২৯ জানুয়ারি ২০২০

বন্দী বিনিময় : মার্কিন ছাত্রকে মুক্তি দিয়ে বিজ্ঞানীকে ফেরাল ইরান

বামে মার্কিন ছাত্র ওয়াং, ডানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সাথে বিমানে চড়ার আগে বিজ্ঞানী সোলেমানি - ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্ততায় বন্দী বিনিময় করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ইরানি বিজ্ঞানী মাসুদ সোলেমানিকে ছেড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। আর এর বদলে, ইরান থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন মার্কিন ছাত্র শিওয়ে ওয়াং।

আলজাজিরা বলছে, কয়েক মাসের অচলাবস্থার মধ্যে এই ঘটনা দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন মোড়। শনিবার তেহরান ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজ্ঞানী মাসুদ সোলেমানির দেশে ফেরার বিষয়ে। এর কিছুক্ষণ আগেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ইরান থেকে মার্কিন ছাত্রের মুক্তির খবর।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ টুইটারে লিখেছেন, আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রফেসর মাসুদ সোলেমানি ও শিওয়ে ওয়াং অল্প সময়ের মধ্যে নিজ নিজ পরিবারের সাথে মিলিত হবেন।

তিনি আরো লিখেছন, এর সাথে জড়িত সকলের সাথে ধন্যবাদ, বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড সরকারকে। বিমানে পাশাপাশি আসনে বসা সোলেমানি ও জাভেদ জারিফের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন জারিফ।

অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ওয়াংয়ের দেশে ফেরার খবরা জানানো হয়েছে। ট্রাম্প বিবৃতিতে বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ওয়াংকে ২০১৬ সাল থেকে বন্দী করে রেখেছিল ইরান। তার মুক্তির জন্য ইরানের সাথে মধ্যস্ততার জন্য সুইস সরকারকে ধন্যবাদ।

এছাড়া ওয়াংয়ের স্ত্রী হুয়া কু জানিয়েছেন, তার স্বামী তেহরানের এভিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

নিউ জার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক শেষ করা ওয়াংকে ইরান সরকার আটক করেছিল দেশকে অস্থিতিশীল করা ও বিদেশে তথ্য পাচারের অভিযোগে। তাকে মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ইরানি বিজ্ঞানী সোলেমানিকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করেছিল বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘেনের দায়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তেহরানের সাথে উত্তেজনা বাড়তে থাকে ওয়াশিংটনের। হুমকি-পাল্টা হুমকি চলছেই বেশ কিছুদিন ধরে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেড় করে নেয়ার পরই এই উত্তেজনা শুরু হয়।


আরো সংবাদ