২১ নভেম্বর ২০১৯

নির্বাচনের আগে ১৯ নভেম্বর টিভি বিতর্কে মুখোমুখি হবে বরিস ও করবিন

নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ২০১৭ সালে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার প্রেক্ষিতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ২০২২ সালের ৫ মে। কিন্তু ব্রেক্সিট অচলাবস্থার কারণে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব করলে বিপুল ভোটে তা পাস হয়। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি আগে থেকেই চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হওয়ার সম্ভবনার প্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের আহবান করেছিল। আর এই নির্বাচন নিয়ে ব্রিটেনের রাজনীতিতে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি নির্বাচন উপলক্ষে জনগণের কাছে তাদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এদিকে আগামী ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচন ঘিরে ব্রিটেনের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল আইটিভি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন) প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের প্রধানের মুখোমুখি বিতর্কের আয়োজন করেছে আগামী ১৯ নভেম্বর। গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। পরের দিন শুক্রবার জেরেমি করবিনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর এরই প্রেক্ষিতে আইটিভি ওই বিতর্কের আয়োজন করে।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রথম মুখোমুখি ওই বিতর্কে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করবেন আইটিভির নিউজ প্রেজেন্টার জুলি এচিনঘাম। বরিস ও করবিনের মুখোমুখি বিতর্কের পরে ওই অনুষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে ওই দিন সন্ধ্যায় আইটিভি আয়োজন করবে লাইভ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেবে কনজার্ভেটিভ পার্টি, লেবার পার্টি, লিবারাল ডেমোক্রেটিক (লিবডেম) পার্টি, ব্রেক্সিট পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) ও গ্রীন পার্টির নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এরই মধ্যে মুখোমুখি বিতর্ককে স্বাগত জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের উচিত জনগণের জন্য এনএইচএস, স্কুল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা। এসবের মাধ্যমেই দেশের জন্য ইতিবাচক কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

লেবার লিডার জেরেমি করবিনও এক টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য।

এদিকে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থানকারী দল লিবডেমের নেতারা নির্বাচন নিয়ে আইটিভি বিতর্ক অনুষ্ঠানে তাদের দলের প্রতিনিধিকে না রাখায় হতাশা ব্যক্ত করেছে। এক টুইট বার্তায় লিবডেম জানিয়েছে- ব্রেক্সিটের কারণেই ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থানকারী প্রধান দল হচ্ছে লিবডেম। এই দলের প্রধান জো সুইনসনকে মুখোমুখি বিতর্কের প্রধান অনুষ্ঠানে না রাখা আইটিভির ব্যর্থতা।

সেখানে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনকে সাথে রাখার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী দল লিবডেম। এই দলের নারী নেত্রীর মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন বরিস জনসন ও জেরেমি করবিন। তাদের সহায়তা করা আইটিভির উচিত নয়।

লিবডেমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইটিভি জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে তারা পরবর্তীতে লিবডেম, এসএনপি, ব্রেক্সিট পার্টি, প্লেইড সাইম্রো পার্টির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান করবে। ওই বিতর্ক অনুষ্ঠানে কনজার্ভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির নেতারাও থাকবেন।

আগামী ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বাকি আছে আর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান দু’দলই তাদের বক্তব্য জনগণের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রেক্সিট এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ে মতামত দেয়ার অধিকার রয়েছে দেশের জনগণের। জনসন আশা করছেন, বেক্সিট চুক্তি এবং বর্তমান পার্লামেন্টে অচলাবস্থা নিরসনে তাকে নতুন করে ম্যান্ডেট এনে দেবে নির্বাচন, যে ব্রেক্সিটের জন্য ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এখন সময় পেয়েছে যুক্তরাজ্য।
অন্যদিকে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, দেশ সংস্কার এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এই নির্বাচন বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি সুযোগ। তিনি জানিয়েছেন, তার দল এখন দেশের সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর জোরালো প্রচারণা শুরু করবে, যা এই দেশ এর আগে কখনো দেখেনি।


আরো সংবাদ

সকল