১৯ অক্টোবর ২০১৯

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাসপাতালে যেতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র, দিল শর্ত

-

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যেতে দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। চিকিৎসাধীন একজন ইরানি কূটনীতিককে দেখতে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলেন জারিফ ; কিন্তু তাকে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি।

আলজাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মজিদ তাখত রাভানচি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতেই হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; কিন্তু জারিফকে নিউ ইয়র্কের মাত্র ছয়টি ব্লকের বাইরে অন্য কোন যাওয়ার অনুমতি দেয়নি মার্কিন প্রশাসন।

হাসপাতালে ওই রোগীকে দেখতে যাওয়ার জন্য তারা দিয়েছে একটি শর্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাভেদ জারিফ ওই কূটনীতিককে দেখতে হাসপাতালে যেতে পারবেন যদি এর বিনিময়ে ইরানের হাতে বন্দী এক মার্কিন নাগরিককে ছেড়ে দিতে রাজি হয় তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ও পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরান এই ঘটনাকে অমানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি মানবিক ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ইরান অবৈধভাবে কয়েকজন ইরানি নাগরিককে বন্দী করে রেখেছে যা তাদের পরিবারের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। ওই পরিবারগুলোও স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করতে পারছে না। তাই আমরা ইরানি দূতাবাসের অনুরোধ রাখবো তারা যদি এর বিনিময়ে একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করে দেয়।

জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে তাদের জাতিসংঘ সদর দফতর ও আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না।


আরো সংবাদ