২২ আগস্ট ২০১৯

সৌদি আরবে আরো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদির আরবের সাথে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সাথে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সৌদিতে নতুন করে কয়েক শ’ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এক রিপোর্টে জানিয়েছে সিএনএন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পূর্বাঞ্চলের মরুভূমিতে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ৫০০ সেনা যাবে বলে দুই মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন, রানওয়ে ও বিমান ওঠানামার স্থানের উন্নয়নে সেখানে ছোট্ট একটি মার্কিন সেনাদল ও তাদের সহযোগীরা আগে থেকেই অবস্থান করে আছে। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প সময়ের জন্য সেনা রাখতে চাচ্ছে। কারণ দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কঠিন সময়ে ইরান ওই বিচ্ছিন্ন এলাকাকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা বানাতে পারে।

তবে এমন এক সময় এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্ক চরম স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড প্রশাসন কিভাবে সামলাচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় ক্ষোভ রয়েছে।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ইরানি আগ্রাসন থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত এক হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু তারা কোন দেশে যাবে সুনির্দিষ্ট করে তখন তা উল্লেখ করেনি। সেনাসদস্যরা সৌদি আরবেও যাচ্ছে। গত জুনে উচ্চমাত্রার উপগ্রহ দিয়ে ওই বিমান ঘাঁটির ছবি নিয়েছে ইস্টএশিয়া ননপ্রলিফারেশন প্রজেক্ট। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জেফরি লুইস বলেন, গত ২৭ জুন রানওয়ের শেষপ্রান্তে একটি ছোট ক্যাম্প ও অবকাঠামোর প্রস্তুতি দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি বলেন, রানওয়ের আগে এই ক্যাম্প বিদেশে মোতায়েন করা বিমানবাহিনী প্রকৌশল ইউনিটের মতো দেখতে।

সৌদি আরবে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে রিয়াদ সবসময়ই স্পর্শকাতর। কাজেই এ নিয়ে সৌদি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। ২০১৬ সালে রিয়াদে শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল-নিমরের ফাঁসি কার্যকর ও তেহরানে সৌদি দূতাবাসে সাধারণ মানুষের হামলার পর দুই দেশের মধ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সৌদি আরবে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার প্রায় এক মাসের মাথায় প্রস্তাবগুলো কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তাবগুলো এখন হোয়াইট হাউজে যাবে। সেখানে ট্রাম্প এ বিষয়ে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মে মাসে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের দরকার হলেও বিশেষ অবস্থায় প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে তা অনুমোদনের ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন তিনি।

ইরানের কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। গত জুনে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করতে তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে সিনেট। আর বুধবার (১৭ জুলাই) প্রস্তাবগুলো পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদও।

তিনটি প্রস্তাবের দুইটি ২৩৮-১৯০ ভোটে এবং তৃতীয়টি ২৩৭-১৯০ ভোটে পাস হয়েছে। তিনটি প্রস্তাবেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় আঘাতের সক্ষমতাসম্পন্ন মার্কিন অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি বিক্রি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব। সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধ ছাড়াও ইরাক ও লেবাননে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে তাদের অবস্থানও বিপরীতমুখী। অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরব। ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও রিয়াদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কথা বেশ কয়েকবারই স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।

আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অনেকে গত বছরের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যায় সৌদি আরবের ভূমিকা প্রশ্নে রিয়াদের তীব্র সমালোচনা করেন। জাতিসঙ্ঘও বলেছে, জামাল খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়ী।

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্দানের কাছে বিভিন্ন ধরনের ৮ দশমিক এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র জরুরি ভিত্তিতে বিক্রি করতে চাইছেন। কিন্তু ইয়েমেনে সৌদি আরব যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে সেটি নিয়ে কংগ্রেস সদস্যরা তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।


আরো সংবাদ

নদীপথে নাব্যতা থাকলে বছরে ১৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘে অভিযোগ পাকিস্তানের ফেসবুকে নতুন সুযোগ : মুছে ফেলা যাবে সব ডিজিটাল অ্যাকটিভিটি ভয়ঙ্কর আতঙ্কে কাশ্মিরি মেয়েরা চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে অমিত শাহের বদলা! হজযাত্রীদের ৪০ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব ৭৫-এর পরিকল্পনাকারীদের বিচারে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি রাজধানীতে জেএমবির চার সদস্য গ্রেফতার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে ফিরে না গেলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সকল