১৪ অক্টোবর ২০১৯

ঈদের ছুটিতে মুক্ত হাওয়ায় নগরবাসী

হাতির ঝিল এলাকায় লোকজনের ভিড় - ছবি : সংগ্রহ

বৃষ্টিতে পানসে গেছে রাজধানীবাসীর ঈদের দিন। পরদিন থেকে প্রকৃতি অনেকটাই অনুকূলে। আর সেই সুযোগে নগরীর ভেতর ও আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানগুলোতে মানুষ বেড়িয়েছেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন ছিল কোলাহলমুক্ত, নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ। পূর্বাচলে দ্বীপের মতো ভাসমান ইকোপার্ক, লেক, হাতিরঝিল, ৩০০ ফিট, উত্তরার দিয়াবাড়ির মতো উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ছুটির আমেজ থাকায় এসব জায়গায় এখনো লেগে আছে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পূর্বাচলের ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের মধ্যে গড়ে ওঠা দ্বীপের মতো ভাসমান ইকোপার্ক ও চারপাশের লেক এরিয়াতে নগরবাসীরা ভিড় জমিয়েছেন। কেউ কেউ নৌকায় ঘুরছেন। ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির শোভা উপভোগ করছেন।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বাচলের চোখ ধাঁধানো আকর্ষণীয় এক সৌন্দর্য হচ্ছে ইকোপার্ক। ব্যতিক্রমী এক নকশায় তৈরি হচ্ছে এই ইকোপার্ক, যা হয়তো বিশ্বের কোনো আবাসিক এলাকায় নেই।

স্থানীয়রা জানান, চার দিকে প্রশস্ত নয়নাভিরাম লেকের মধ্যে দ্বীপের মতো ভাসমান দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক এখনই দৃশ্যমান। ১২ ও ১৭ নম্বর সেক্টরের ঠিক মাঝখানে লেকের মধ্যে এই ইকোপার্ক সবুজ গাছগাছালিতে পূর্ণ হয়ে উঠছে। কাজ শেষ হলে প্রকৃতি ও পাখির অপার মেলবন্ধনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন আগতরা। জানা গেছে, ১২.৬ একর জায়গা জুড়ে তৈরি হচ্ছে এই ইকোপার্ক।
ইকোপার্ক এলাকায় আজিমপুর থেকে ঘুরতে আসা ব্যাংকার নজরুল ইসলাম জানান, এটি সত্যিই সুন্দর একটি জায়গা। মুক্ত হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পরিবারের সবাই মিলে আমরা এসেছি, দারুণ সময় উপভোগ করছি।

নগরীর ভেতরে হাতিরঝিলই এখন মেটাচ্ছে ঘুরে বেড়ানোদের তৃষ্ণা। শুক্রবার হাতিরঝিলে গিয়ে দেখা গেছে, এ যেন মানুষের হাট। হাতিরঝিলের ওয়াক ওয়ে আর ব্রিজগুলোতে কিলবিল করছে মানুষ। ঝিলের পানিতে কিছুটা দুর্গন্ধ থাকলেও ঈদের ছুটিতে তা যেন কাউকে আটকাতে পারেনি। নগরবাসী ছুটে গিয়েছেন সেখানে, ছিলেন রাত অবধি। হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী সোলায়মান বলেন, রাতের হাতিরঝিলই সুন্দর। নানা রঙের আলো। ওয়াটার লেজার শো হয়। ব্রিজগুলোতে দাঁড়ালে চার দিকের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। মনে হয় যেন দেশের বাইরের কোনো পর্যটন কেন্দ্রে আছি। হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থানে ফুডকোর্ট ছাড়াও বাইরের খাবারের দোকানগুলোয় ভিড় দেখা গেছে। ওয়াটার বাস এবং প্যাডেল নৌকার টিকিট কাউন্টারের সামনেও ছিল দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন।
স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়াতে এসেছেন রামপুরা তিতাস রোড এলাকার সবজি বিক্রেতা কাজল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বেশি ঘুরাঘুরি করার সুযোগ তো পাই না, সময়ও অয় না। আইজকা চান্স পাইয়া আইসা পড়লাম। মাইয়া দুইটা তো খুব খুশি হইছে।’
মানুষের ভিড় দেখা গেছে ৩০০ ফিট এলাকায় এবং উত্তরার দিয়াবাড়িতেও।

দিয়াবাড়িতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য। ফড়িংয়ের মতো মানুষ ঘুরছে। কপোতকপোতিরা বসে আড্ডা দিচ্ছে।

রাজধানীর বুকে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে যে বিমোহিত করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শরৎকালে এখানে দেখা মেলে কাশফুলের কোমল পরশ আর সাদা সাদা নরম মেঘের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা সোনাঝরা রোদ। দিয়াবাড়ির অন্যতম দর্শনীয় জায়গা হচ্ছে বিশাল বটগাছ। আজকাল নাটকে এই বটগাছটি প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়। জায়গাটার নাম এখন হয়ে গেছে ‘দিয়াবাড়ি বটতলা’। 

প্রায় সময় এখানে কোনো না কোনো নাটকের শুটিং চলে। ঈদের ছুটিতে এখানেও বেশ ভিড় দেখা গেল। 
বেশ কিছুদূর সামনে গেলে দেখা পাওয়া যায় একটি মরানদী। এটি তুরাগ নদীরই একটি শাখা। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি নান্দনিক সংযোগ সেতু। এই সেতুর ওপর দাঁড়ালে আঁকাবাঁকা নদীর নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পরিত্যক্ত নৌকা। জাল ফেলে মাছ ধরছে জেলেরা। অদ্ভুত, অসাধারণ, রোমাঞ্চকর ও মনোরম এমন পরিবেশে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ঈদের ছুটিতে আসছেন সবাই দলবেঁধে। কাটছে তাদের দারুণ সব বিকেল।


আরো সংবাদ