২১ আগস্ট ২০১৯

শপথ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের নবনির্বাচিত কমিটি

শপথ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের নবনির্বাচিত কমিটি - সংগৃহীত

অভিনয়শিল্পী সংঘের নবনির্বাচিত কমিটি শপথ নিয়েছেন। সোমবার রাতে সংগঠনের নিকেতনে কার্যালয়ে নতুন সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান অভিনয় শিল্পী সংঘের এবারের নির্বাচনের প্রধান কমিশনার খায়রুল আলম সবুজ। এই শপথ অনুষ্ঠানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন শিল্পী সংঘের নেতারা।

গত শুক্রবার দ্বিতীয়বারের অনুষ্ঠিত হয় অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচন। এতে নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম। সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবিব নাসিম। ওই দিন রাতে শিল্পকলা একাডেমিতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

টিভি অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয় শিল্পী সংঘের এই কমিটি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২১টি আসনের জন্য লড়াই করছেন ৫১ জন অভিনয়শিল্পী। এতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আজাদ আবুল কালাম, ইকবাল বাবু ও তানিয়া আহমেদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন রওনক হাসান এবং আনিসুর রহমান মিলন। অর্থ সম্পাদক নূর এ আলম, দপ্তর সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রাণ রায়, অনুষ্ঠান সম্পাদক রাশেদ মামুন, আইন ও কল্যাণসম্পাদক পদে শামীমা ইসলাম তুষ্টি, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুজাত শিমুল।

নতুন কমিটিতে সাত কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা হলেন নাদিয়া আহমেদ, সেলিম মাহবুব, জাকিয়া বারী মম, বন্যা মির্জা, মুনিরা বেগম মেমী, শামস সুমন ও রাজীব সালেহীন। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন লুৎফর রহমান জর্জ। তিনি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত আনিসুর রহমান মিলন ছাড়া নির্বাচিত সবাই আজকের অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেছেন। জানা গেছে, লুৎফর রহমান জর্জ শুটিংয়ের কাজে ঢাকার বাইরে এবং আনিসুর রহমান মিলন তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, আফরোজা বানু, বৃন্দাবন দাস ও মাসুম আজিজ, অন্তবর্তী কমিটির প্রধান কে এস ফিরোজ, লাকী ইনাম এবং নরেশ ভুইয়া, টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন সাজু মুনতাসির, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন দোদুল প্রমুখ।

নতুন সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম শপথ গ্রহণ করে জানান, আগের অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করা এবং শিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় দিকে প্রথমে মনযোগ দেবেন তারা। সেলিম বলেন, ‘ কাজের ক্ষেত্রে সমবণ্টন, পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ বা কাজের সময় নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। টেলিভিশনের দিক থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় কাজ করতে চাই। দর্শকেরা যেন আবার এদিকে দৃষ্টি ফেরান তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে বসে দ্রুত করতে চাই।’ তিনি বলেন, সংগঠনের সদস্যদের আত্মমর্যাদার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে চাইব, ‘শিল্পী’ যে একটা পেশা তার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি। গুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীদের সিআইপি বা ‘সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব’ ঘোষণা করতে হবে।

শপথ গ্রহণ করে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত আহসান হাবীব নাসিমও পেশাদারির সংকট নিরসনে বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন বলে জানালেন। নাসিম বলেন, এ পেশা সমন্বিত শিল্প। এখানে পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলী—প্রতিটি বিভাগের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই অভিনয়টা চালিয়ে যেতে হয়। সুতরাং এসব সংগঠনের সঙ্গে আরও বেশি একাত্ম হয়ে সমন্বিতভাবে সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্টা চালাব। নাসিম আরও বলেন, ‘ দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ততার কারণে কর্মঘণ্টা নির্ধারিত হয়নি। এই বিষয়ে বেশ কিছু চুক্তি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে কাজগুলোর ওপর বেশি জোর দেব। শুটিং-সম্পর্কিত যে সংকটগুলো থাকে, তা নিরসনের জন্য কাজ করব।’


আরো সংবাদ