১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশের জাহিদ সবুর

-

জাহিদের ক্যারিয়ার শুরু ২০০৭ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে গুগলের ব্যাকেন্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করার মাধ্যমে। এর ছয় মাস পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দফতরে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি গুগলের জুরিখ দফতরের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। সারা বিশ্বে গুগলের কয়েক লাখ কর্মীর মধ্যে মাত্র আড়াই শ’ জন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। জাহিদ সবুর সেসব প্রতিভাবানদের একজন।
গত ২ মে গুগলের ডিরেক্টর এবং ১ নম্বর কোড জেনারেটর (প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে পদোন্নতি পান বাংলাদেশের জাহিদ সবুর। নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই পদোন্নতির কথা জানিয়েছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, মধ্য ত্রিশে এসে আমি আজ যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি তা আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। কিন্তু আমি আমার বর্তমান অবস্থানের চেয়েও এ পর্যায়ে আসতে আমাকে যে কঠিন পথ পার করে আসতে হয়েছে, সেটা নিয়ে বেশি গর্বিত।
বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী হলেও জাহিদে জন্ম সৌদি আরবে। বাবা ছিলেন কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আট বছর বয়সে সপরিবারে দেশে ফিরে এসে ভর্তি হন মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। পরে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। ব্যাডমিন্টন আর ক্রিকেট খেলতে খুব পছন্দ করতেন জাহিদ। শৈশবেই ইলেকট্রনিকস বিষয়েও আগ্রহ ছিল অনেক। সার্কিট বানাতেও শিখে গিয়েছিলেন ওই বয়সে। অনেক দিন গেছে পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু সার্কিট বানিয়েছেন।
মুখস্থবিদ্যায় দুর্বল থাকলেও স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই প্রথম হতেন। ক্লাসে নিচের দিকে থাকত রোল নম্বর। কারণ, মুখস্থবিদ্যায় দুর্বল। ইন্টারনেট আর নেটওয়ার্কিংয়ে তার দক্ষতা গড়ে ওঠার পর টেক উদ্যোক্তাদের মতো একটি বিজনেস প্ল্যান দাঁড় করান। স্নাতক সম্পন্ন করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে। এআইইউবি থেকে তিনি রেকর্ড সিজিপিএ ৪.০ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
গুগলে কিভাবে চাকরি হলো, সেই গল্পটা অনেকেরই অজানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টারে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ক্লাস ছিল। ওই সময় থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের নেশা ধরে যায়। অনলাইনে প্রোগ্রামিং প্রবলেম সমাধান শুরু করার পরের দুই বছরে এক হাজার ২০০ বা এক হাজার ৩০০ প্রবলেম সলভ করেছিলেন জাহিদ। সে সময় স্পেনের ভ্যালাডলিড বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রোগ্রামিংয়ের সেরা প্ল্যাটফর্ম। তাদের র্যাংকিংয়ে জাহিদ ১৫ নম্বরে উঠে গিয়েছিল। ২০০৪ সালে বুয়েটের সিএসই ডেতে তার প্রোগ্রামিং টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। একসময় গুগল এখানে কোড জ্যাম নাম দিয়ে একটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট চালু করে। ফাইনাল ছাড়া অন্য পর্বগুলো হতো অনলাইনে। শেষ পর্বটা যখন চলছিল, তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। জাহিদের ইউপিএস বা জেনারেটর কিছুই ছিল না। তবে বিদ্যুৎ আসামাত্রই কম্পিউটার অন করে ফটাফট কোড শেষ করে আর কিছু না ভেবে জমা দিয়ে দিলেন। তখন কয়েক সেকেন্ড মাত্র বাকি ছিল। অবশেষে ফাইনালের জন্য সিলেক্ট হলেন। ফাইনালিস্টদের গুগল নিয়ে গেল তাদের অফিসে। প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার দেয়া হলো আর ঘোষণা করা হলো, আগামী দিন হবে ইন্টারভিউ। জাহিদের ইন্টারভিউটা মোটামুটি হয় এবং দেশে ফিরে কয়েক দিন পর ই-মেইল পান। আরেকটি ইন্টারভিউ দিতে হবে, ফোনে। তার পর আবার অনেক দিন পরপর সিভি চাইল, সার্টিফিকেট চাইল, রেফারেন্স চাইল। শেষে গুগল জাহিদকে জব অফার দিলো। উড়াল দিলেন ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের হেডকোয়ার্টারে।
২০১৩ সালে গুগল সার্চ টিমে যোগ দেয়। তখন সার্চের জন্য কিছু নতুন ফিচার তৈরির সুবাদে প্রমোশনও পেয়েছিলেন। ফিচারগুলোর একটি ছিল লাইভ টেলিভিশন প্রোগ্রামের ভোটিং হোস্ট করা। তখন আমেরিকার বড় লাইভ টিভি শো ছিল আমেরিকান আইডল। সেটির ভোটিং হোস্ট করার সুযোগ তৈরি হয়ে যায় ওই ফিচারটির বদৌলতে। অনুষ্ঠানের দিন জাহিদকে বাহবা দিতে এসেছিলেন গুগল সার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
গুগলে ভয়েস সার্চ উন্নত করতে গিয়েই কিন্তু একটি নতুন ইন্টারফেসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। আর তা থেকেই জন্ম নেয় গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট। গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট উন্মুক্ত হওয়ার পর ২০১৬ সালে আরেকটি প্রমোশন পান জাহিদ।


আরো সংবাদ