১৪ অক্টোবর ২০১৯

হার মানতে নারাজ বরিস জনসন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন - সংগৃহীত

একের পর এক ধাক্কা। প্রথমে দলের এমপি, পরে পার্লামেন্ট তার পর নিজের ভাই। ব্রেক্সিট নিয়ে মতবিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট মেম্বার ও মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভাই জো জনসন; কিন্তু এত কিছুর পরও হার মানতে রাজি নন বরিস জনসন। নির্ধারিত সময়েই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করবেন।

পার্লামেন্টে দুই দফা হারের পর বরিস জনসন বলেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ব্রেক্সিট বিলম্ব করতে অনুরোধ করার থেকে বরং খাদে পড়ে মরব।’ ওয়েকফিল্ডের পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটিশের বিচ্ছেদ) বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত রয়েছে দাবি করা হলেও পার্লামেন্টের বিরোধী দল লেবার পার্টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এটা প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছে।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হয়ে গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। মঙ্গলবার জনসন সরকারের ব্রেক্সিটনীতির বিরোধীরা পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলেন। এই প্রস্তাবে ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্রেক্সিট আরো পিছিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। ওই প্রস্তাব পাস হলে হেরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস জনসন আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিট বিলম্ব করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সময় চেয়ে অনুরোধ করার থেকে বরং খাদে পড়ে মরবেন তিনি। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত হবেন বলেও জানান তিনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে যখন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, ব্রেক্সিটের নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে আরো সময় নেয়া হলে পদত্যাগ করবেন কি না তখন তিনি সে সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

পার্লামেন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যান

লন্ডনের হাইকোর্ট শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ব্রেক্সিটের আগে পার্লামেন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে হাইকোর্ট বলেছেন, এটি চূড়ান্ত আপিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে নেয়া যেতে পারে।

জনসন আগস্টের শেষে ঘোষণা করেছিলেন যে, ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের আগে তিনি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত করবেন। গিনা মিলার এই আইনি চ্যালেঞ্জ আনেন। দুই বছর আগে গিনা মিলার ব্রেক্সিটের আর এক ইস্যুতে সরকারকে পরাজিত করেন। পরে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের প্রক্রিয়ায় যোগ দেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেয়। মিলার আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিটেনের গণতন্ত্রের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পার্লামেন্টের অধিবেশন চলা উচিত।


আরো সংবাদ