২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রসায়ন পঞ্চম অধ্যায় : রাসায়নিক বন্ধন

-

প্রিয় ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের রসায়ন বিষয়ের ‘পঞ্চম অধ্যায় : রাসায়নিক বন্ধন’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আমাদের খাদ্য লবণ সোডিয়াম ক্লোরাইড (ঘধঈষ) এর গলনাংক ৮০১ড়ঈ। এরা কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন না করলেও গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। সোডিয়াম ক্লোরাইড আয়নিক যৌগ।
ক) আয়নিক বন্ধন কী? ১
খ) কোন ধরনের মৌলসমূহের মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়? ২
গ) আয়নিক যৌগের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ। ৩
ঘ) কঠিন অবস্থায় আয়নিক যৌগ বিদ্যুৎ পরিবহন করে না কেন? ৪
ক. এর উত্তর : আয়নিক বন্ধন বা তড়িৎযোজী বন্ধন : রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহের মধ্যে ইলেকট্রন গ্রহণ ও বর্জনের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলা হয়। এর আরেক নাম তড়িৎযোজী বন্ধন।
খ. এর উত্তর : সব মৌলসমূহের মধ্যে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয় না। যেসব মৌলের পরমাণুর বহিঃস্থ কক্ষপথে ১, ২ বা ৩টি ইলেকট্রন থাকে, তারা সহজেই ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং এরা ধাতু। আবার যেসব মৌলের পরমাণুর বহিঃস্থ কক্ষপথে ৫, ৬ বা ৩টি ইলেকট্রন বিদ্যমান তারা সহজেই ৩, ২ বা ১ টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অষ্টক পূরণ করে এবং এরা অধাতু। বিজ্ঞানী কোসেলের মতে, ধাতুসমূহ ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক ও অধাতুসমূহ ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। এদের পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণে আয়নিক যৌগ গঠিত হয়।
গ. এর উত্তর : আয়নিক যৌগের বৈশিষ্ট্যসমূহ :
র) আয়নিক যৌগের গলনাংক ও স্ফুটনাংক উচ্চ।
রর) সাধারণ তাপমাত্রায় আয়নিক যৌগসমূহ কঠিন অবস্থায় থাকে।
ররর) আয়নিক যৌগসমূহ পানিতে ও অন্যান্য অজৈব পোলার দ্রাবকে দ্রবণীয়।
রা) আয়নিক যৌগসমূহ গলিত অবস্থায় ও পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
া) আয়নিক যৌগসমূহ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
ার) আয়নিক যৌগসমূহ পানিতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে।
ারর) আয়নিক যৌগসমূহের আন্তঃআণবিক শক্তি বেশি।
াররর) আয়নিক যৌগসমূহ সাধারণত সমানুতা প্রদর্শন করে না।
রী) আয়নিক যৌগসমূহের রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি দ্রুত।
ঘ. এর উত্তর : আয়নিক যৌগ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না। কেননা, বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য আয়নসমূহের যে চলাচল দরকার তা কঠিন অবস্থায় সম্ভব হয় না। কিন্তু গলিত এবং দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নগুলো চলাচল করে, ফলে বিদ্যুৎ পরিবহন সম্ভব হয়। অধিকাংশ আয়নিক যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হয়।
উদাহরণ : ঘধঈষ-এ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিসে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে বলে এরা বিদ্যুৎ অপরিবাহী। কিন্তু গলিত অবস্থায় এবং জলীয় দ্রবণে আয়নসমূহ কেলাস ল্যাটিস থেকে মুক্ত হয়ে পরিভ্রমণ করে। ফলে গলিত অবস্থায় এবং দ্রবণে আয়নিক যৌগসমূহ বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।


আরো সংবাদ