২৫ আগস্ট ২০১৯

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের নাসায় যাওয়া হলো না

-

দেশীয় চ্যাপ্টারের আয়োজনে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েও ভিসা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মূল প্রতিযোগিতায় যেতে পারেননি বিজয়ীরা। অথচ বিজয়ীদের সঙ্গে যাদের যাওয়ার কথা ছিল, তারা ঠিকই যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আয়োজনে দেশে অনুষ্ঠিত হয় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতা। সেই আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ‘অলিক’। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় (২১ ও ২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে। নাসার আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও বিজয়ীদের ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ থেকে সুপারিশ পত্র দেয়া হলেও ভিসা দেয়নি দেশটি। টিম অলিকের সদস্যরা হলেন মেন্টর শাবির সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী, সাব্বির আহমেদ, কাজী মাইনুল ইসলাম, আবু সাবিক মেহেদী ও এসএম রাফি আদনান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিজয়ীরা সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় তারা সে দেশ থেকে ফিরে আসবে কি না, এই সন্দেহে তাদের ভিসা দেয়া হয়নি।
বিজয়ীদের ভিসা না হলেও ঠিকই ভিসা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তাদের। প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা যেতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকই সফরে গেছেন সরকারের ওই কর্মকর্তারা। এছাড়া দেশে প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক বেসিসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস) পরিচালক ও প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক দিদারুল আলম সানি ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হাসান অপুর আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা থাকায় তারাও সরকারি খরচে সে দেশে সফরে যান। টিম অলিকের সদস্য আবু সাবিক মাহদি জানিয়েছেন, গত ৩০ মে বাংলাদেশ থেকে ১৩ জনের একটা দলের তালিকা কমিউনিটি ম্যানেজারকে পাঠানো হয়। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে জানানো হয়, আইসিটি ডিভিশন আমাদের সকল খরচ বহন করবে। আমাদের সঙ্গে নাসাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও আমাদের সঙ্গে যাবেন। সরকারি প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইসিটি বিভাগের উপ-সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহাতাব ও মো. আবুল খায়ের, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেটর সেন্টার প্রজেক্টের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর মোবাইল গেমস এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রজেক্টে উপসচিব মো. আবদুল হাই, ইনোভেশন ডিজাইন এবং এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যাকাডেমির (আইডিয়া) উপপ্রকল্প পরিচালক কাজী হোসনা আরা ও আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একরামুল হক। তবে ভিসা না হওয়ায় এই প্রতিনিধি দলের সদস্য হতে পারেননি আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেসিসের তিন সদস্য।
টিম অলিকের সদস্য সাব্বির আহমেদ জানান, শাবি টিম অলিককে তারা আগামী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাবে, এমনটা নাসা কর্তৃপক্ষ পাবলিক ইভেন্টে ঘোষণা করেছে। তবে অফিসিয়ালি আমাদের কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরবর্তীতে ভিসার জন্য তারা আর আবেদন করেননি উল্লেখ করে সাব্বির বলেন, আমাদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরে আমরা জানতে পারি, ২৩ জুলাই নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা আর আবেদন করিনি। পরপর দু’বার প্রত্যাখ্যান হলে ব্ল্যাক লিস্টে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এজন্য আমরা আর আবেদন করিনি।
নাসায় যেতে না পারাকে দুর্ভাগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাসায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আমরা যেতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। হয়তো নাসায় গেলে আমরা আরো বেশি কিছু শিখতে পারতাম।
কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের আগামীতে নাসায় যাওয়ার বিষয়ে একটি ইনফর্মাল মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগামী বছর সুযোগ হলে একই অনুষ্ঠানে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
এ বিষয়ে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশ পর্বের আয়োজক বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, নাসার আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও স্থানীয় আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব না থাকাটা অসৌজন্যমূলক হওয়ায়, প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছে নাসা থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি হিসেবে যারা গেছেন তারা বিজয়ীদের ভিডিও বার্তা নিয়ে গেছেন। তারা সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ যাতে আগামীতে মূল প্রতিযোগিতার আয়োজক হতে পারে, সেই প্রস্তাবনা নিয়ে গেছেন। নাসার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ দল ভিসা না পাওয়ায় তারা খুবই ব্যথিত। নাসা থেকে টিম অলিককে আবারও আমন্ত্রণ জানানো হয়। আগামী বছরের বিজয়ী দলগুলোর সঙ্গে অংশ নিতে পারবে টিম অলিক।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘বেস্ট ইউজ অব ডেটা’ বিভাগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) টিম অলিকের তৈরি ‘লুনার ভিআর’ সারা বিশ্বের এক হাজার ৩৯৫টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী হয়।

 


আরো সংবাদ