২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনা বাতিল করলেন ট্রাম্প

আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের সাথে শান্তিচুক্তি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  রোববার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও শীর্ষ তালেবান নেতাদের সাথে বৈঠক করার কথা ছিল ট্রাম্পের। সে বৈঠক বাতিলের পাশাপাশি শান্তিচুক্তিও বাতিল করে দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প শনিবার রাতে একাধিক টুইট বার্তায় বলেন, রোববার ক্যাম্প ডেভিডে তালেবান নেতাদের সাথে আমার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বৈঠক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো লিখেন, তিনি তালেবানের সাথে আমেরিকার আলোচনাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

অপর এক টুইটে ট্রাম্প লিখেন, কিছু বিষয় আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে! অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শান্তি আলোচনার সময় যদি তারা (তালেবান) যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হতে পারে এবং এমনকি ১২ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে পারে, তবে তারা সম্ভবত কোনো অর্থবহ চুক্তিতে আসার যোগ্যতা রাখে না। তারা আর কত দশক যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক?

আগে এক টুইটে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও তালেবান শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক এলাকা শাশ দারকে গাড়িবোমা হামলায় এক মার্কিন সেনা ও ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন মিশনের এক রোমানিয়ার সেনাসহ ১২ জন নিহত হন। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে তালেবান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমন ঘোষণা এলো ট্রাম্পের পক্ষ থেকে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণায় প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তালেবান ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে গত সোমবার আফগান-আমেরিকান শান্তিচুক্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারী জালমে খালিলজাদ ঘোষণা করেন যে, তালেবানদের সাথে ‘নীতিগত’ একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল বলেও জানান তিনি। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবানের সাথে খালিলজাদ নয় দফা বৈঠক করে ওই সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করেছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার ফ্রান্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছিলেন, আমরা তালেবানের সাথে একটি ভালো রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এ অবস্থায় বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে যেনতেন একটি চুক্তি গ্রহণ করবে না ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, আমরা চাই না সহিংসতার কারণে আমাদের আলোচনা বানচাল হোক।

সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খালিলজাদ ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে হওয়া চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণিসহ দেশটির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে খসড়া চুক্তি মোতাবেক যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ হাজার ৪০০ সৈন্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি পাঁচটি ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিপরীতে আমেরিকার ওপর সন্ত্রাসী হামলা করতে আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করতে দেবে না তালেবান।

বর্তমানে আফগানিস্তানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়টিসহ বাকি সেনা প্রত্যাহার নির্ভর করবে আফগান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু, যুদ্ধবিরতি এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর। তবে তালেবান যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর পরিবর্তে সারা দেশে অভিযান শুরু করে। বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


আরো সংবাদ

হামলাকারী দেশকে ‘মূল রণক্ষেত্র’ করা হবে : ইরান দফায় দফায় উচ্ছেদের পরও যৌবন ফিরেনি বুড়িগঙ্গায় এক মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারাল ডিএসই ধরা পড়লে কেউ চেনে না জুয়ার শীর্ষ নিয়ন্ত্রকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে জি কে শামীমের সাথে দু’টি ছবি নিয়ে না’গঞ্জে তোলপাড় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে : ড. আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের স্মরণসভায় জি এম কাদের জাতি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ দেখতে চায় সমুদ্র নিরাপত্তা ও ব্লু-ইকোনমি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দিতে টেলিলিংক গ্রুপ চেয়ারম্যানের ঢাকা ত্যাগ

সকল