১৯ জুন ২০১৯

অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ইকুয়েডরের

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ - ফাইল ছবি

রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পর এবার উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে ইকুয়েডর। দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসকে ‘গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তিনি আরো দাবি করেন, অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করার পেছনে অন্য কোন দেশের ইন্ধন নেই।
২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসা ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোরেনোর সরকারের সাথে শুরু থেকেই সম্পর্ক ভালো নয় অ্যাসাঞ্জের। প্রেসিডেন্টের গোপন কিছু ছবিও একবার ফাঁস করেছে উইকিলিকস।

ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'কে প্রেসিডেন্ট মোরেনো বলেন, ইকুয়েডরের সাবেক সরকার অন্য রাষ্ট্রের কার্যক্রমে 'হস্তক্ষেপ' করার উদ্দেশ্যে তাদের দূতাবাসের ভেতরে সহায়তা প্রদান করতো।
প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাসাঞ্জে'র আইনজীবী ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে 'যাচ্ছে-তাই অভিযোগ' আনার অভিযোগ তুলেছেন।

২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট মোরেনো দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের সাত বছরের আশ্রয় বাতিল করার কারণ সম্পর্কে বলেছেন: ‘অস্থিতিশীলতা তৈরি করার যে কোনো প্রচেষ্টাই ইকুয়েডরের জন্য নিন্দনীয়, কারণ আমরা একটি সার্বভৌম দেশ এবং আমরা অন্যান্য দেশের রাজনীতির সম্মান করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের বাড়ি - যেই বাড়ির দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে - সেটিকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে পারি না।’

প্রেসিডেন্ট মোরেনো জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের স্বাস্থ্যের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া পাওলা রোমো'র মন্তব্যেরও প্রসঙ্গ টানেন। যদিও অ্যাসঞ্জের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই'য়ে এক অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জেনিফার বলেন, ‘দূতাবাসের ভেতরে ব্রিটিশ পুলিশকে ঢুকতে দেয়ার বেআইনি এবং বিস্ময়কর সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে ইকুয়েডর গত কয়েকদিনে কিছু গর্হিত অভিযোগ এনেছে।’

তিনি আরো বলেন, অ্যাসাঞ্জ যে সন্দেহ করছিলেন যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে, তা আরো ঘনীভূত হয়েছে এই সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে আনা পেন্টাগনের কম্পিউটারে হ্যাক করার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর।

২০১২ সালে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়ে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ ১২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারেন। সুইডেনের হাতে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাসাঞ্জ।

সুইডেনে ধর্ষণসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসঞ্জের বিরুদ্ধে।

কেন আসঞ্জের আশ্রয় বাতিল করলো ইকুয়েডর?
লন্ডনে ইকুয়েডর-এর রাষ্ট্রদূত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানিয়ে জুলিয়ান আসঞ্জকে তাদের হাতে তুলে দেন। এর আগে ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জে আচার-ব্যবহারের কারণে তাদের ধৈর্যের সীমা একেবারে শেষ প্রান্তে এসে ঠেকেছে।

সম্প্রতি ভ্যাটিকান সম্পর্কিত কিছু দলিলপত্র ফাঁস করে দেবার বিষয়টি উল্লেখ করেনে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে এসব দলিলপত্র ফাঁস করা হয়।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এসব কাগজপত্র ফাঁস করার মাধ্যমে বিশ্ব নিশ্চিত হয়েছে যে উইকিলিকসের সাথে তার এখনো সম্পর্ক আছে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করছে।’ ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেখানেও তিনি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।

সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, অ্যাসাঞ্জ দূতাবাসের ভেতরে স্কেটবোর্ডিং করতেন এবং ফুটবল খেলতেন। এ নিয়ে তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা করেছেন। ইকুয়েডর দূতাবাস সাত বছর তাকে আশ্রয় দিলেও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন না। বরং ইকুয়েডর দূতাবাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে তার উপর নজরদারী করছেন। বিবিসি


আরো সংবাদ