১৯ অক্টোবর ২০১৯

জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত চান ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্সের অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন তাদের পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘চীনের উচিত জো বাইডেনকে নিয়ে তদন্ত শুরু করা।’ গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের লনে সংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। বারাক ওবামার ৮ বছরের মেয়াদে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গোপন ফোনালাপে বিদেশী সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের জন্য চাপ দিয়ে পার্লামেন্টারি শুনানির মুখে পড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমপিচমেন্টের ঝুঁকির তোয়াক্কা না করেই এবার সবার সামনে চীন সরকারের প্রতি একই আহ্বান জানান।

সম্প্রতি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের ফোনালাপের তথ্য ফাঁস করেন। গত ২৫ জুলাইয়ের ওই ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ তার।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে ওঠা একটি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে ইউক্রেন সরকারকে চাপ দিয়েছেন। কথামতো কাজ না করলে ট্রাম্প এমনকি দেশটিকে দেয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকিও দেন।

বৃহস্পতিবার এটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, আমার মনে হয় যদি তারা এ বিষয় সৎ হয়ে থাকেন তবে তারা বাইডেনের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করবেন। এটি খুবই সহজ উত্তর। তাদের উচিত বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। একইভাবে চীনেরও জো বাইডেন বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত। কারণ ইউক্রেনের সাথে যা ঘটেছে তার চেয়েও বড় ঘটনা চীনের সাথে ঘটেছে।’

ট্রাম্পের অভিযোগ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাটিক নেতা জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার ইউক্রেন ও চীনের সাথে রাজনৈতিক ও ব্যবসাসংক্রান্ত চুক্তি করার সময় দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেননি।

২০১৪ সালে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ‘বুরিসমা’-তে যোগ দেন। ওই সময়ই বাবা-ছেলের সম্ভাব্য স্বার্থের সঙ্ঘাত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তার পর ইউক্রেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয় এবং রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্টকে জোর করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জো বাইডেনই সেখানে মূল ভূমিকায় ছিলেন।

২০১৬ সালে জো বাইডেন ইউক্রেন সরকারকে তাদের শীর্ষ প্রসিকিউটর ভিক্টর শোকিনকে বরখাস্ত করতে বাধ্য করেন। শোকিনের বাহিনীই ‘বুরিসমা’ গ্যাস কোম্পানির মালিকের বাণিজ্যিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছিল। ট্রাম্প ও তার মিত্রদের অভিযোগে, বাইডেন আসলে তার ছেলেকে রক্ষা করতে এ কাজ করেছেন। ইউক্রেন সরকার ও অন্যান্য পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বড় বিনিয়োগকারীরাও ওই সময় শোকিনকে সরিয়ে দিতে চাইছিলেন। কারণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর কারণে শোকিন তখন সবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শোকিনের উত্তরসূরি বলেন, জো বাইডেন বা হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, শুধু ইউক্রেন নয়, বরং বাইডেন আরো দেশের সাথে ‘প্রতারণা’ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের ‘ভারসাম্যহীন’ বাণিজ্য চুক্তির দায়ও বাইডেনের বলে মনে করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (চীন) বাইডেনের মতো লোকের সাথে চুক্তি করে এবং ছেলেকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ধরিয়ে দেয়। হয়তো ওই কারণেই চীন অনেক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিজেদের সুবিধামতো বাণিজ্য চুক্তি করতে পেরেছে। তারা আমাদের দেশের সাথে প্রতারণা করছে।’


আরো সংবাদ