২৩ আগস্ট ২০১৯

সমঝোতার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

-

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, এই ‘উন্মাদ যুদ্ধে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়া কখনোই উচিত ছিল না।

সি-স্প্যান টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ চালিয়ে যাবো। আমরা সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। আমি এই উন্মত্ত যুদ্ধগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই যাতে জড়ানো আমাদের কখনোই উচিত ছিল না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের মিত্ররাও এখনই তালেবানের সাথে একটি চুক্তি করতে কাজ করছেন। আমি আশা করছি যে এই চুক্তিটি এমন একটি সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের অনুমতি দেবে।

বৃহস্পতিবার তালেবানের এক মুখপাত্র সুহেল শাহীন আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান গত আট মাস ধরে যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে তা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তিটি আফগানিস্তানে বিদেশী সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটাবে। তবে তিনি খুব দ্রুত সময়ে যুদ্ধবিরতির কথা অস্বীকার করেছেন। দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে টেলিফোনে তালেবানের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা কাছাকাছি চলে আসছি। আলোচকরা চুক্তির ক্ষেত্রে সব বড় ইস্যুর ব্যাপারে কাছাকাছি আসতে পেরেছে।’

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ঘোষণা করেছে যে বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে টেলিফোন করেছেন এবং দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ‘সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার এখন সময় এসেছে’।

পম্পেও ফক্স নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রগুলো সম্পূর্ণরূপে কমিয়ে ফেলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সত্যিকারের অগ্রগতি প্রত্যাশা করেছেন। চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে অন্ত-আফগান শান্তি আলোচনা, যাতে আফগান সরকারও অংশ নেবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপটি হবে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে প্রত্যাহারের সূচনা। এই সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটনের ইকোনমিক ক্লাবের পম্পেও মন্তব্য করেছিলেন যে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আফগানিস্তানের বিষয়টি সমাধান করতে চান ট্রাম্প।

তালেবানের সাথে আলোচনায় আফগান সরকারের ১৫ প্রতিনিধি
এ দিকে আরব নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান যখন একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তালেবানের সাথে সরাসরি আলোচনার জন্য একটি ১৫ সদস্যের দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আফগান সরকার। তবে এখনো প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম প্রকাশ করেনি কাবুল। আফগান সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে আফগানিস্তানের বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ।

তালেবান কাবুলের কর্মকর্তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়াই গত বছর থেকে খলিলজাদ এবং অন্য মার্কিন কূটনীতিকদের সাথে কমপক্ষে সাত দফা বৈঠক করেছে। তারা সর্বদা জোর দিয়েছিল যে তারা সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনা করবে না।

নবগঠিত শান্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগান জনগণের মূল্যবোধ ও কৃতিত্বগুলো বিবেচনায় নেয়ার পরে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও জাতিগত বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে যারা শান্তি আলোচনায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবে। বুধবার খলিলজাদ বলেছিলেন যে তিনি কাতারে আলোচনার স্থলে যাচ্ছেন এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তি বন্ধ করতে প্রস্তুত তিনি।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আরব নিউজকে বলেন, কয়েকটি ছোটখাটো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত। তালেবান আশা করছে যে চূড়ান্ত সাফল্যের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। তবে আমেরিকানরা চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করাকে কতটা গুরুত্ব দিবে তার ওপর এটি নির্ভর করে।’ তালেবান আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে এবং বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন দফায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে বারবার মার্কিন বাহিনীকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য সময়সূচি নির্ধারণে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন তালেবান প্রতিনিধিরা। ডন


আরো সংবাদ