২৬ আগস্ট ২০১৯

কার কোলে ঠাঁই হবে শিশু মরিয়মের

-

মাত্র চার মাসের ফুটফুটে শিশু মরিয়ম। এরই মধ্যে মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যাবে কেউ ভাবতে পারেনি। কারো কোলে যাচ্ছে না। শুধু কান্না করছে। মিরসরাইয়ে গত ১০ জুন নিহত গৃহবধূ হোসনে আরা লিপির (২৫) বাবার বাড়ি হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মেহেদীনগর গ্রামের শেখ আলম সওদাগর বাড়িতে গিয়ে এমনটাই দেখা গেল।
এই প্রতিবেদক ওই বাড়িতে পৌঁছলে চারদিক থেকে লোকজন ছুটে আসে। সবাই ওই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকে। সেই সাথে শিশু বিবি মরিয়মের এখন কী হবে, কিভাবে তাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে, এমন প্রশ্ন করতে থাকে।
মরিয়মের নানী জানান, শিশুটি কারো কোলে যাচ্ছে না। শুধু কান্নাকাটি করছে। কিছু খাচ্ছেও না। কেউ কোলে নিলে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। শিশুটিকে কিভাবে রাখব বুঝতে পারছি না।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন রাতে মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির শোয়ার ঘর থেকে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ লিপির লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরদিন ১১ জুন মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় স্বামী মো: কামাল উদ্দিন, শাশুড়ি হোসনেয়ারা বেগম ও শ্বশুর নূর মোহাম্মদকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন গৃহবধূ লিপির বাবা শেখ আলম। ঘটনার পরপর আসামিদের সবাই আত্মগোপন করে আছে। লিপির বাড়ি একই ইউনিয়নের মেহেদীনগর গ্রামে। প্রবাসী কামালের সাথে লিপির দাম্পত্য জীবন শুরু হয় মাত্র চার বছর আগে।
জানা গেছে, গৃহবধূ হোসনে আরা আক্তার লিপি হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মেম্বারের (ইউপি সদস্য) সহযোগিতায় একটি প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত বাদিকে মামলা তুলে নিতে নানা প্রলোভন দেখাচ্ছে বলেও জানিয়েছে লিপির পরিবারের লোকজন।
লিপির চাচা মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যম আজমনগর ওয়ার্ডের সদস্য দ্বীন মোহাম্মদ গত দুই দিন ধরে মামলা তুলে নিতে লিপির পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ছাড়া মামলা তুলে নেয়া শর্তে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ারও প্রস্তাব করছেন তিনি।
অবশ্য এ বিষয়ে কথা বলতে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যম আজমনগর ওয়ার্ডের সদস্য দ্বীন মোহাম্মদের ব্যক্তিগত মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
লিপির আরেক চাচা মোহাম্মদ ইকবাল অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার রাতে লিপির লাশ উদ্ধারের পর ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে ওই ঘর তালাবদ্ধ করে দেয় পুলিশ। অথচ মেম্বার দ্বীন মোহাম্মদ তালা খুলে ঘরে ঢুকে ধোয়ামোছা করিয়ে খুনের সবরকম চিহ্ন নষ্ট করে ফেলে।’ এ সময় তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা লিপির নিকট আত্মীয় হয়েও ওই ঘরে ঢুকতে পারিনি। ঘটনার রাতে আমাদের পরিবারের লোকজন পৌঁছার আগেই পুুলিশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহত লিপির বাবা শেখ আলম অভিযোগ করেন, মামলার ১২ দিন পার হলেও এখনো পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার আবেদ আলী জানান, হোসনে আরা লিপি মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তার বাবা শেখ আলম। পুলিশের মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।


আরো সংবাদ