২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অ্যাপে ট্রেনের টিকিট নিয়ে অভিযোগ

-

ট্রেনে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি নিয়ে অ্যাপ কাজ না করার অভিযোগ করেছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। গত কয়েক দিনে অনলাইন ও অ্যাপে টিকিট কিনতে না পেরে অনেকেই এসেছিলেন কমলাপুরসহ ঢাকার পাঁচটি কাউন্টারে। ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়েছেন তারা। আগামীকাল পর্যন্ত অনলাইন ও অ্যাপে টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ২ জুনের টিকিট। আগের রাত থেকে অনলাইনে চেষ্টা করেও টিকিট না পেয়ে সাহরির পরেই কমলাপুরে এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী রুবেল ইসলাম। দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইন শেষে টিকিট পেয়েছেন দুপুর সাড়ে ১১টায়। তিনি জানান, অ্যাপে লগইন করলে যাত্রা শুরু ও গন্তব্যের স্থান নির্ধারণ করা পর্যন্ত সব ঠিকভাবে কাজ করে। তবে টিকিট কনফার্ম করার সময় আর কিছু কাজ করে না। শুধু দেখায়, সার্ভার নট ফাউন্ড।
চলতি বছর অনলাইন ও অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ শতাংশ। আগের বছরগুলোতে অনলাইন ও স্মার্টফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ। অনলাইনে বরাদ্দ করা টিকিটের পরিমাণ বাড়লেও কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রির প্রথম দুই দিনই পুরনো দৃশ্য দেখা গেছে। আগের দিন রাত থেকেই কাউন্টারে ভিড় করছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
অবাক করার বিষয় হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লমিটেড বাংলাদেশ এবং রেল কর্তৃপক্ষের টিকিট বরাদ্দের হিসাবে গরমিল রয়েছে। দুই পক্ষের দেয়া হিসাবে বরাদ্দকৃত টিকিটের ব্যবধান প্রায় পাঁচ হাজার। সিএনএস জানায়, ৩১ মের জন্য অনলাইন ও কাউন্টার মিলিয়ে বরাদ্দকৃত ৩১ হাজার ৪২০টি টিকিটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১৭ হাজার ৯৯৩টি। বাকি ১৩ হাজার ৪২৭ টিকিট অবিক্রীত।
অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশন ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বলেছেন, প্রতিদিন ঢাকায় পাঁচটি স্থানের কাউন্টারে টিকিট বরাদ্দ থাকে ২৬ হাজার ৩৪১টি। দুই পক্ষের হিসাবের এই ভিন্নতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেন, সিএনএস যে সংখ্যার কথা বলেছে, তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
সিএনএসের নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান বলেন, তাদের বিক্রীত টিকিটের পরিপূর্ণ হিসাব আজ শনিবার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপে বিপুল গ্রাহক লগইন করেন। তাই অ্যাপ ঠিকভাবে কাজ করতে সার্ভারের সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। সার্ভারের সক্ষমতা নিয়ে সিএনএসের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) শামীম উল হক বলেছেন, কাউন্টারে যে সার্ভার ব্যবহার করে টিকিট বিক্রি করা হয়, একই সার্ভার ব্যবহৃত হয় অনলাইনে। কাউন্টারে যেহেতু সমস্যা হচ্ছে না, সুতরাং অনলাইনেও সার্ভার কোনো সমস্যার কারণ নয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন জানিয়েছেন, এই যুক্তি হাস্যকর। কারণ, কাউন্টারে সার্ভার ব্যবহার করেন ১০-১৫ জন টিকিট বিক্রেতা। আর অ্যাপে লগইন করেন হাজার হাজার গ্রাহক। ফলে অ্যাপের জন্য বেশি র্যামের সার্ভার প্রয়োজন, এটা থাকলে মানুষকে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করছে সিএনএস। কাউন্টারে রেলওয়ের টিকিট বিক্রির সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা ও অনলাইনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ‘রেল সেবা’ নামে টিকিট বিক্রির যে অ্যাপ চালু হয়েছে, সেটিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তারা। তবে এসব সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়ছে মানুষ।
অ্যাপটি রেলওয়ের কর্মকর্তারা যুগান্তকারী হিসেবে অভিহিত করলেও এখনো এটি মোবাইলে ইনস্টলই করতে সক্ষম হননি অনেক গ্রাহক। যারা পেরেছেন, তাদের একটা অংশ আবার টিকিটও কাটতে পারেননি। টিকিট না দিয়ে টাকা কেটে রাখারও অভিযোগ মিলছে।
রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাউন্টারে টিকিট বিক্রির সফটওয়্যার পরিচালনা করে কমিশন বাবদ টিকিটপ্রতি ৫ টাকা পায় সিএনএস। অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপে টিকিট বিক্রি হলে সেখান থেকে পায় টিকিটপ্রতি ২৫ টাকা। কাউন্টার, অনলাইন ও অ্যাপের টিকিট ব্যবস্থাপনা বাবদ বড় অঙ্কের কমিশন পেলেও শুরু থেকেই সিএনএসের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। দিন যত গড়িয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ বেড়েছে তত বেশি।

 


আরো সংবাদ

হামলাকারী দেশকে ‘মূল রণক্ষেত্র’ করা হবে : ইরান দফায় দফায় উচ্ছেদের পরও যৌবন ফিরেনি বুড়িগঙ্গায় এক মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারাল ডিএসই ধরা পড়লে কেউ চেনে না জুয়ার শীর্ষ নিয়ন্ত্রকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে জি কে শামীমের সাথে দু’টি ছবি নিয়ে না’গঞ্জে তোলপাড় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে : ড. আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের স্মরণসভায় জি এম কাদের জাতি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চায় সমুদ্র নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে টেলিলিংক গ্রুপ চেয়ারম্যানের ঢাকা ত্যাগ

সকল