা করে লেখা বাধ্যতামূলক নয়।
হ বহুনির্বাচনী অভীক্ষার সময় তুমি কয়টিতে টিক চিহ্ন দিয়েছ তা গণনা করে দেখবে। ফলে কোনোটি টিক দিতে ভুলে গেলে বা বাদ পড়লে তা সহজেই ধরা পড়বে।
হ বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় রচনা বাদে সব প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ করে সব শেষে ‘রচনা’ লিখবে এবেং ঘণ্টা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে উপসংহার লিখবে। কারণ, অনেক সময় লিখতে লিখতে ঘণ্টা পড়ে গেলে ‘উপসংহার’ লেখা হয় না, আর এতে নম্বর কমে যায়।
হ উত্তরপত্রে ভুল আছে কি না দেখবে। নির্দিষ্ট সময়ের ৫ মিনিট আগে উত্তর লেখা শেষ করবে। তারপর উত্তরপত্রটি নিজেই রিভিশন দেবে।
হ বহুনির্বাচনী অভীক্ষার সময়ও মনোযোগের সাথে প্রশ্নপত্র পড়ে সঠিক উত্তরটিতে টিক দেবে। টিকটি অবশ্যই কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে করবে। টিক যেন অন্য ঘরে না যায়।
পরীক্ষার হলে যা করা যাবে না
হ নমুনা বক্সের মধ্যে কোনো দাগ দেয়া যাবে না।
হ মনে রাখবে, উত্তরপত্রের কোথাও অহেতুক ভাঁজ বা আঁকাআঁকি করা যাবে না। কারণ, পরীক্ষার খাতা অবশ্যই সুন্দর ও পরিষ্কার থাকা বাঞ্ছনীয়।
হ অবশ্যই কালো কালির বলপয়েন্ট কলম দিয়ে নমুনা ফরমের বৃত্ত ভরাট করতে হবে। এ কাজের জন্য কোনো জেল/কালির কলম ব্যবহার করবে না।
হ নমুনা ফরমে পরীক্ষার সাল, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড এবং অতিরিক্ত উত্তরপত্রের সংখ্যার বৃত্তগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না।
হ পরীক্ষা শুরুর আগেই যেহেতু খাতা দেয়া হয়, তাই এ বিষয়গুলো ভালোভাবে খেয়াল করবে।

 


আরো সংবাদ